এই ধরনের বিশ্বাস নিয়ে যদি আপনি প্রতিদিন লেগে থাকতে পারেন তাহলে সাফল্য আসতে বাধ্য

ই-ক্যাব এর ফেইসবুক গ্রুপে ২৩ মাস ধরে প্রতিদিন পোস্ট দিয়ে গেছি এখনও দেই। ব্লগ নিয়ে চেষ্টা করেছি। ধানমন্ডি লেকে অনেক আড্ডা দিয়েছি এবং ঢাকা বিভিন্ন প্রান্তে আড্ডা দিয়েছি অনেকের সঙ্গে। একদম একটানা এক বছর স্কাইপে প্রায় সারা রাত আড্ডা দিয়েছি ই-কমার্স নিয়ে। অথচ এসব প্রতিটি কাজের জন্য অনেক আক্রমণের শিকার হয়েছি। মূল যুক্তি ছিল এগুলোর পেছনে ধান্দা আছে, এগুলো কেন কোন অ্যাসোসিয়েশান করবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
অথচ এসবের কারণে আজ ই-ক্যাব অনেক বড় হয়েছে, অনেক শক্তিশালি হয়েছে এবং অনেক সুনামের অধিকারী। বিনামূল্যে জ্ঞান ও তথ্য ছড়িয়ে দেবার এই প্রচেষ্টার ফলে ই-কমার্স নিয়ে হুজুগ উঠেনি। বিনামূল্যে জানার ব্যবস্থা ছিল এবং এখনও আছে। আড্ডা গুলোর মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে অনেকের পরিচিতি হয়েছে, ব্যবসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেহেতু সবাই সবাইকে চেনে তাই প্রতারণার হার ই-ক্যাবের অভ্যান্তরে অনেক কম বা মনে হয় প্রায় শুন্যের কোঠায়। বাংলাদেশে এমনটা খুব একটা দেখা যায় না।
অথচ বারবার আমার বিরুদ্ধে ফালতু কথা বলা হয়েছে, নোংরা আক্রমন করা হয়েছে। অনেক সময় ই-ক্যাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে টিকে থাকাই ছিল চ্যালেঞ্জ। দাঁতে দাঁতে চেপে টিকে থাকার চেষ্টা করেছি কারণ অনেক তরুন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল এবং এখনও আছে।
খারাপ সময় শেষ এবং এখন আমার প্রতি এবং ই-ক্যাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অনেক বেড়েছে। সব জায়গাতে ই-ক্যাবের সুনাম শুনি প্রতিদিন।
এই কষ্ট, ভেজাল আর সংগ্রাম থেকে খুব মুল্যবান কিছু জিনিস শিখেছি। ভাল কাজের ফল রাতারাতি আসে না। ই-ক্যাবের গ্রুপটাকে দাড় করাতে অনেক সময় ও কষ্ট গেছে কিন্তু এখন বাংলাদেশের ই-কমার্সের প্রাণকেন্দ্র ই-ক্যাব এর এই গ্রুপ। ব্লগের লেখা পড়ে প্রতিদিন কেউ না কেউ আমাকে ধন্যবাদ দেন। আর ই-ক্যাবের যে কোন আড্ডাতে অন্তত ৫০ জন চলে আসেন নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে ভাড়া দিয়ে এবং খাবারের বিলের চাঁদা দিয়ে। হ্যা, এ ধরনের ফল আসতে সময় লেগেছে কিন্তু এসেছে এবং যখন এসেছে তখন খুব ভালভাবেই এসেছে।
আরও শিখেছি যে আসলেই লেগে থাকতে হবে, এমনকি যখন ২-৩ জন ছাড়া আপনাকে বিশ্বাস করছে না কেউ, তখনও নিজের বিশ্বাসের জন্য লেগে থাকতে হবে, চেষ্টা করে যেতে হবে।
এই ধরনের উপলব্ধি মনে এক ধরনের সাহস যোগায় এবং শান্তি আনে। সত্যি বলতে কি এই ধরনের বিশ্বাস নিয়ে যদি আপনি প্রতিদিন লেগে থাকতে পারেন তাহলে সাফল্য আসতে বাধ্য।
আমি গত ২৩ মাস নিজের সাফল্যের জন্য চেষ্টা করিনি। জান প্রান দিয়ে চেষ্টা করেছি ই-ক্যাবকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং নিজের সাধ্যের থেকেও বেশি কষ্ট করেছি। মজার ব্যপার হল এই কষ্ট, সাধনা আমার ব্যক্তি জীবনে এতটাই সাফল্য নিয়ে এসেছে, এতটা পরিচিতি এনে দিয়েছি যে স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারিনি। শত বাঁধার মুখেও একটি অ্যাসোসিয়েশানকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখলাম। অনেক আক্রমণের পরেও কয়েক শত লোকের কাছে পরিচিত মুখ, শ্রদ্ধার পাত্র হতে পেরেছি।
অনেক তরুন আমার পোস্ট গুলো নিয়মিত পড়েন এবং এই পোস্ট তাদের জন্যই। ই-ক্যাবকে প্রতিষ্ঠা করা আমার জীবনের বড় স্বপ্ন ছিল এবং এই স্বপ্নের জন্য কষ্ট করেছি, সব ধরনের স্যাক্রিফাইস করেছি আর অনেক কঠিন সময়ের মধ্যেও লেগে ছিলাম। তাই বলবো যে অল্পতে হতাশ হবেন না। ভাল কিছু করতে হলে বড় কিছু করতে হলে অনেক কষ্ট আসবে, বাধা আসবে, ব্যর্থতা আসবে। হয়তো এক দুইজন ছাড়া কেউ আপনার পাশে থাকবে না। হয়তো আপনার সব কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হবে। হতাশ হবেন না। চেষ্টা করে যান।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *