দুদিন আগে ঠিক করেছিলাম যে নিজের ওয়ালে আর ই-কমার্স নিয়ে পোস্ট দেব না। ই-কমার্স নিয়ে পোস্ট থাকলে তা দেব ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেস (ই-ক্যাব)-এর গ্রুপে। কিন্তু ই-ক্যাবের সঙ্গে এখন আমার জীবন এতটাই জড়িয়ে গেছে যে রাতে স্বপ্নও দেখি ই-কমার্স নিয়ে। তাই এর বাইরে কিছু লেখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
আজকে আমার ইংরেজি বিভাগের ছোট ভাই অনল (অনির্বাণ সরকার) ১৯৯৬ বা ৯৭ সালের একটা ছবি দিয়েছে তার ফেইসবুক ওয়ালে। ছবিটা আমি এখানে দিচ্ছি আবার। ছবিটা দেখে নিজেই নিজেকে চিনতে কষ্ট হয়, অন্যদের কি আর দোষ দেব। জীবনে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে দারিদ্র্যের সঙ্গে। এজন্য আমি লজ্জিত নই বরং গর্বিত। কষ্ট করে, পরিশ্রম করে সততার সঙ্গে এগুতে চেষ্টা করেছি, এ নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। ১৯ বছর বয়স থেকেই টাকা আয় করেছি এবং আয়ের একটা বড় অংশই পরিবারে তুলে দিয়েছি হাসি মুখেই। তাই ২ শার্ট, ২ টা প্যান্ট, এক জোড়া শু আর এক জোড়া স্যান্ডেল থাকলেও খুশী ছিলাম। অনেকেই আমার পোশাক নিয়ে ঠাট্টা করতো কিন্তু আমি গায়ে মাখতাম না, এখনও মাখিনা।
অবশ্য আজ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় কাজ ও টাকা আয়ের সুযোগ এখন থেকে অনেক সীমিত ছিল। বাংলাদেশের জনগনের মাথাপিছু আয় অনেক কম ছিল, কাজের সুযোগ সীমিত ছিল। ইন্টারনেট বলে কিছু ছিল বলে মনে হয়না তখন। যা ছিল তা হল এক ঘণ্টা ইন্টারনেট মানে ১০০-১৫০ টাকা। সেই ১৯৯৭ সাল থেকেই স্বপ্ন ছিল একদিন ইন্টারনেট কাজ করবো। অবশ্য তখন শুধুই স্বপ্ন আর কিছু নয়।
ই-কমার্স নিয়ে এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে পরিচিত মুখ গুলোর একটি আমি নিজে। নতুন কিছু এলেই বাংলাদেশে এক ধরনের হাইপ বা হুজুগ তোলা হয় এবং এটি সবচেয়ে সফল মার্কেটিং কৌশল বলে সবাই মনে করে। এর ফলে কেউ কেউ হয়তো লাভের মুখ দেখে কিন্তু ক্ষতি গ্রস্থ হয় বেশীরভাগ মানুষ এবং বয়সে তারা তরুণ। শেয়ার মার্কেট, এমএলএম, অনলাইনে ক্লিক করে আয়, আইটি ট্রেনিং, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন, ফরেক্স, কল সেন্টার প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাজার হাজার তরুণ অনেক আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল এবং তারপর স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে হতাশ হয়।
অথচ শেয়ার মার্কেট, সফটওয়্যার কোম্পানি, ফরেক্স, কল সেন্টার, ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এগুলো নিয়ে চাকুরী ও ব্যবসা করে সারা বিশ্বে এমনকি পাশের দেশ ভারতে লক্ষ লক্ষ লোক ব্যবসা ও চাকুরী করে ভালমতোই জীবনধারণ করছে। কিন্ত আমাদের দেশে হচ্ছে না কেন? এর দুটো কারণ রয়েছে বলেই আমার মনে হয়। আমরা হুজুগে মাতি খুব সহজেই কোন কিছু চিন্তা না করে। আর দ্বিতীয়ত কোন দিকে ঝাপ দেবার আগে চিন্তা করিনা যে এর জন্য আমি উপযুক্ত কিনা? উপযুক্ত না হলে কষ্ট করে শিখতে হবে, জানতে হবে এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তাই ই-কমার্স নিয়ে এ ধরনের হুজুগের আমি ঘোরতর বিপক্ষে। বরং মানুষকে তথ্য দিতে হবে এবং এজন্য ব্লগ ও গ্রুপে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা অনেকে মিলেই। আর যারা এদিকে কাজ করছেন বা এদিকে আসতে আগ্রহী তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ শুরু হয়ে যাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই। এর পর দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ, গবেষণা ইত্যাদির জন্য কাজ করতে হবে। এরপরও যদি কেউ ই-কমার্স এর জন্য হুজুগের আগুনে ঝাপ দিতে যায় তবে দোষ তাদেরই। ই-কমার্স এর ভবিষ্যৎ অন্তত উজ্জল, চীনের আলিবাবার মালিক জ্যাক মা এখন এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন তিনি। অনেক কষ্ট করে একটু একটু করে অগ্রসর হয়েছেন। কিন্তু হুজুগে যারা আসে তারা ৩ মাসে বড় লোক হবার স্বপ্ন দেখে।
December 2014

ই-কমার্স নিয়ে হুজুগের আমি ঘোরতর বিপক্ষে