ই-ক্যাব ব্লগ নিয়ে কিছু কথা

ই-ক্যাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয় ৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে। প্রথম থেকেই চিন্তা ছিল ইচ্ছা ছিল বা স্বপ্ন ছিল এদিকে তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার। এজন্য ই-ক্যাব ব্লগের দিকে গুরুত্ব দিয়েছি অনেক ভেজাল আসার পরও। ই-ক্যাব ব্লগ না থাকলে আমার নিজের কোন ক্ষতি ছিল না। এ নিয়ে যে ধরনের নোংরামির শিকার হয়েছি তাতে মনে হয় এই ব্লগ না থাকলে গত ১৭ মাসে অনেক কম ভেজাল সহ্য করতে হত আমাকে।

কিন্তু এখন বুঝতে পারছি যে এদিকে আরও বেশি কাজ করার দরকার ছিল। ই-কমার্স নিয়ে বই, ই-কমার্স নিয়ে গবেষণা, ট্রেনিং ও কোর্সের সিলেবাস, সার্ভে বা জরীপ এগুলোর কিছুই হয়নি বাংলাদেশে। এমনকি বিদেশি এমব্যাসি গুলোতে যখন যাই তখন বাংলাদেশের ই-কমার্স এর উপর কোন ভাল রিপোর্ট বা ডকুমেন্ট পর্যন্ত দিতে পারি না।

২০১৭ সালে বড় বড় কিছু বিদেশি ই-কমার্স কোম্পানি বাংলাদেশে আসার কথা এবং এখন এদেশের অনেক কোম্পানি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের উদ্বেগের যুক্তিসংগত কারণ আছে তা আমি মানি। কারণ বিদেশি কোম্পানি গুলোর জন্য মূলধন কোন সমস্যা না। কিন্তু আমাদের আইটি সেক্টরে মান সম্মত গবেষণা, সার্ভে, ট্রেনিং এসব বিষয়ে কিন্তু বিদেশি কোম্পানি গুলো ইতিমধ্যেই ঢুকে গেছে ভালমতো। এ নিয়ে কাউকে উদ্বিগ্ন হতে দেখি না।

আমি নিজে মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক এবং এদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষপাতি। তাই এ নিয়ে খুব বেশি বিরোধিতা করতে চাই না। তবে দেশি কোম্পানি গুলোর স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যপারে ভারত, চীন, মাল্যেশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি। কিন্তু গবেষণা, রিপোর্ট, সার্ভে, ট্রেনিং এসব বিষয়ে আমাদের নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং যত দ্রুত করতে হবে। অন্তত ই-কমার্সে এটি করতে হবে। আশা করি আমরা তা পারবো। না পারলেও আমরা কয়েকজন মিলে চেষ্টা করে যাবো। ই-কমার্স একটি জ্ঞান ভিত্তিক শিল্প এবং ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও বানিজ্য ধীরে ধীরে সব দিকেই জ্ঞান ভিত্তিক হবে।

আশার কথা একটাই ধীরে ধীরে আমার সঙ্গে এ ধরনের কাজে যোগ দেবার লোকের সংখ্যা একটু একটু করে বাড়ছে।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *