ইংরেজি শেখানো নিয়ে সাফল্য ও ব্যর্থতা

১৯৯৯ সালে চাকুরি জীবন শুরু করি শিক্ষকতা দিয়ে। কয়েকটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগের লেকচারার ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলাম। তিন বছর এই কাজ করি এবং ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি ছেড়ে দিয়ে ইন্টারনেটে বসে পরি। শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছিলাম এক ধরনের হতাশা থেকে। সব সময় বিশ্বাস করতাম যে আমি ভাল করে ইংরেজি শেখাতে পারবো কিন্তু পারছিলাম না।

আসলে ছাত্ররা শিখতে তেমন আগ্রহী ছিল না এবং আমিও তাদের মধ্যে আগ্রহী সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হই। তাই তারাও হেরে যায় এবং আমিও পরাজিত হই। এভাবে এক সময়ে হতাশা থেকে পরাজয় মেনে নিয়ে টিচিং ছেড়ে দেই।

মজার ব্যপার হল এরপর বাসায় প্রাইভেট পড়িয়ে ৫ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ছাত্রদের মধ্যে বানাতে সক্ষম হই। একদম খারাপ ছাত্র থেকে, ফেল করা ছাত্র থেকে ইংরেজিতে সেরা ছাত্র বানাতে পারি তাদের।

সব সময় মনে করেছি যে ইংরেজি শেখার সবচেয়ে ভাল উপায় হল যতটা সম্ভব স্বাভাবিকভাবে সেখার। যতটা সম্ভব আনন্দের সঙ্গে। তাই গ্রামার, ভোকাবুলারি সব কিছু বাদ দিয়ে চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি ব্যবহারের ব্যপারে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য।

স্কাইপ আড্ডাতে আমার থিওরি বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছি এবং ২৫ দিনে দারুন ফল এসেছি। আড্ডা দিচ্ছি ইংরেজিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ২৫ দিনে একের পর এক সফলতার গল্প দেখতে পাচ্ছি।

যেভাবে ইংরেজি শেখাচ্ছি তা দেশের কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভব নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় দিনে ১২ ঘণ্টা ইংরেজি শেখার সুযোগ দেবে না। এটি পাগলামি এবং আমি খুশী যে ৮-১০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি যারা আমার মতই পাগল।

আশা করি এমন সময় আসবে যখন প্রতিদিন একজন করে সফল শিক্ষার্থীকে দেখব। যারা আমার সঙ্গে লেগে থাকবেন তাদের জন্য আমি জান প্রান দিয়ে চেষ্টা করবো। কয়েকজন আমাকে প্রচণ্ড পছন্দ করেন, মানেন, ভক্তি করেন। তাদের নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। তারা পত্রিকায় লেখবে, অনলাইনে লিখবে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বক্তৃতা দেবে, ভাল ক্যারিয়ার হবে এই স্বপ্ন আমি দেখি।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *