নভেম্বর মাসে প্রতিদিনই কারও না কারো সঙ্গে কথা হয়েছে যে তারা ই-কমার্স উদ্যোক্তা হতে চায়। তাদের বেশীর ভাগ বয়সে তরুণ এবং অনেকে ই-কমার্স সম্পর্কে একদমই জানেনা। এ নিয়ে অবশ্য আমার আপত্তি নেই। নিজেও সারা জীবন আর্টস পড়ে এমএ পাশ করে ৩ বছর ইংরেজির শিক্ষকতা করে সব ছেড়ে দিয়ে বিশাল ঝুকি নিয়ে ইন্টারনেট ফ্রিল্যান্সার হই ২০০২ সালে যখন ফেইসবুক, এডসেন্স ওডেস্ক এসব কিছুই ছিলনা। খুব বেশি কিছু জানতাম এমন দাবীও করবো না। অনেক কষ্ট করেছি। মাসের পর মাসের বলতে গেলে কোন আয় হয়নি তবে লেগেছিলাম এবং চেষ্টা করেছি অনেক পড়ার।
আমি কাউকেই বলিনা যে আলিবাবা ২০০+ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি কিংবা আমাজন এর বাজার মুল্য ১৬৫ বিলিয়ন ডলার, ভারতের ফ্লিপকার্ট এর বাজার মূল্যও এখন ৮-৯ বিলিয়ন ডলার হবে হয়তো। কাল থেকেই শুরু করুন আর ই-ক্যাবের মেম্বার হন- এটাও কখনো বলিনা। বরং এটা বলি যে ই-কমার্স এক ধরনের ব্যবসা এবং অন্য যে কোন ব্যবসার মতই এখানে ঝুকি রয়েছে। দ্বিতীয়ত আরও কয়েকটা বেসিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করিঃ
১। কি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে চান। সেগুলোর সাপ্লাই কি নিশ্চিত করতে পেরেছেন?
২। ওয়েবসাইট বানানো ও চালানো সম্পর্কে কি জানেন?
৩। পেমেন্ট অপশন নিয়ে কি ভেবেছেন? মানে কিভাবে পেমেন্ট নেবেন?
৪। প্রডাক্ট কিভাবে পাঠাবেন মানে ডেলিভারি বা কুরিয়ার সার্ভিস। নিজ জেলার বাইরে পাঠাতে কেমন খরচ লাগবে তা নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন কি?
৫। মানুষকে কিভাবে আপনার ওয়েবসাইট ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানাবেন?
৬। আপনি কি একা ব্যবসা শুরু করছেন নাকি আরও কেউ সঙ্গে আছে?
৭। ই-কমার্স সম্পর্কে কি জানেন, কতটুকু জানেন। না জানলে অন্তত ১-৩ মাস পড়ে নিন। ইন্টারনেটে সবই আছে, বিনামূল্যেই আছে।
যারা আমার সঙ্গে কথা বলে তাদের অনেকের বয়সই ২০ এর নীচে। ভয়টা সেখানেই পাই। কারণ একদিকে তাদের অভিজ্ঞতা নেই এবং অন্যদিকে জ্ঞানও নেই। এটা ঠিক আমি স্বপ্ন দেখি আগামি ১ বছরের মধ্যে ৬৪ জেলাতে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু হয়ে যাক কারন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটা দরকার। টাকার লেনদেন ও ব্যবহার যত বাড়বে দেশের অর্থনীতি তত আগাবে। আর ই-কমার্স এর মাধ্যমে টাকার লেনদেন বাড়ানো অনেক সহজ। এও স্বপ্ন দেখি আগামি নভেম্বরে আমাদের ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা ১,০০০ বা তারও বেশি হোক হয়তো হয়েও যাবে। কিন্তু কোন মতেই চাইনা কেউ না জেনে না বুঝে হুজুগে এখানে আসুক।

November 2014

স্বপ্ন দেখি