যে কারনেই হোক না কেন প্রতিদিন অনেক মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে আমার থেকে পরামর্শ চায়। আমি চেষ্টা করি নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে যা জানি, যা বুঝি সেই থেকে পরামর্শ দিতে। বুঝতেই পারছেন ৫০% মানুষ আসলে ই-কমার্স নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলে যেহেতু আমি ই-ক্যাব এর প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ৩০% ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে এবং বাকি ২০% নানা বিষয়ে পরামর্শ চায় যেমন শিক্ষা ও ক্যারিয়ার।

সবার মধ্যে ঘুরে ফিরে ২/৩ টি সমস্যা দেখি। ৯৫% শর্ট কাটের ভক্ত এবং তাই আমার উপদেশ ভাল লাগে না। যেমন ই-কমার্সে যারা আসতে চায় তাদের বলি আগে ই-ক্যাব ব্লগের প্রতিটি লেখা এক মাস মন দিয়ে পড়তে। এটিকে প্রায় সবাই সময় নষ্ট বলে মনে করে। অথচ বাংলা ভাষায় ই-কমার্স নিয়ে ৩৫০ লেখা আর কোথাও পাবেন না। একদম বিনা মূল্যে আছে।

ইংরেজি শেখার ব্যপারেও একই সমস্যা। অনেকেই আছেন যারা চাকুরি পাচ্ছেন না শুধু ইংরেজিতে দুর্বলতার কারনে। তাদের বলি এক মাস সব বাদ দিয়ে আমাদের স্কাইপ আড্ডাতে ২-৩ ঘণ্টা ইংরেজিতে কথা বলি প্র্যাকটিস করতে এবং প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা সার্চ ইংলিশ গ্রুপে এক মাস কমেন্ট লিখতে। কিন্তু একই সমস্যা। খুব কম মানুষ এই উপদেশকে সিরিয়াস ভাবে নেয়। অথচ এই উপদেশ অনুসরণ করতে এক টাকাও লাগে না এবং বেশ কিছু সাফল্যের গল্প আমরা দেখতে পেয়েছি গত দুই মাসে।

দ্বিতীয় সমস্যা হল, পরিশ্রম করা এবং লেগে থাকাকে অনেকেই খুব নেতিবাচক ভাবে দেখে। এত কষ্ট কেন করতে হবে? এত সময় কেন দিতে হবে।

যাই হোক আমি খুব সাধারণ মানুষ, অত ট্যালেন্ট আমার ছিল না বা এখনো নেই। জীবনে যাই অর্জন করেছি কষ্ট করে, শ্রম দিয়ে, সময় দিয়ে করেছি। ফলে এর বাইরে আমি পরামর্শ দিতে পারি না বা আমার বুদ্ধিতে আসলে কুলায় না।

তাই বলে আমি হতাশ নই। মহান ভাই, খায়ের ভাই, সিফাত, নাইম ভাই, পার্থ প্রতিম মজুমদার ভাই সহ এমন অনেককে দেখেছি এবং দেখি প্রতিদিন কষ্ট করতে। তারা অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন। তারাও মনে হয় আমার মত কম ট্যালেন্ট না হলে আমার সঙ্গে রাতের পর রাত জেগে কাজ করতেন না, শেখার চেষ্টা করতেন না।

আসলে আমি এ ধরনের কম ট্যালেন্ট মানুষদের মনে মনে খুঁজি যারা আমার মত পরিশ্রম করতে ভালবাসে, পড়তে ভালবাসে, শিখতে ভালোবাসে।

আমি খুব সাধারণ মানুষ