নতুন একটা অ্যাসোসিয়েশান দাড় করানো খুব কঠিন কাজ

ফেব্রুয়ারি মাসের আজ শেষ দিন। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর কত গুলো রাত যে না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি তার হিসেব নেই। আজকে সারা দিনে দুটি মিটিং আছে বিধায় এখন আর ঘুমানো যাবে না। তাই কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এই লেখাটি লিখছি।
ই-ক্যাব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকুল অবস্থার মধ্য দিয়ে ইসি কমিটির ৯ জনকেই কম বেশি পার হতে হয়েছে। নতুন একটা অ্যাসোসিয়েশান দাড় করানো খুব কঠিন কাজ। আমার উপর দিয়ে সব রকম কষ্ট গেছে। অবশ্য নিজে থেকেই মন দিয়ে চেষ্টা করেছি। এজন্য আমাকে কেউ বাধ্য করেনি বা এত সময়, শ্রম না দিলেও কারো বলার কিছু ছিল না কারণ ই-ক্যাব আমার চাকুরী বা ব্যবসা কোনটাই নয়। বরং সব কিছু ত্যাগ করে আমি ই-ক্যাবের জন্য চেষ্টা করছি।
এতে করে আমার কি লাভ এ প্রশ্ন অনেকবার অনেকের থেকে শুনেছি? আমার একটা খুব বড় লাভ হয়েছে। আমি অনেক অল্প বয়স থেকে বিশ্বাস করতাম যে অনেকে মিলে ভাল একটা কিছু করার চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়। এ বিশ্বাসকে একটু একটু করে বাস্তব সত্যে পরিনত হতে দেখছি ই-ক্যাবে। অনেকে মিলে গ্রুপে অনেক তথ্য দিয়েছেন, ব্লগে অনেক লেখা দিয়েছেন, স্কাইপে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে ই-কমার্স নিয়ে যারাই কিছু একটা করতে চান তারা একদম বিনা মুল্যে অনেক কিছু জানতে পারছেন। বলতে গেলে ই-কমার্স এর প্রায় প্রতিটি দিক নিয়েই আমরা তথ্য দিতে পেরেছি বাংলা ভাষায় এবং বিনামুল্যে। এটাই আমার স্বপ্ন ছিল এবং সার্থক হয়েছে।
আর ই-ক্যাবের এত গুলো প্রতিষ্ঠান মিলে আমরা একসঙ্গে ই-কমার্স নিয়ে চেষ্টা করছি। এর ফলে ই-কমার্স এর বাজার অনেক বড় হবে বাংলাদেশে কোন সন্দেহ নেই। এই ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ আমরা দেখতে পাবো ই-কমার্স কত দিকে ছড়িয়ে পড়বে।
আমি এতটা চেষ্টা করি আসলে ই-ক্যাবের জন্য নয়, বরং যেসব তরুন ই-কমার্স নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য। খুব সোজা সাপটা হিসাব হল দেশের জিডিপি বাড়তে হলে টাকার লেনদেন বাড়তে হবে। এজন্য দরকার ই-কমার্স কারণ রাজশাহীর সিল্ক, কক্সবাজারের শুটকি, সিলেটের সাতকড়া, রূপগঞ্জের জামদানী শাড়ি এসব সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারে ই-কমার্স।
এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার নামকরা পন্য হয় ঐ জেলাতে নাহয় বড় জোর ঢাকাতে আসে। কিন্তু ই-কমার্স সেই বাঁধা দূর করে দিচ্ছে। হয়তো কুরিয়ার সার্ভিস বা ডেলিভারি চার্জ বেশি লাগে কিন্তু রাজশাহীর সিল্ক, কক্সবাজারের শুটকি, সিলেটের সাতকড়া, রূপগঞ্জের জামদানী শাড়ি এখন ই-কমার্সের কারনে ৬৪ জেলা শহরগুলোতে বসবাসরত মানুষেরা কিনতে পারেন। সামনে আরও পারবেন। হয়তো এ বছর নাগাদ ৪৬০ টি উপজেলার মানুষ অনলাইনে সারা দেশের পন্য কিনতে পারবেন।
সরকার থেকে যথাযথ সাহায্য পেলে হয়তো এ বছর নাগাদ অথবা আগামি বছরের মাঝামাঝি দেশের ১০০০ বা ২০০০ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ১০-১৫ হাজার গ্রামের মানুষও ই-কমার্সের সুফল পাবেন। মাত্র ২ মাস আগেও আমার মনে হত যে গ্রামের মানুষ অনলাইন শপিং সাইটের মাধ্যমে ৫-৬ বছরের আগে কেনাকাটা করতে পারবেনা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে ই-ক্যাবের চেষ্টায় তা হতে বড় জোর এক বা দেড় বছর লাগবে যদি সরকারের থেকে একটু সাহায্য পাই। না আমরা এজন্য সরকারের থেকে কোন টাকা চাই না বরং চাই কিছু নীতিগত সহায়তা।
আমার এমন আশাবাদের কারণ হল বিভিন্ন জেলা থেকে বেশ কয়েকজন আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন এই স্বপ্ন নিয়ে যে তারা তাদের জেলার বিখ্যাত পন্য নিয়ে ই-কমার্সে নামবেন। তারা আমাদের গ্রুপ ও ব্লগের সব লেখা পড়ছেন এবং স্কাইপে আমার সঙ্গে কথা বলেন।
প্রবাস থেকেও কয়েকজন আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তারাও এ বছরের মধ্যে ই-কমার্সে নামবেন। তাই আমি বাংলাদেশে ই-কমার্স এর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আশাবাদী।
ই-ক্যাবের কল্যানে, এই গ্রুপের কারণে অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন, ই-ক্যাবের অফিসের ঠিকানায় আমার জন্য তাদের পন্য উপহার হিসেবে পাঠান। সকাল ৬ টার দিকে ফেইসবুক বা স্কাইপিতে দেখতে পেলে ঘুমানোর জন্য অনুরোধ করেন, সাস্থ্যের দিকে খেয়াল দিতে বলেন। আমার মত একজন খুবই সাধারণ হাফ শার্ট আর স্যান্ডেল পড়া একজন মানুষের জন্য এত মানুষের শ্রদ্ধা, সন্মান, স্নেহ পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *