গত একমাসে আমাকে ৩১ দিনের মধ্যে ৩১ দিনই বলতে গেলে অবিরাম কাজ করতে হয়েছে। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত, মধ্যরাত কিংবা ভোর- বিশ্রাম বলে কোন কিছু ছিলনা। কিভাবে একটা মাস চলে গেছে আমি টেরও পাইনি। এজন্য মনে কোন দুঃখ নেই কারণ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) অনেক এগিয়েছে মাত্র ১ মাসের মধ্যে। ই-ক্যাবের জন্য অনেক ধরনের কাজ আমার করতে হয়েছে। কেউ আমাকে বাধ্য করেছে এমনটি নয়।
অ্যাসোসিয়েশান এর সভাপতির পোস্ট ভলেন্টারি ধাচের এবং আসলেই এতে সেভাবে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কষ্ট করেছি গত ৩ মাসে। এর অবশ্যই একটা বড় কারণ হল ই-ক্যাব যাতে দাড়ায় তা নিশ্চিত করা। ই-ক্যাব যত বড় হবে, এর সভাপতি হিসেবে আমার তত সন্মান বাড়বে একথা ব্যখা করার কিছু নেই। তবে এজন্য জান প্রান দিয়ে কষ্ট করার দরকার নেই। তবুও হৃদয় দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি কারণ আমার স্বপ্ন ই-ক্যাবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যবসার যাতে অগ্রগতি হয়। ই-কমার্স বাংলাদেশে নানা সংকটে জর্জরিত। কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী এ দিকে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। তাদের অনেকেই ই-ক্যাবে এবং আমাদের এই ফেইসবুকে গ্রুপে আছেন।
একথা সত্য যে ই-ক্যাব যাতে আরও বড় হয়, সামনে এগিয়ে যায় সেজন্য আমি এত কষ্ট করছি। কিন্তু তার থেকেও বড় সত্য হল, আমি আসলে চেষ্টা করছি সেই তরুণদের জন্য যারা ই-কমার্স খাতে কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন। তাদের তথ্য দিতে, জ্ঞান দিতে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে, নিজেদের মধ্যে চেনা জানা পরিচয় ও বন্ধুত্ব বাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে আমি চেষ্টা করে গেছি। এক মাসে আশাতীত সাড়া পেয়েছি। সত্যি বলতে কি ই-ক্যাবের সাংগঠনিক কাজের থেকে অনেক বেশি সময় দিয়েছি এই কমিউনিটি তৈরি করার জন্য।
নিজের ঢাক নিজে পেটাচ্ছি না। বরং আমি সত্যিই কষ্ট করেছি, সময় দিয়েছি। নিজে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ টা করে পোস্ট দিয়েছি, আপনাদের প্রতিটি পোস্ট পড়েছি, কমেন্ট করেছি, কমেন্ট পেলে উত্তর দিয়েছি, যারাই যোগাযোগ করেছেন তাদের সঙ্গে স্কাইপে, ফোনে ও ফেইসবুকে কথা বলেছি, বাস্তব জীবনে দেখা করেছি। অনেক সময় সারা রাত স্কাইপে কথা বলে, গ্রুপে পোস্ট দিয়ে কমেন্ট করে আবার সকাল ৯ টার সময় বেরিয়ে পড়েছি কোন মিটিং-এ এটেন্ড করতে।
আমার কষ্ট বৃথা যায়নি। এই গ্রুপ এখন দাড়িয়ে গেছে, ই-ক্যাব অত্যন্ত শক্ত ভিতের উপর দাড়িয়ে এখন। ই-ক্যাবের সদস্য বেড়েছে, সুনাম বেড়েছে, সাংগঠনিক শক্তি বেড়েছে। অনেকের সঙ্গে অনেকের ঘনিষ্ঠতা হয়েছে, সামনে আরও হবে।
একটু আগেই বলেছি আমার এই কষ্ট আর ব্যক্তিগত আত্বত্যাগ বা সেক্রিফাইস যতটা ই-ক্যাব ও ই-ক্যাব এর সভাপতি পদের জন্য তার থেকে অনেক বেশি আপনাদের জন্য। আমি আপনাদের জন্য যে কষ্ট করেছি তা যেন আপনাদের অনুপ্রাণিত করে। আপনাদের জন্য যে কষ্ট করছি ঠিক আমার মত করেই নিজেদের ব্যবসার জন্য কষ্ট করেন। আমার মত করে ই-ক্যাবের মেম্বারদের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করেন, একে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। টাকা নিয়ে লেনদেন করার ঝুকি আপাতত নাই বা নিলেন, কিন্তু একে অন্যের ফেইসবুক পেইজে লাইক, শেয়ার এসব করতে কি খুব কষ্ট হবে? আমাদের ১০০ কোম্পানি অন্তত ২০-৩০ রকমের পন্য বিক্রি করতেন। সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে তেমন কিছু নেই।
একে অন্যের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন, কমেন্ট করুন, শেয়ার করুন। একে অন্যের ওয়েবসাইট থেকে মাসে ১০০ টাকার হলেও অর্ডার দিন, কেনাকাটা করুন। প্রতি সপ্তাহে চলেন একবার সশরীরে আড্ডা দেই আমরা। কোন মেলা হলে চলেন ১০ টি কোম্পানি মিলে এক সঙ্গে অংশ নেই, ওয়ার্কশপ হলে ২০ জন মিলে চলে যাই। চলেন এক সঙ্গে মাথা খাটাই কি করে ব্যবসা আরও বাড়ানো যায়, চলেন একসঙ্গে সার্ভে বা জরিপ করি ই-কমার্স নিয়ে, একসঙ্গে বই লিখি। এক সঙ্গে ১০ জন মিলে এক জনকে টেনে উপরে তুলি।
আমার মনে এখনও অনেক উৎসাহ উদ্যম কিন্তু শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন। আমার বিশ্রাম দরকার- অল্প হলেও। কিন্তু বিশ্রাম নিতে ভয় পাই- যদি এ গ্রুপ নিরব হয়ে যায় কিংবা ই-ক্যাবের কার্যক্রম এর গতি শ্লথ হয়ে যায়, বা কেউ ই-কমার্স নিয়ে সাহায্য চেয়ে তারপর না পায়। কিন্তু এও বুঝি এমন অবিরামভাবে কাজ করতে থাকলে খুব শিগ্রি বিছানায় পড়ে যাবো। তাই আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন। আমি একটু বিশ্রাম নিলেও আপনারা একটিভ থাকেন, অন্যদের নিজে থেকে তথ্য জানান, প্রতিটি পোস্ট পড়েন এবং দেখেন কার কি প্রশ্ন, পারলে উত্তর দিন না পারলে এমন কাউকে ট্যাগ করুন যিনি উত্তর দিতে পারেন। ব্লগে লিখুন একটু বেশি করে এবং সে লেখা নিজেরাই প্রমোট করুন।
আমি পুরো বিশ্রাম বা ছুটি চাইছি না। ২০% কষ্ট কম করলেও যথেষ্ট আমার জন্য। কাজ করতে আমি খুবই ভালোবাসি। আর আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হোক এই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন জীবনে। একটু বিশ্রাম নিতে পারলে আরও অনেক বেশি কাজ করতে পারবো সেই আপনাদের জন্যই।
February 2015

কাজ করতে আমি খুবই ভালোবাসি