গতবছর এই সময়ে ফেইসবুকে প্রায় প্রতিদিন ই-ক্যাব আর আমাকে নিয়ে আক্রমন করে পোস্ট দেয়া হত। তখন ই-ক্যাবের সরকারি রেজিস্ট্রেশন ছিল না বলে আক্রমণ করা খুব সহজ ছিল। ই-ক্যাবের মধ্যেই কিছু লোক আবার ঐসব পোস্টের উদাহরণ দিয়ে বলার চেষ্টা করতো যে ই-ক্যাবকে কেউ পছন্দ করে না, আমাকে কেউ ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় না। নানা ভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। কখনো ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কখনো আমার ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

অথচ মজার ব্যপার হল তখনো এবং এখনো ই-ক্যাবের নতুন সদস্যদের একটা বড় অংশ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, দেখা করে মেম্বার হতে চায়। আর পুরনো সদস্যদের একটা বড় অংশের সঙ্গেই প্রতিমাসে ১ বার হলেও মনে হয় যোগাযোগ হয় আমার এখনো। আর ই-ক্যাবের অফিস ভাড়া, কর্মচারিদের বেতন, নিউজলেটারের বিজ্ঞাপন, প্রতিদিনের খরচ- এসবের জন্য যে অর্থের দরকার হয় তার জন্য প্রতি মাসে অনেক টেনশন করেছি আমি এবং এখনো এর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিদিন। এর ফলে নিজের জীবনের দিকে খুব একটা তাকাতে পারিনি বা এখনো খুব একটা পারছি না। এত টেনশনের মধ্যে অনেক আক্রমনের শিকার হয়েছি।

ই-ক্যাবের কারণে অনেক মানুষের থেকে সন্মান ও শ্রদ্ধা পেয়েছি। অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে অনলাইনে। ২০১৫ সালের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয় আমার নিজের জীবনে খুব ভাল অভিজ্ঞতা হয়েছে ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে যাবার চেষ্টা করার। চেষ্টা করেছি সৎ থাকার, যতটা সম্ভব ই-ক্যাবের জন্য আত্মত্যাগ করার। এর ফলে এখন অনেক ঠাণ্ডা মাথায় আমি এগুতে পারছি জীবনে।

আর এই ধরনের বাঁধা ভেজাল পার হতে পেরেছি বলে আল্লাহ্‌র কাছে আমি কৃতজ্ঞ। একদিকে আমি ধৈর্য ধরতে শিখেছি, কষ্ট করতে অভ্যাস্ত হয়েছি। আর অন্যদিকে খারাপ সময়ে কারা পাশে থাকে এমন মানুষদের চিনতে শিখেছি। জীবনে এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে?

খারাপ সময়ে কারা পাশে থাকে এমন মানুষদের চিনতে শেখা