ঈদ হল আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য

৩ দিন পর কোরবানি ঈদ। আর আজ দুর্গা পূজার শেষ দিন। গত ৫ বছর ধরে ঈদে কোন আনন্দ করতে পারিনি। হয় অসুস্থ ছিলাম, না হয় টাকা ছিল না, না হয় ঈদের সময় কোন কাজের প্রজেক্ট ছিল এবং ঈদের সময় সারা দিন সারা রাত কাজ করেছি, না হয় মানসিক অশান্তি এবং ভেজালে ছিলাম। ৫ বছর পর ঈদের সময়টা শান্তিতে ও আরামে কাটাচ্ছি।
আমি বড়লোক নই এমনকি সচ্ছল মধ্যবিত্তও নই। টেনেটুনে মধ্যবিত্ত। এই বয়সে এসে বুঝতে পারি যে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল ঈদের সময়টা। স্কুল কলেজ বন্ধ, ৩-৪ দিন পেট ভরে পোলাও মাংস খাওয়া। টিভিতে ২-৩ দিন ধরে অনুষ্ঠান দেখা। এও বুঝতে পারি যে যারা ধনী তাদের জীবনের প্রায় প্রতি দিনই বা সপ্তাহে ১-২ দিন ঈদের মত (ছুটি বা দিয়ে)। আমরা ঈদে যা খাই তার থেকে অনেক ভাল খেতে পারে প্রায় প্রতিদিন, ঘুরতে যেতে পারে, মজা করতে পারে যখন খুশী তখন, ডিভিডি প্লেয়ারে যে কোন সিনেমা দেখতে পারে। অর্থাৎ যারা ধনী তাদের কাছে ঈদ মনে হয় খুব বেশি বাড়তি কিছু বয়ে আনেনা ছুটি ছাড়া।
ঈদ হল আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য। আমরা আনন্দ করি, আনন্দ পাই, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, দেশের বাড়ি যাই না হয় ফাঁকা ঢাকায় রিকশায় করে ঘুরে বেড়াই, বাংলাদেশী চ্যানেলগুলোর সারা বছর অনেক সমালোচনা করে ঈদের সময় নতুন নাটক দেখি কিংবা ইত্যাদি।
আসলেই ঈদের সময়টা আমার মত সাধারণ মানুষদের জন্য। সারা বছর কাজ কর্ম করে একটু বিশ্রাম, আরাম ও আনন্দ করার সুযোগ নিয়ে আসে ঈদের এই ছুটি, এই উৎসব। তবে খুশী হতাম যদি ঈদের এই আনন্দ মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছাড়িয়ে সবার ছড়িয়ে যেত।
যারা খেটে খাওয়া মানুষ- গরীব মানুষ তারা যদি এই ঈদে পেট ভরে পোলাও মাংস খেটে পারত একটা দিন, একটু ঘুরতে পারতো, কাজে না গিয়ে আনন্দ করতে পার তাহলে সত্যিই খুব দারুন হত। একজন রিকশাচালক, পাড়ার মুদি দোকানের কর্মচারী, কাজের বুয়া এবং গার্মেন্টস এর শ্রমিক আমাদের থেকে বেশীই কাজ করে। তাদের চাহিদাও মনে হয় আমাদের থেকে অনেক কম। যাই হোক সে গল্প আরেক পোস্টে হোক।
সবাইকে দুর্গা পূজার এবং কোরবানি ঈদের শুভেচ্ছা।

October 2014

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *