ডিজিটাল ইনভেটিভ ফেয়ার ২০১৫ এর উদ্বোধনী দিনে একটি সেমিনার ছিল যেখানে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে আমরা বেশ কয়েকজন অংশ নেই। আসলে এটি ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এবং ই-ক্যাবের সভাপতি হিসাবে আমি ছিলাম, এবং আমার সাথে ছিলেন ই-ক্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর শাহেদ আলি, ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস আসিফ আহনাফ, ডিরেক্টর গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স রেজয়ানুল হক জামি, সারা জিতা এবং মুন্সী গিয়াস উদ্দিন।
সেমিনারে খুব বেশী লোক ছিল এমন আমি বলব না। অবশ্য হল ঘরটা অনেক বড় ছিল তা না হলে কোন বিশ্ববিদ্যালইয়ের ছোট একটি ক্লাসরুম হলে ৩০ জন দিয়েই ভরে যেত। যাইহোক সেমিনার শেষে বুঝতে পারলাম যে সবাই না হলেও অনেকেই মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তিনজন খুব সিরিয়াস প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন উত্তর পর্ব বেশ লম্বা সময় ধরে ছিল এবং এজন্য সেমিনারটি আমার বেশ ভাল লেগেছে। বিস্তারিত প্রেস রিলিজ আজ রাতে বা হয়তো আগামীকাল আমাদের গ্রুপে পোস্ট করে দিব।
আজকে কিছু ছবি দেখুন। ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে ই-কমার্সের হাতে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। এ নিয়ে সবাই সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন। আর মুন্সী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম ই-কমার্স উদ্যোক্তা যেখানে ২০০০ সালে তার মুন্সীজি ডট কম চালু করেছিলেন। তিনি সেসময়ের কিছু ঘটনার স্মৃতি চারন করেন এবং ১৫ বছর হয়ে গেল সে সময় থেকে। কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে এবং আশা করা যায় যে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) গঠন হবার পরে এই সমস্যা গুলো একটা একটা করে কাটিয়ে উঠা যাবে।
আসলে যখন কোন একটি কোম্পানি তা সে যত বড়ই হোক সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা স্থানে গিয়ে কোন দাবী তুলে বা সমস্যার কথা বলে তখন সবাই তাকে একটি কোম্পানি হিসাবেই চিন্তা করে। আর একটি কোম্পানির মূল চিন্তা থাকে তার নিজের জন্য মুনাফা নিশ্চিত করা।
অপরদিকে অ্যাসোসিয়েশনের কাজ হচ্ছে একটি ইন্ড্রাস্ট্রির স্বার্থ দেখা। তাই ই-ক্যাব থেকে আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি ই-কমার্সের প্রসারের জন্য। আর ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে প্রায় ৫৫০০ এবং এগুলো সবগুলো হয়তো একটিভ নয়। কিন্তু তারপরেও ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ ই-কমার্সের সুফল পেতে পারে আবার ই-কমার্স ই-ক্যাবের অধীনে যারা উদ্যোক্তা তারা তাদের বাজার ঢাকার বাহিরেও চিন্তা করতে পারবে। তাই আশা করা যায় যে আগামী দিন গুলোতে ডিজিটাল সেন্টার গুলোর সঙ্গে ই-ক্যাব জোরাল হবে কাজ করতে সমর্থ হবে।
অনেকেই মনে করেন যে ঢাকা শহরে যেখানে ই-কমার্স সম্পর্কে বেশী লোক সচেতন নয় সেখানে গ্রামের লোক ই-কমার্স দিয়ে কি করবে। এই মতের আমি ঘোরতর বিপক্ষে এবং আমরা ই-ক্যাব থেকে মনে করি যে ঢাকার একজন মানুষের জন্য ই-কমার্সের আশীর্বাদ ও সুবিধা যতখানি দরকার গ্রামের একজন লোকের জন্য তার থেকে বেশী দরকার। ঢাকায় বড় বড় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ফার্মেসী ওষুধের দোকান সবকিছুই পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামের একজন মানুষের জন্য তা নেই এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে ই-কমার্সই পারে।
14 January 2015 ·

ডিজিটাল ইনভেটিভ ফেয়ার ২০১৫