ই-ক্যাব নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

Sajjat Hossain ই-ক্যাব নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন রেখেছেন তার ফেইসবুকের একাউন্টের একটি স্ট্যাটাসে। আমি বেশ লম্বা একটা উত্তর লিখেছি কিন্তু পোস্ট করতে পারছি না- মানে ফেইসবুক করতে দিচ্ছে না। যাই হোক এখানে চেষ্টা করছি। প্রথমে Sajjat Hossain এর স্ট্যাটাসের লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/sajjat.hossain.sujon/posts/10203710280131214

আমার উত্তরঃ

১। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ একেবারে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য। গতকাল ই-ক্যাবের পক্ষ ই-কমার্স নিয়ে বাংলাদেশে যারা বিভিন্ন ভাবে কাজ করছেন তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে একটি মিটিং করা হয়। এরকম মিটিং আরও বেশ কয়েকটি করা হবে এবং সময় পেলে যদি আসেন বেশ খুশী হবো।

আপনার করা ৩ টি প্রশ্নের মধ্যে প্রথম দুটি নিয়ে আমাদের ২ ঘণ্টার মিটিং’য়ে বেশ লম্বা সময় নিয়ে আলোচনা চলে।

২। প্রতারণার ব্যপারে সবাই উদ্বিগ্ন কারণ ই-কমার্স একটি সার্ভিস সেক্টর এবং সার্ভিস সেক্টরের টিকে থাকা ও বিকাশ ঘটা অনেকাংশে নির্ভর করে সুনামের উপর। তাই মাত্র ১০% ই-কমার্স কোম্পানি যদি প্রতারনা করে তবে তা বাকি ৯০% সৎ ব্যবসায়ীদের ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাবে তা উপলব্ধি করার মত কমন সেন্স মনে হয় আমাদের সবারই আছে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে যখন কোন কিছুর হুজুগ আসে তখন সবাই সে দিকে ঝাপিয়ে পড়ে। ফলে প্রতারকরা সহজেই তাদের শিকার খুজে পায়। “ক্লিক করে ডলার কামান” এমন ধরনের প্রতারণা আমরা নিকট অতীতেই দেখেছি। ফলে মাত্র কয়েকটি কোম্পানির অসততার জন্য কয়েক লক্ষ তরুন প্রতারিত হয়েছে এবং অনেকেই ইন্টারনেটে আয় করা এবং আউটসোর্সিং এর উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই আমরা এখন যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এ বিষয়টি নিয়ে কারণ এখন অসংখ্য শপিং ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পেইজ গড়ে উঠছে প্রায় প্রতিদিনই। ইতিমধ্যেই অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মানের পন্য পান নি, টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পন্য পাচ্ছেন না, নকল পন্য, ওয়েবসাইটের ছবিতে এক ধরনের পন্য আবার বাসায় রিসিভ করার সময় অন্য ধরনের পন্য ইত্যাদি অভিযোগ ক্রেতাদের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে।

৩। একই সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতা ও সম্ভাব্য ক্রেতারা এমন অভিযোগও করেছেন যে তারা কোন ই-কমার্স কোম্পানিতে ফোন করে কোম্পানির কর্মীদের থেকে খুব ভাল আচরণ পাননি, কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের সঙ্গে অভদ্র আচরণ করেছে, ফেইসবুকে কমেন্ট করে, ইমেইল পাঠিয়ে বা ফোন করে কোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোম্পানির থেকে উত্তর পাননি- এসব অভিযোগের কথাও আমাদের মিটিং এর মধ্যে উঠে এসেছে গতকাল।

৪। তাই আমাদের মনে হয়েছে যে এসব ইস্যুকে এড্রেস করার বা মোকাবেলা করার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা যদি তা করতে ব্যর্থ হই তবে ই-কমার্স সেক্টর ঠিক মত দাঁড়ানোর আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এজন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামি দিনগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি মিটিং হবে এবং সেখানে আরও আলোচনা হবে এ বিষয়টি নিয়ে। এ বিষয়ে একটা কার্যকরী ও ফলপ্রসূ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কি কি করা যেতে পারে সেজন্য আমরা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করছি। আপনার যদি এ ব্যপারে (কি করে প্রতারনা বন্ধ করা যায়) কোন পরামর্শ থাকে তাও আমাদের জানাতে পারেন আপনার পোস্টে কমেন্টের মাধ্যমে অথবা আমাদের ইমেইল করে বা আমাদের আগামি কোন মিটিং-এ উপস্থিত হয়ে।

৫। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন নিয়েও (তিনটা ই-কমার্স সাইটে একি পণ্যের তিন রকমের দাম) অনেকক্ষণ ধরে আলোচনা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতি কারো কাম্য নয়। তবে এ ধরণের ঘটনা বাংলাদেশে অহরহ ঘটে থাকে এ বাস্তবতা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। আমাদের সভায় এ নিয়ে দু ধরণের মতামত এসেছে। কয়েকজন বলেছেন যে মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে দাম নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। আবার অন্য একদল বলেছেন যে ৫% বা ১০% দামের হেরফের মানা যায় কিন্তু একই পন্যের ৫০% বা ৬০% হেরফের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ্যাসোসিয়েশনের করণীয় কি হবে আর বক্তব্য কি হবে তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আশা করি আগামি কিছু দিনের মধ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারবো এবং আপনাকে জানাতে পারবো। তবে আবারো অনুরোধ জানাবো আপনার যদি কোন পরামর্শ থাকে তা আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সবার থেকে মতামত নিয়ে তারপর এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে চাই।

৬। যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা ও পন্য বিক্রি করছেন তাদের প্রায় ৯৯% প্রতিষ্ঠানেরই কমন কিছু সমস্যা রয়েছে- পেমেন্ট, কুরিয়ার সার্ভিস, ভ্যাট ইত্যাদি। তাছাড়া বেশীরভাগ মানুষ এখনো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে অভ্যস্ত নয় বলে বাজার এখনো বেশ সীমিত। ফলে মাস শেষে লাভ করা অনেক কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারণা চালানো ও সচেতনতা তৈরি করা দরকার। বাস্তবতা হল এ সমস্যাগুলো নিয়ে আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে এবং সমাধান করতে হবে। এজন্যই সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলার দরকার এবং খুব সোজা সাপটা প্রশ্ন তোলার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

৭। আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য কার্যক্রম ই-ক্যাবের ওয়েবসাইটে (এখনো ১০০% প্রস্তুত হয়নি, তারপরও অনেক কিছুই আছে) দেয়া আছে। http://www.e-cab.net/

তবে এক কথায় বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টর এর স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতির জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব কিছুই করতে চাই এ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিয়ে। সে লক্ষ্য প্রথম কাজই হল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুজে বের করা। আর ই-কমার্স এর বাজার প্রসারের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারণা ও মানুষকে ই-কমার্স এর সুফল নিয়ে সচেতন করে তোলা। বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত নিয়ে গবেষণা, প্রচারণা, বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং, পন্যের মান নিশ্চিতকরণ, প্রতারণা প্রতিরোধ, ওয়েবসাইটের ও ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ই-কমার্স সম্পর্কে আইন ও নীতিমালা প্রনয়নে সরকারকে অনুরোধ জানানো ও এসব কাজে সহযোগিতা করা এসব কাজই বোধহয় আমাদের বেশী করা হবে।

ই-ক্যাব এর উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয় বরং ই-কমার্স নিয়ে যারা ব্যবসা করেছেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। এ জন্য আমরা সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই প্রতিদিন।

বর্তমান দশক হচ্ছে ই-কমার্সে এশিয়ার দশক। চীন এখন ই-কমার্স এর সবচেয়ে বড় বাজার। সেখানে ই-কমার্স খাতের সঙ্গে সরাসরি ২২ লক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ১ কোটি ৬০ লোকের চাকুরি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতে আগামি ৩ বছরে ই-কমার্স খাতে দেড় লক্ষ নতুন চাকুরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, এমনকি শ্রীলংকাতে আমাজন বিনিয়োগ করছে, ভিয়েতনাম ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে অনলাইন শপিং দিবস পালন করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এ খাতের অবস্থায় হতাশাজনক বললে অত্যুক্তি হবে বলে মনে হয়না। তাই ই-কমার্সের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমাদের আর দেরি করলে চলবে না। এজন্যই এ সেক্টরের অনেকেই আমাদের এ্যাসোসিয়েশন এর সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

আমাদের মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন এমন একজন বেশ বড় আকারে পোস্ট দিয়েছেন এখানেঃ https://www.facebook.com/arshadhin/posts/10204955759643560

(২৩ অক্টোবর ২০১৪)

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *