ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস- বাংলা ভাষার মাস। অনেকে এ মাসে আমাদের ইংরেজি প্রীতিকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতে ভালবাসেন। উপহাস না করে তারা যদি নিজেরা ভাষার প্রতি কিছু করতেন তাহলে বোধহয় অনেক বেশি ভাল হতো। ১৯৯৩ সালে ইংরেজিতে অনার্স পড়া শুরু করার পর গত ২২ বছর ধরে বাংলা ভাষার সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেখার ভাষা ছিল ইংরেজি এবং পেশাগত জীবনে কাজের ভাষা ছিল মূলত ইংরেজি। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করার প্রথম দিন থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন করবো না।
আমি খুশী যে এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে পেরেছি। এটি সত্য যে আমার বেশীরভাগ আয় হয় ইংরেজি ভাষায় কাজের সুবাদে। কিন্তু তারপরও বাংলা ভাষার সঙ্গে আমার প্রানের যোগাযোগ কখনোই বন্ধ হয়নি।
২০১৪ সালের নভেম্বর যখন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করি তখন প্রথম থেকেই মাথায় এ চিন্তা ছিল যে বাংলা হবে আমাদের ই-ক্যাব এর ভাষা। তাই প্রথমেই মনোযোগ দেই এ ভাষার ই-কমার্স এর উপর লেখা তৈরির। আমাদের ব্লগে এখন ৬৫ টি পোস্ট/আর্টিকেল রয়েছে এবং এর মধ্যে মনে হয় ৬০ টি বাংলাতে। আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে আমি সব পোস্ট বাংলাতে দেই এবং আমার মত আরও কয়েকজন তাই করেন। এর ফলে ইংরেজিতে পোস্ট আসে কম এবং বাংলিশে পোস্ট আসেনা বলেই চলে। আর বাংলা পোস্টে উত্তর ও মতামত আসে অনেক বেশি।
বাংলা ভাষার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব সেন আমলে রাজভাষা ছিল সংস্কৃত আর বাংলা ছিল অবহেলিত। সুলতানি ও মোগল আমলেও সরকারী ভাষা ছিল ফার্সি এবং বাংলার কোন স্থান ছিল না। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি ভাষার যে প্রবল প্রতাপ ছিল তা এখনো শেষ হয়নি। আর পাকিস্তানী আমলে উর্দু ভাষার বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু হয় ১৯৪৮ সালে তা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হয়।
১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে বাংলা ভাষা প্রথমবারের মত শিক্ষা ও সরকারী কাজের মাধ্যমে পরিণত হয়। কিন্তু ইংরেজি ভাষার দাপটের কাছে বাংলা অসহায়। এর কারণ হল বাংলা ভাষার কোন উল্লেখযোগ্য বাজার এখনো গড়ে উঠেনি। বই, গান, সিনেমা, ব্লগ এগুলোর বাজার এখনও বেশ সীমিত।
এ দিকে ই-কমার্স অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করতে পারে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষা, বই, গান, আবৃত্তি, নাটক, সিনেমা, পেইন্টিং অনেক কিছুই বিক্রি করা যাবে। এজন্য আমরা যারা এদিকে কাজ করছি তাদের যেমন প্রথম দিকে লাভের চিন্তা না করে কিছুটা এগিয়ে আসতে হবে তেমনি যারা ক্রেতা তাদেরও সেই মানসিকতা থাকতে হবে। ই-ক্যাব এখনও ছোট একটি অ্যাসোসিয়েশান কিন্তু এ বছর নাগাদ এটি বেশ বড় হবে। তাই আগামী বছরের (২০১৬) ফেব্রুয়ারি মাসে এ নিয়ে ব্যপক প্রচারণা চালাতে হবে। আমাদের ই-কমার্স খাতের জন্য শিক্ষা যেমন একটি বড় বাজার হতে পারে, সংস্কৃতি তার থেকেও বড় বাজার হতে পারে।
Febraury 2015

বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক