গত ২১ মাসে ফেইসবুকে একটিভ থাকার কারনে অনেক তরুনের সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকে লেখাপড়া থেকে ছিটকে পরেছেন নানা কারনে, অনেকে আবার যে কোন কারনেই হোক এসএসসি বা ম্যাট্রিকের পর এইচএসসি না পড়ে ডিপ্লোমা লাইনে পড়ে এক ধরনের অশান্তিতে ভুগেন। কারো কারো এইচএসসির পর আর ভাল কিছু করা হয় নি। তাই তারা ২২-২৩ বছরেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে তাদের আর জীবনে কিছু করা হবে না।

মূল সমস্যা হল দুই তিনটিঃ আপনি যখন লেখাপড়ায় খারাপ করবেন তখন পরিবার, সমাজ, বন্ধু সবাই আপনার সঙ্গে ভেজাল করবে, ফালতু কথা বলবে- এমন আচরণ করবে যে আপনার মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। কিন্তু তার থেকেও বড় সমস্যা হল হার মেনে নেয়া। আরেকটি সমস্যা হল শর্ট কাট মানসিকতা।

অথচ এমন সময়ে দরকার পরিশ্রম করার মানসিকতা, লেগে থাকার মানসিকতা, চেষ্টা করার ইচ্ছা এবং প্রতিদিন কষ্ট করা। না আমি কোন নীতিকথা শোনাচ্ছি না। সেই অর্থে প্রাইভেট পরতে পারিনি বরং ১৯ বছর বয়স থেকে অনেক ছাত্র পড়িয়েছি টাকার জন্য। তাই আমি যা বলছি নিজের জীবনের সংগ্রাম থেকে। অনেকবার হেরে গেলেও আবার চেষ্টা করেছি। ই-ক্যাব নিয়েই দেখেছেন দিনের পর কতটা কষ্ট করেছি।

আমি এই বয়সের অনেক না হলেও কিছু ছেলে মেয়েকে গাইড করে অনেক ভাল অবস্থানে নিয়ে এসেছি। ২০০০ সালে পার্থকে (এম এম মেহদি হাসান) দিয়ে শুরু, এরপর আর ৮-১০ জন হবে।

২০১৬ সালে গাইড করছি পার্থ প্রতিম মজুমদারকে। তাই এমন না যে আমি বইতে লেখা কিছু নীতিবাক্য শোনাচ্ছি বা লিখছি। একদম ফেল করা ছাত্রদের গাইড করে অনেক উপরে নিয়ে এসেছি এবং প্রতিবারে যা দেখেছি যে তারা পেরেছে কারন একটাই, তারা লেগে ছিল মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। অনার্স মাস্টার্স করতে যেখানে ৫ বছর লাগার কথা তারা তা ৮ বছরে শেষ করেছে, তবুও করেছে।

আর যারা ব্যর্থ হয়েছে তারা ৩ মাসের চিন্তা করেছে বলেই ব্যর্থ হয়েছে। ২৫ বছরে লেখাপড়া শেষ করে ৬৫ বছর বয়সে রিটায়ার করা মানে হল ক্যারিয়ার ৪০ বছরের। ৪০ বছরের এই ক্যারিয়ারকে কেন আপনি ৩ মাসে কিছু করে ব্যর্থ হয়ে শেষ করতে চান?

 

৪০ বছরের এই ক্যারিয়ার