আমার মনে হয় গড়পড়তা মানুষের থেকে আমার স্মরণশক্তি কিছুটা বেশীই ছিল সবসময়। তাই ক্লাসের পড়া মুখস্থ করতে কখনোই খুব একটা বেগ পেতে হতো না। আসলে মুখস্থ করাতে দোষের কিছু দেখিনা। অনেক কিছুই মনে রাখতে হয় এবং তা কর্মজীবনে কাজে লাগাতে হয়। বাংলা, ইংরেজি, অংক- এসব বিষয়ের অনেক বেসিক জিনিসই প্রতিদিন কাজে লাগে। তবে জীবনে মুখস্ত বিদ্যা যতখানি দরকার ততখানিই দরকার সৃজনশীলতা। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের অভিভাবকরা মুখস্ত বিদ্যাকে যতটা ভালবাসেন ঠিক ততটাই সৃজনশীলতাকে ভয়ের চোখে দেখেন। তাই ছেলে বা মেয়ে পাঠ্য বই পড়লে যতটা খুশী হন ততটাই আতংকে থাকেন কোন ছেলে মেয়ের যদি পাঠ্য বইয়ের বাইরের কিছু পড়ে।

এর ফলে শিক্ষা জীবন শেষে কর্মজীবনে আমাদের তরুণরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটি হয় তাহল আত্ববিশ্বাসের ঘাটতি। অনেকেই মাস্টার্স বা অনার্স পাশ যেদিন করেছেন সেদিন লেখাপড়াকে বিদায় জানিয়েছেন এবং আর নতুন কিছু শেখার কথা পড়ার কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবেন না। যারা একটু পড়তে ভালবাসে তাদের জন্য খুব সুন্দর একটা খেতাব তোলা থাকে- আঁতেল। আঁতেল শব্দটি আমাদের সমাজে একটি সুন্দর ও ভদ্রোচিত গালি। এত সুন্দর পদবীর ও গালির হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই কত কম পড়েন তা প্রমাণ করার জন্য অস্থির থাকেন। অথচ মন দিয়ে পড়ার জন্য এবং বেশী পড়ার জন্য যে কোন মানুষের উচিৎ গর্ববোধ করা। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টা। এর মূল কারণ হল আমরা অল্প বয়স থেকে মুখস্ত করতে অভ্যস্ত। আর মুখস্ত হচ্ছে খুব বোরিং একটা বিষয়।

সারা বছর মুখস্ত করে যেদিন ফাইনাল পরিক্ষা শেষ সেদিন কি যে আনন্দ, কি শান্তি।

মন দিয়ে পড়ার জন্য উচিৎ গর্ববোধ করা