ট্যুরিজম বা পর্যটন সেক্টরে ই-কমার্স বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করতে পারে

বাংলাদেশে অনেকেই ই-কমার্স সেক্টর নিয়ে চিন্তিত এবং হতাশ। স্বীকার করি হতাশ হবার মত যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ মনে হয় আমার নিজের এবং তাদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা প্রতিদিনই শুনি। কিন্তু তারপরও আমি এদেশে ই-কমার্স এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী। এর কিছু কারণ রয়েছে।
১। ট্যুরিজম বা পর্যটন সেক্টরে ই-কমার্স বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করতে পারে। ধরা যাক কক্সবাজারের পর্যটন কোম্পানি গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিল সারা বিশ্বের কাছে। ধরা যাক ই-কমার্স এর কল্যানে কক্সবাজারের হোটেল বুকিং, ট্যুর প্ল্যান সবই অনলাইনে হয়ে গেল। আর ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় দুটো ব্লগ, দুই তিনটি ট্র্যাভেল নিউজ সাইট, কয়েকটি অনলাইন ম্যগাজিন ও নিউজলেটার থাকুক। তখন বিদেশী ও বাংলাদেশী পর্যটকরা সারা বছর জুড়েই আসবে বলে আমার মনে হয়। অফসিজন বলে কিছু থাকবে বলে মনে হয়না।
২। যতদূর জানি যশোরের অনেক ছোট ছোট হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানা রয়েছে। তারা ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পেইজ খুলে পন্য বিক্রি করা শুরু করল। এমন ১০ টা প্রতিষ্ঠান আমাদের ই-ক্যাবে চলে আসলেই কিন্তু আমরা অনেকেই সেইসব হস্তশিল্প পন্য ঘরে বসে পাবো আবার সেই ১০ টি কোম্পানিও ই-ক্যাবের মাধ্যমে সারা দেশের আরও শত শত কোম্পানির কাছে যেতে পারবে তাদের পন্য নিয়ে।
এভাবে ৬৪ টি জেলা থেকে হাজার খানেক প্রতিষ্ঠান আমাদের ই-ক্যাবের সঙ্গে যোগ দেবে এমন দিন খুব বেশি দূরে নয়। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে যেখানে সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে। অনেকেই এ ধরনের কথা শুনলে আমাকে হয় আতেল না হয় পাগল মনে করে। কিন্তু এটা হওয়া অসম্ভব নয়। কক্সবাজারকে দিয়েই শুরু হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার নিজের পর্যটন শিল্প নিয়ে অনেক আগ্রহ এবং ই-ক্যাবে একটু একটু করে এ খাতের কোম্পানি ও লোক বাড়ছে দেখে আমি আনন্দিত। সাইপ্রাস থেকে মাসুম ভাই, কক্সবাজার থেকে বেলাল ভাইদের গল্প শুনি, স্বপ্নের কথা শুনি। মাসুম ভাই ও বেশ কয়েকজন সাইপ্রাস, জার্মানি ও ঢাকা থেকে চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের পর্যটন সেক্টরের উপর একটি অনলাইন ম্যগাজিন বের করার এবং আরও অনেক কিছু করার।
লিটন ভাই ও শাওন ভাই কাজ করছেণ কক্সবাজারের সব হোটেলকে অনলাইন সার্চের আওতায় আনতে- প্রতিটি মান সম্মত হোটেলের প্রতিটি রুমের সব ধরনের তথ্য ও ছবি দিবেন তারা। বেলাল ভাই চেষ্টা করছেন মানুষ যাতে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বসেই ট্যুর প্ল্যান সম্পর্কে ভাল তথ্য ইন্টারনেটে বসে পেতে পারে। ফলে কক্সবাজার এসে ঝামেলায় পড়তে হবে না। তারা কেউই সরকার বা বেসরকারি কোন পর্যায়েই সাহায্য পান নি। কিন্তু তারপরও তারা কাজ করে চলেছেন এবং আমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। কিন্তু ই-ক্যাবের মাধ্যমে তারা একটা ভাল প্লাটফর্ম বা নেটওয়ার্ক এর মধ্যে এসে পড়েছেন যেখানে অনেকেই তাদের তথ্য দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন বিনা পয়সায়।
ই-ক্যাব এ ধরনের একটি প্লাটফর্মে পরিণত হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। এবং এ ধরনের আরও সাফল্যের গল্প আগামী মাস গুলোতে আমি আপনাদের শুনাতে পারবো। কেউ যদি এখন আমাকে প্রশ্ন করে ই-ক্যাবের সদস্য হয়ে কি লাভ তখন আমি লিটন ভাইয়ের ফোন নম্বর দিয়ে দেই কথা বলার জন্য।
সবশেষে আমি ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকের থিম সঙ্গীতটির ভিডিও দিলাম। আশা করি শুনতে ও দেখতে ভাল লাগবে।

Razib Ahmed
22 January 2015 ·

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *