গত ২৩ মাসে ই-ক্যাবের কারনে ফেইসবুকে আমি খুবই একটিভ রয়েছি। অনেক তরুনের সঙ্গে কথা হয়েছে অন্তত ২৩০০ জনের সঙ্গে তো হবেই। বেশির ভাগ তরুণদের ই-কমার্সে নামা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি না হলে এখন হয়তো ই-ক্যাবের মেম্বার সংখ্যা ১০০০ হয়ে যেত।
যাই হোক যারা ই-কমার্সে নামতে চাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু কথাঃ
১। মনে রাখবেন ই-কমার্স একটি ব্যবসা, চাকুরি বা ফ্রিল্যান্সিং নয়।
২। ব্যবসা মানেই ঝুকি এবং তাই ই-কমার্সে লাভ ও লোকসান দুইই হতে পারে। আর প্রথম ৬ মাস তেমন আয় হবার সম্ভাবনা থাকে না। এক বছর লেগে থাকলে কিছুটা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা হয় এবং এরপর এগুতে সহজ হয়।
৩। কয়েকজনকে দেখেছি ৩-৪ মাস ধরে আয় হয় না বলে হতাশ হয়ে পরে এবং তারপর ঝরে পরে। তাই এক বছর ধরে লেগে থাকার মানসিকতা থাকা দরকার।
৪। বন্ধু বা আত্মীয়-সজনদের পার্টনার করার আমি বিপক্ষে। বেশ কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে এজন্য। বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে কড়া ব্যবহার কড়া কঠিন বা অসম্ভব।
৫। ই-কমার্স একটি জ্ঞান ভিত্তিক বা নলেজ বেইজড শিল্প। তাই পড়ার চর্চা রাখবেন। কি পড়বেন? ই-ক্যাব ব্লগের আর্টিকেল, গ্রুপের পোস্ট, মিডিয়াতে ই-কমার্স নিয়ে নিউজ ইত্যাদি।
৬। ই-কমার্স যেহেতু প্রযুক্তি নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি তাই সব কিছু খুব দ্রুত বদলে যায়। ২৩ মাসে ফেইসবুকের বড় ধরনের পরিবর্তন কয়েকবার দেখেছি এবং প্রতিবার কিছু ব্যবসা বন্ধ হতে দেখেছি।
৭। ডোমেইন হোস্টিং দয়া করে পাড়ার বড় ভাই, দেশের বাড়ির লোক, বন্ধুর কাজিন ইত্যাদি ধরনের লোকদের থেকে নেবেন না। তা করলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা ৯৯%।
৮। ই-ক্যাব গ্রুপে একটিভ থাকুন। আমার মত যারা বেশ একটিভ তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করুন। এতে করে অনেক সমস্যাতে দ্রুত সমাধান পাবেন বা অনেক সমস্যায় পড়ার হাত থেকে বেচে যাবেন।
৯। ওয়েবসাইট ডিজাইনের বেলাতেও দয়া করে পাড়ার বড় ভাই, দেশের বাড়ির লোক, বন্ধুর কাজিন, গার্ল ফ্রেন্ডের বোনের জামাই ইত্যাদি ধরনের মানুষের দ্বারস্থ হবেন না।
১০। নানা ধরনের ঝামেলা সামাল দিতে হয় ই-কমার্সে। আপনি একটু নার্ভাস এবং টেনশন করার মত লোক হলে এদিকে নামার কোন দরকার নেই।
আশা করি সবাই এই পরামর্শ গুলো মনে রাখবেন।

যারা ই-কমার্সে নামতে চাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু কথা