ই-ক্যাবের কল্যানে এবং ফেইসবুকের কল্যানে কিছু মানুষের সংগ্রামের কাহিনী নিয়মিত দেখতে পাচ্ছি। তাদের প্রায় সবাই ভাল মানুষ কিন্তু জীবন নানা দিকে ভেজালে ভরা। চারপাশের চাপ, পরিবারের অসহযোগিতা আর বন্ধুদের বিদ্রূপ তাদের মানসিক শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে, লড়াই করার ক্ষমতা নিঃশেষ করে দিচ্ছে। না কোন একজনের কাহিনী নয় বরং আমার দেখা কয়েকজনের প্রতিদিনের জীবনের বাস্তবতা। আসলে এই সমস্যার কোন তড়িৎ সমাধান নেই। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর লড়াই করার পর এক সময় জীবন স্বাভাবিক হয়।

মজার ব্যপার হল যাদের জীবন সংগ্রামের কাহিনী দেখতে পাচ্ছি নিয়মিত তাদের সবাই ভাল মানুষ- বেশ ভাল মানুষ। যে যত ভাল তার ভেজালের পরিমান মনে হয় তত বেশি। অনুপ্রেরণা দেবার বদলে হতাশাজনক কথা বলছি দেখে হয়ত আপনারা অবাক হচ্ছেন।

আমাদের অনেকের মিল আছে এর সঙ্গে, তাই না? এটুকু তো হতাশাজনক কোন সন্দেহ নেই। আমি নিজেও ২০-২৫ বা ৩০-৩৫ বছর বয়সের সময় বেশ হতাশ হয়ে পড়তাম। কিন্তু এরপর যা মনে রাখা দরকার তাহল লড়াই করে যেতে হবে, চেষ্টা করে যেতে হবে। হয়তো অনেক বছর ধরে চেষ্টা করে যেতে হবে। অনেকবার পরে যাবেন, হেরে যাবেন এবং মনে হবে আর হবে না আপনাকে দিয়ে।

নিজের জীবনের অনেক গুলো মাস, বছর কেটে গেছে এই ধরনের যুদ্ধ করতে করতে। ঘরে, বাইরে, কাছে, দূরে লড়ে গেছি এবং হয়তো এটাই এখন খুব ভাল পারি। এ ধরনের লড়াইতে জয়লাভ করা খুব কঠিন এবং জিততে পারলেও অনেক শক্তি, সময় ও শ্রম নষ্ট হয়। চারপাশের মানুষদের থেকে আমরা একা হয়ে যাই। ভাগ্য ভাল যে ইন্টারনেটের যুগে এখন আমরা, ফেইসবুকে আছি, স্কাইপে আছি।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে এ ধরনের ভেজাল আমাদের একা করে ফেলে, আমরা নিজেদের অসহায় মনে করি। আর দুর্বল অবস্থা দেখে অনেকে সুযোগ নিতে চায়। তাই সবার সহানুভূতি যে শুধু সহানুভূতি নয় বরং অভিনয় তাও বুঝতে পারি এক সময়।

পরে যাবেন, হেরে যাবেন  তবুও উঠে দাঁড়ান