ঘড়ির কাটা অনুযায়ী নভেম্বর মাস শেষ হয়ে গেছে এবং ডিসেম্বরের প্রথমদিন। এই এক মাসের জেগে থাকা প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতে আমি ই-কমার্স অ্যাসসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার সঙ্গে আরও অনেকে সময় দিয়েছেন। এবং আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে চেষ্টা করাতে একটু একটু করে অনেকটা এগুতে পেরেছি। এ মাসের একটা উল্লেখযোগ্য সময় ফেইসবুকে এবং বাস্তব জীবনে ই-ক্যাব নিয়ে বিভিন্ন ধরণের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং তার উত্তর সভাপতি হিসাবে আমাকেই দিতে হয়েছে। তা নিয়ে অবশ্য আমার কোন দুঃখ নেই কারণ এতে করে অনেকেই আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেক যায়গায় ই-ক্যাব নিয়ে কথা বলতে পেরেছি, ই-ক্যাবের লক্ষ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরতে পেরেছি এবং এতে করে অনেকের ভুল ভেঙেছে।
গত কয়েকদিন ধরে ই-কমার্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে নানা ধরণের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কয়েকজন। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যারা বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করেছেন তাদের কাছে আমি আরও কৃতজ্ঞ। খুব আকর্ষণীয় কিছু কাজের সুযোগ ছেড়ে দিয়ে গত ছয় মাস ধরে ই-ক্যাবের পিছনে সময় দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে গত তিন মাস ধরে প্রকৃত অর্থেই ই-কমার্স ও ইক্যাবের জন্য কাজ করে দিয়েছি প্রতিদিন। এজন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত কারণ আমার ও আমাদের এত কষ্ট কিছুটা হলেও সার্থক হয়েছে।
ঢাকার বাহিরে অনেকেই এখন ই-কমার্স নিয়ে কাজ করতে এবং জানতে আগ্রহী। অনেক গুলো জেলা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছি। অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আমন্ত্রণ এসেছে। মিডিয়াতেও ইক্যাব ও ই-কমার্স নিয়েও লেখা ছাপা হচ্ছে।
কোনরকম হুজুগ তোলার চেষ্টা করিনি বা মানুষকে লোভ দেখিয়ে দলে দলে ইক্যাবে আনার সামান্যতম চেষ্টা করিনি। বরং সিরিয়াস ধরণের মানুষদের নিয়ে আমরা কাজ করতে আগ্রহী যারা সত্যি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে ই-কমার্সই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সংখ্যা কম হোক সমস্যা নেই। কিন্তু তাদেরকেই আমরা খুঁজছি এবং তাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।
অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে ই-কমার্স নিয়ে প্রচার বেড়েছে বলেই আমার মনে হয়। ডিসেম্বর মাসে অনেক কিছুই করতে হবে তাও জানি তবে এখন আমাদের সঙ্গে অনেক বেশী মানুষ সম্পৃক্ত। তাই অনেক সহজেই করা যাবে বলে আমি আশাবাদী। তবে যখন দেখব ৬৪ জেলাতেই ই-কমার্স চলে গেছে এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ এর থেকে উপকৃত হচ্ছে তখনই আমাদের এই কষ্ট সার্থক হবে।

1 December 2014

জেগে থাকা প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতে