সাফল্য এসেছে মার্কেটিং না করে

মিথ্যা কথা আমি বলিনা এত বড় মিথ্যা কথা বলতে পারবো না। তবে খুব সুন্দর করে ও গুছিয়ে মিথ্যা কথা আমি বলতে পারিনা এবং ৯০% ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে যাই। কেউ আমাকে বিশ্বাস করে কিছু বললে বা জানালে তা আমি গোপন রাখি- এটি অবশ্য আলাদা ব্যপার।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর অনেক ধরনের বিজনেস মিটিং আমাকে করতে হয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহেই করতে হয়। তাছাড়া ই-ক্যাবের ও আমাদের মেম্বারদের জন্য নানা ধরনের বিজনেস অফার ও প্রস্তাব আমাকে দেয়া হয় ই-মেইলে, ফোনে বা মিটিং-এর মাধ্যমে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করি এদেশে অনেকেই মার্কেটিং বলতে চাপাবাজিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটি আমাকে অবাক করে ও বেদনাহত করে।
নিজে বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের না হলেও বিজনেস, আইটি এগুলো নিয়ে ২১ বছর ধরে লেখার ও গবেষণার, প্রতিষ্ঠান চালানোর ও কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। তাই চাপাবাজি, মিথ্যা তথ্য ও পরিসংখ্যান বুঝতে পারা খুব কঠিন কিছু নয় আমার জন্য।
না, আমি কোন সাধু সন্যাসি ব্যক্তি নই। খারাপ দিক ভাল দিক দুইই আছে আমার মধ্যে। আর মার্কেটিং মানে বাড়িয়ে বলা তাও বুঝি। কিন্তু একটা জিনিশ আমাদের মনে রাখা উচিত। প্রথমে আমাকে কিছু একটা বানাতে হবে এবং এরপর সেই পন্য বা সেবার ভাল দিক তুলে ধরা মানে মার্কেটিং হওয়া উচিত। আমার কিছুই নেই বা আমি কিছু দিতে পারবো না কিন্তু তাও অনেক বড় বড় কথা বললাম- এটা কোন মতেই মার্কেটিং হওয়া উচিত নয়।
ই-ক্যাবের অনেক কিছুকে বাড়িয়ে বলার জন্য আমার উপর চাপ আসে নিয়মিত। বলা হয় যে বাড়িয়ে না বললে ই-ক্যাব এগুবে না, বাইরে ই-ক্যাবকে দাম দেবে না, স্পন্সর পাওয়া যাবেনা। হয়তো অনেকে সত্যিই দাম দেয়না। কিন্তু তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই কখনো ছিলাম না। বরং আজকে ই-ক্যাবে যে প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি সদস্য এদের অন্তত ৭০ জন স্কাইপে, ফোনে, ফেইসবুকে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা জানেন যে আমি সব সময় সত্য কথা বলার চেষ্টা করেছি। ই-ক্যাবের ভাল দিক বলেছি, দুর্বল দিক বা সমস্যার কথাও লুকাই নি। এতে করে যারা ই-ক্যাবে এসেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ই-ক্যাবের মাত্র ৪ মাস বয়স এখন। ফেইসবুক, স্কাইপ, মোবাইল ফোন, অফিসে সবার সঙ্গে দেখা করা, ধানমন্ডি লেকে আড্ডা, বুমারসে অনেকের সঙ্গে মিলে আড্ডা দেয়া সব কিছুই করার জন্য সময় দিয়েছি, নিজের লাভের দিকে না তাকিয়ে বরং নিজের সব সুখ, স্বার্থ, আনন্দ, বিনোদন বিসর্জন দিয়ে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে ই-ক্যাবের জন্য চেষ্টা করেছি।
এসব কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলার কোন ইচ্ছা ছিলনা। বলছি একটাই কারণে। আমার মত একজন খুব সাধারণ মানুষ ৪ মাসে প্রায় ৭০ টি কোম্পানিকে ই-ক্যাবে নিয়ে আসতে পেরেছে সত্যি কথা বলে কোন রকম মার্কেটিং এর হাইপ না তুলে। অনেক রকম অপপ্রচার চালানো হয়েছিল ই-ক্যাবের বিরুদ্ধে এবং আমাকে নিয়ে। হুমকি ধামকিও পেয়েছি, ফেইসবুকে নোংরামির শিকারও কিছুটা হয়েছি। তারপরও আপনারা এসেছেন, আপনার মত আরও অনেকে এসেছে। মার্কেটিং এর দিক থেকে আমি সফল, অত্যন্ত সফল এবং সেই সাফল্য এসেছে মার্কেটিং না করে।

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *