কেউ কেউ আমার কাছে জানতে চেয়েছেন যে আমি সব পোস্ট বাংলাতে দেই কেন, একটাও ইংরেজিতে নেই। অনেককে ঠাট্টা করি বলে যে ইংরেজি পারিনা তাই বাংলাতে দেই। একজন বেশ সিরিয়াস ভাবে আমাকে পরামর্শ দিলেন ইংরেজি অক্ষরে বাংলাতে লিখতে, তাতেও কিছুটা স্মার্টনেস আসবে। উত্তরে বললাম, আমি আনস্মার্ট লোক, তাই স্মার্টনেস সহ্য হবে না।
খারাপ লাগে এজন্য যে বাংলাদেশে এখনো অনেকে সত্যিই মন থেকে বিশ্বাস করে যে ইংরেজি স্মার্টনেসের লক্ষণ। এদের সংখ্যা একদম নগন্য নয়। অপ্রয়োজনে ইংরেজি শব্দ বলতে পারা এবং ‘করছি’, ‘খাইছি’ বলতে পারাও বিশাল ভাবের ব্যপার।
অনেকেই (প্রায় সবাই) মনে করে সুট কোট পরা মানেই স্মার্টনেস। আমার পছন্দ শার্ট প্যান্ট আর স্যান্ডেল কিন্তু এখন নিয়মিতই কোট আর শু পড়তে হয়, শার্ট ইন করতে হয়। আমাদের মত এরকম গ্রীষ্ম প্রধান দেশে কেন সুট কোট পড়া স্মার্টনেসের লক্ষণ তা আমার মাথায় কোন দিনই ঢুকবে না।
মন দিয়ে পড়া লেখা আমাদের দেশে স্মার্টনেস এর লক্ষণ নয়। বরং তাদের আমরা আতেল বলে গালি দেই। গভীর ভাবে লেখাপড়া খুব কম লোকই করতে চায়। ফলে সহজেই মানুষকে ঠকানো যায়, হুজুগ তোলা যায়। যারা সৎ ভাবে জান প্রান দিয়ে কষ্ট করে তাদের থেকে আকর্ষণীয় ভাবে সুট কোট পড়ে ইংলিশ একসেন্টে চাপাবাজি করতে পারে তারাই সফল হয় বেশি।
ক্ষতি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদেরই। হয়তো ৫%-১০% লোক অনেক এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু যদি আমরা ইংরেজির বদলে বাংলা এবং সুট কোটের বদলে লেখাপড়াকে গভীরভাবে গুরুত্ব দিতাম তাহলে ৫০% লোক সফল হত। গবেষণার মুল্য আমাদের দেশে নেই। এটাও একটা বিরাট সমস্যা।
আমার মনে হয় মন দিয়ে লেখাপড়া করা এবং সততা সবচেয়ে বড় স্মার্টনেস

মন দিয়ে লেখাপড়া করা এবং সততা সবচেয়ে বড় স্মার্টনেস