প্রতিদিন আমাদের কাজের সময় ৬ থেকে ১০ ঘণ্টার মত। কাজ বলতে আমি লেখাপড়া, ব্যবসা, চাকুরি, ফ্রিল্যান্সিং এবং এমনকি বেকারত্বকেও বুঝাচ্ছি- চাকুরি খোঁজাও খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর কাজের উল্টো হল বিশ্রাম ও বিনোদন। প্রতিদিন প্রায় ৭-৮ ঘণ্টার মত ঘুমাই বা শুয়ে থাকি যা বিশ্রাম এবং এর বাইরে টিভি দেখা, আড্ডা দেয়া, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি হল বিনোদন।

কাজ ও বিনোদনের মধ্যে মনে হয় এক ধরনের শত্রুতা আছে না হলে আমরা কাজকে এত অপছন্দ করি আর বিনোদনকে এতটা পছন্দ করি কেন। আপনাকে যদি বলা হয় এক ঘণ্টা ক্লাসের বই পড়তে বা ১ ঘণ্টা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে তাহলে কোনটা বেছে নেবেন? আড্ডা দেয়া না হয় খুব মজার কাজ কিন্তু ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে তো শক্তি দরকার এবং আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি কিন্তু তারপরও অনেক মজা পাই এবং পরের দিন আবার খেলতে চলে যাই।

যত কষ্ট আসলে শিক্ষা ও পেশার বেলায়। এর একটা কারণ হল আমরা জন্মের পর থেকেই এক ধরনের চাপের মধ্যে পড়ি লেখাপড়ার ও পেশার ব্যপারে। আমাদের ভাল করতেই হবে, পারতেই হবে, চেষ্টা করতেই হবে। ফলে এক ধরনের মানসিক ক্লান্তি, অনাগ্রহ ও বিতৃষ্ণা দেখা দেয়। এর একটা কারণ হল আমাদের যেদিকে ভাল লাগে বা আগ্রহ সেদিকে পড়তে পারি না অনেকেই। বরং যেদিকে টাকা আছে বলে সবাই মনে করে সেদিকে পড়তে ও কাজ করতে বাধ্য হই।

আমি যে বিষয় নিয়ে পড়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা এখন আর চাইলেও বদলাতে পারবো না। তাই এ নিয়ে আসলে চিন্তা বা দুশ্চিন্তা করে খুব একটা লাভ নেই। বরং এখন আমাকে চিন্তা করতে হবে কি করে আমি ৮-১০ ঘণ্টা সময়ে কাজ করে সেরা ফল পাবো। সেরা ফল পেতে হলে সেরা পারফর্মেন্স বের করে আনতে হবে প্রতিদিন। তা করতে পারলে প্রতিটি দিন হবে আনন্দের দিন এবং কাজে আর তেমন বিরক্তি আসবে না।

এজন্য দরকার মন দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করার। আর দরকার আনন্দের সঙ্গে কাজ করার। দুটোই কঠিন আমাদের সবার জন্য এমনকি আমার নিজের জন্যও। তবে ধীরে ধীরে নিজের কাজে আনন্দ পাচ্ছি আগের থেকে অনেক বেশি। এখন দরকার মন দিয়ে কাজ করতে পারার দক্ষতা অর্জন করার। তা করতে পারলে দারুন কিছু করতে পারবো এখন থেকে যত দিন বেঁচে থাকি। আমি বুঝতে পারছি যে এমন সময়ের এমন অবস্থার দ্বার প্রান্তে চলে এসেছি।

মন দিয়ে কাজ করার জন্য মন থেকে অন্য সব চিন্তা, দুশ্চিন্তা, টেনশন বা যে কোন ধরনের নেতিবাচক অনুভূতি কাজের সময় সরিয়ে রাখা। এটি অনেক বেশি কঠিন কাজ তবে করতে পারলে কাজের দক্ষতা ও গুণগত মান অনেক ভাল হয়। তখন মনে সন্তুষ্টি অনেক বেশি আসে যে কোন কাজ থেকে। এটিই সত্যিকারের সাফল্য।

চেষ্টা করলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। কিন্তু চেষ্টার ইচ্ছা আসা কঠিন। যে কোন কাজে আগ্রহ অনেক বড় ব্যপার। আগ্রহ থাকলে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোন কাজে লেগে থাকতে পারি। আর না থাকলে ১০ মিনিট সেই কাজ করাকেও শাস্তি বলে মনে হয়। আমার মনে হয় আমাদের সবার এই ব্যপারে একই চিন্তা।

আমার লেখা অনেকেই পড়েন এবং আমি সব সময় চেষ্টা করি নিজের জীবনে দেখা এবং জীবন থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে। তাই এদিকে মন দিয়ে চেষ্টা করবো ভাল করতে এবং তারপর আপনাদের জন্য লিখতে। তাই এখন প্রতিদিন এ নিয়ে অনেক চিন্তা করছি এবং চেষ্টা করছি এদিকে ভাল কিছু লেখা লিখতে। এতে করে অনুপ্রেরণার থেকেও ভাল কিছু থাকবে আমার লেখাতে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

প্রতিদিনকে কাজে লাগাতে হবে