Non-Fiction : Araby
By : James Joyce

 

খ্রিস্টান ব্রান্দার’স স্কুলে ছেলেদের ছুটি হওয়া ছাড়া , নর্থ রিচমন্ডের রাস্তাটা মোটামুটি শান্ত থাকে ।রাস্তার এক জায়গায় বরগাকৃতির অবস্থানে চারপাশে বাড়ি , সেগুলোর থেকে পিছনে দুইতলা একটি বাড়ি আছে । কোন বসতি নেই সেই বাড়িতে। এই বাড়ি ছাড়া অন্যসব বাড়িতে লোকজন হাসি খুসি ভাবেই থাকে ।

আমাদের আগের বাড়ির ভাড়াটিয়া , পুরোহিত ছিল । বৈঠকখানার পিছনের রুমে মারা গিয়েছে । পচা গন্ধে পুরো ঘর ভরে ছিলো । রান্নাঘরের পিছনের ছোট্ট ঘরটিতে ছেঁড়া কাগজ পরে আছে । সেখানে আমি কিছু ছেঁড়া কাগজ পেলাম , সেগুলো ভেজা , কুঁচকানোঃ Walter Scott এর The Abbot, The Devout Communicant এবং The Memoirs of Vidocq । আমার শেষেরটার প্রতি চোখ পড়েছিলো , হলুদ রঙের কিনা তাই । পিছনের বাগানের মাঝখানে একটি আপেল গাছ আছে , এলোমেলো শুকনো শাখা । তার নিচে ভাড়াটিয়ার পুরান সাইকেলের পাম্প । তিনি একজন দানশীল ছিলেন । উইলে তিনি সব টাকা ইন্সটিউশনে দান করে যান , আর বাড়ির ফার্নিচারে সব বোনকে দিয়ে যান ।

শীতের দিন আসতেই দিন ছোট হয়ে যায় , তখন আমরা সন্ধ্যার আগেই ডিনার সেরে ফেলতাম । রাস্তায় নামতেই , বাড়িগুলোতে অন্ধকার নেমে আসতো । আকাশ গাড় নীল হয়ে আসে , মিটি মিটি করে রাস্তার বাতিগুলো জ্বলতে থাকে । ঠাণ্ডা বাতাস আমাদেরকে কাবু করে ফেলতো । শরীর গরম না হওয়া পর্যন্ত সেখানে খেলতাম । আমাদের সোরগোল প্রতিধ্বনি হয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যেতো। আমাদের জীবনে খেলাধুলার পর্বটা , অন্ধকার কর্দমাক্ত গলির ওই বাড়ির পিছনেই কেটেছে । প্রতিবেশীদের থেকে কতো দৌড়ানি , দাবড়ানি হজম করতে হয়েছে কে তার হিসাব রাখে !! পিছনের দরজায় অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে বাগান থেকে ছাইয়ের গন্ধ ভেসে আসতো । অন্ধকারের সেই জায়গায় , গাড়োয়ান ঘোড়ার যত্ন নিতো , কোন কোন সময় ঘোড়ার পিঠে জিন পরানোর সময় সুর কানে ভেসে আসতো । ফিরে যেতেই রান্নাঘর থেকে আলো রাস্তায় পড়তো । যদি আমার আঙ্কেল কর্নার থেকে আসতে দেখা যেতো , আমরা অন্ধকারে সরে পড়তাম । তিনি বাড়ি ঢুকলেই , বের হয়ে আসতাম । আবার । ম্যাঙ্গানের বোন যখন তার ভাইকে চা দিতে দরজার কাছে আসতো , আমরা ছায়ায় লুকিয়ে থেকে উঁকি দিয়ে দেখতাম । সে থাকে নাকি চলে যায় তা খেয়াল করতাম । যদি সে থাকে , ছায়া থেকে বের হয়ে , তার পিছু পিছু যেতাম । সে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো । আধো খোলা দরজা থেকে তার ছায়া আসছে । তার ভাই তাকে তার কথা না শোনার জন্য বকতো । আমি রেলিং এ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতাম । তার চলার সাথে সাথে তার পোশাকে ঢেউ তুলছে । চুলগুলো এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত দোল খাচ্ছে ।

প্রত্যকে সকালে আমি পার্লারের সামনে ফ্লোরে শুয়ে শুয়ে তার দরজা দেখতাম । পর্দার কারনে কিছু দেখতে পেতাম না । যখন সে দরজার কাছে আসতো আমার বুক ধুকধুক করতো । হলের দিকে দৌড় দিয়ে , আমার বই খাতা ফেলে তাকে আবার অনুসরণ করতাম । তার ফর্সা বাদামি রঙের গড়ন আমার নজর এড়াতো না । সে কাছে আসতেই , দ্রুত হেঁটে তার কাছ থেকে সরে যেতাম । প্রত্যেক সকালেই এই ঘটনা ঘটতো । হাই-হ্যালো ছাড়া , তার সাথে আমার কোনদিন কথা বলা হয় নি । তার মন শোনা মাত্রই আমার হৃদয় মন এক অজানা নেশায় চঞ্চল হয়ে উঠতো ।

তাকে ঘিরে এতো বিভোর ছিলাম যে , কারোর প্রনয় দেখলেই তাদের প্রতি হিংসে হতো । শনিবার সন্ধ্যায় , যখন , অ্যান্টি বাজার করার জন্য মার্কেটে গিয়েছিলো , ব্যাগ ধরার জন্য তার সাথে আমাকে যেতে হয়েছিলো । রাস্তা জুড়ে শুধু হই হই আর চিৎকার । মদ খেয়ে মাতলামি করছে কিছু মানুষ , কিছু মহিলা দামাদামি করছে । আর অন্যদিকে শ্রমিকদের রাহাজানি , দোকানের ছেলেরা জোরে জোরে ক্রেতা ডাকতে ব্যাস্ত । রাস্তায় রাস্তায় গায়করা O’Donovan Rossa এর come-all-you গান করছে । গানের শব্দগুলো আমার মনে প্রানে এক ধরনের শিহরন সৃষ্টি করলো । মদ খেতে ভাল লাগছিলো না , আস্তে করে মাটিতে রেখে দিলাম । আমার মুখ থেকে মেয়েটার নাম বের হয়ে আসছিলো । মনে শুধু তার প্রতি পবিত্র এক ভাবনায় ভরে উঠলো । অজান্তেই চোখে পানি এসে গেলো । কিন্তু কেনো আমি জানি না । তাকে পাবার এক তীব্র আকুতি হৃদয় জুড়ে গ্রাস করে ফেললো । ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোন কিছুই খেয়াল ছিল না । কোন দিন তার সাথে কথা হয়েছে তাও খেয়াল করতে পারছি না , যদি তার সাথে কথা হয় , তাকে আমার মনের কথা খুলে বলতাম । তার শব্দ , গড়ন আমার হৃদয় বীণায় সুর সৃষ্টি করে ক্ষণে ক্ষণে পুরো শরীরকে যেনো প্রকম্পিত করে তুলছে , বাঁধ-ধ্বংসী সেই সুর ।

এক সন্ধ্যায় , আমি বৈঠকঘরের পিছনে গিয়েছিলাম , সেই যাজক যেখানে মারা গিয়েছিলো । তখন ছিল সন্ধ্যা , বৃষ্টির দিন , গাড় অন্ধকার চারিদিক । ঘরে কোন শব্দ ছিলো না । আমার কানে আসছে টপ টপ করে পানি পড়ার শব্দ , এক ভাঙ্গা কাচের জানালা থেকে বৃষ্টি ফোটায় ফোটায় মেঝেতে পড়ছে , পানিতে পুরো বিছানা ভিজে গেছে । জানালা থেকে কিছুটা আলো আসছে । আমি তখনো তাকে নিয়ে এক ঘোরের মধ্যে আছি । নিজের হাতে হাত রাখতেই কেঁপে উঠলাম , বার বার করে বলে উঠলাম “আমার প্রেম ! আমার ভালোবাসা !”

অবশেষে সে আমার সাথে কথা বললো । দেখা হবার প্রথমেই তাঁর একটা শব্দ শুনে , আমি নিজেও কিছুটা ভড়কে গেলাম । কি উত্তর দিবো তা বুঝতে পারলাম না । সে আমার কাছে জানতে চাইলো আমি অ্যারাবি যাবো কিনা । হ্যাঁ বলবো নাকি না বলবো , কিছুই মাথায় আসছে না । পুরো ভড়কে গেলাম । সে বললো তার যাবার ইচ্ছে ছিল ।

“এবং তুমি কেন যেতে পার না ? ” আমি বললাম ।

যখন সে কথা বলছিলো , তখন সে হাতের ব্রেসলেটও বার বার করে ঘুরাচ্ছিলো । সে যেতে পারবে না , কারন সেই সময়ে চার্জে ব্যাস্ত থাকতে হতে পারে । তার ভাই , আরেক দুজনের সাথে ক্যাপ নিয়ে ঝগড়া করছে । আমি রেলিংএ দাঁড়িয়ে আছি । আমার দিকে মাথা ঝুকিয়ে , হাতে একটি কাটা ধরে আছে । আমাদের উলটো দিকে দরজা থেকে আলো আসছে । কিছুটা আলো দিয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে । সাদা ফর্সা তার ঘাড় । আলো চুলের উপর পড়তেই , চুল ঝলমল করে উঠলো । হাত রেলিংএর উপর রেখেছে । আলো তাঁর পোশাকের উপর পড়ার সাথে সাথে দীপ্তিময় হয়ে উঠলো ।

“এটি তোমার জন্য ভালো ” সে বললো ।

“যদি আমি যাই , আমি তোমার জন্য কিছু আনবো ” আমি বললাম ।

সেই সন্ধ্যার পর থেকে উলটা পাল্টা সব চিন্তায় ঘুম আসে নাই । কিভাবে দিনগুলো কাটিয়ে দিবো সেই চিন্তা করতাম , প্রচুর বিরক্ত লাগছিলো । স্কুলের কাজও করতাম না । রাতে ঘুমানোর সময় , দিনে বিছানায় তার মুখটা আমার চোখের সামনে কেবল ভাসতো , পড়তে টেবিলে তাকেই দেখতাম । তার তীব্র আকর্ষণে আমার মন প্রান ফ্যান্টাসি জগতে বুঁদ হয়ে থাকতো । বন্দি নেকড়ে বাঘ ক্ষুধা তৃষ্ণায় কারগারে যেভাবে ছটফট করে , সবার অন্তরালে আমার মনের বাঘটিও একের পর এক দংশনে হৃদয় কোঠর ক্ষত বিক্ষত করে তুললো । শনিবার রাতে আমি বাজারে যেতে চাইলাম না । আমার অ্যান্টি বিস্মিত হয়ে গেলো , ভাবলো , সেইখানকার পরিবেশ ভালো লাগছে না তাই । ক্লাসে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিলো । শিক্ষকের দিকে তাকাতেই দেখলাম কোমল , দয়াবান মূর্তির মুখখানা মুহূর্তেই অগ্নিরুপ ধারন করেছে । মনে হয় আমার কথাগুলো বেশি ভদ্র ভাবে পরিবেশন করতে পারি নি । খামখেয়ালিতে ভরে উঠলো আমার সব কিছুতে । কোন কিছুতেই মন দিতে পারছিলাম না । বিরক্ত লাগছিলো সব কিছু ।

শনিবার আমি আমার আঙ্কেলকে বললাম , সন্ধ্যায় আমি বাজারে যেতে পারি । তিনি আলনা থেকে কোট , ছাতা নিতে নিতে বললেন ,

“হ্যা , বাছা , আমি জানি ”

যখন তিনি হলে ছিলেন , আমি পার্লারের সামনে যেতে পারি নি । আসতে আসতে স্কুলের দিকে গেলাম । বিস্বাদে মনটা ভরে উঠলো ।

যখন রাতে ডিনার খেতে আসলাম , আমার আঙ্কেলকে দেখতে পেলাম না । একটু বেশি আগে আগে চলে এসেছি , ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকলাম । ঘড়ির কাটার টিক টিক শব্দ অসহ্য মনে হলো । সিঁড়ি বেঁয়ে উপরের তলায় গেলাম । উচু তলায় , ঠাণ্ডা , খালি , অন্ধকার কক্ষ কিছুটা হাল্কা বোধ করতে লাগলাম । আমি এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যেতে যেতে গান করতে থাকলাম । জানালা থেকে দেখলাম , বন্ধুরা রাস্তায় খেলছে । তাদের কান্নাকাটি , চিৎকার আমাকে আবার দুর্বল করে দিলো । ঠাণ্ডা গ্লাসের উপর মাথাটা নিচু করে তার ঘরের দিকে তাকালাম । এক ঘণ্টার মতন মনে হয় দাঁড়িয়ে ছিলাম । কল্পনায় তাকে ছাড়া আর সেইখানে কিছু দেখতে পেলাম না ।

যখন সিঁড়ি নিচে আসছিলাম , দেখলাম , মিসেস মারসার আগুনের সামনে বসে আছে । তিনি বয়স্ক , বাচাল । এক মহাজনের স্ত্রী , স্বামী মারা গেছে । মিসেস মারসার , কিছু ভাল কারনে স্ট্যাম্পস সংগ্রহ করতো । চা টেবিলে অনেক ক্ষণ পর্যন্ত বক বক করলাম । এক ঘণ্টা পার হবার পরও দেখলাম , খাবার শেষ হয় নি । বাবা এখনও আসে নি । মিসেস মারসার যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন । থাকতে পারবেন না আর । রাত আটটার বেশি বাজে । রাতে ঠাণ্ডা বাতাস তাঁর সহ্য হয় না । আর দেরি করতে চাইলেন না । যখন বের হহতে গেলেন , আমার হাত ধরে বললেন ,

“ওই বাজারের দিকে যেতে আমার কেমন ভয় ভয় লাগে , একটু এগিয়ে দিবে ?”

রাত নয়টার দিকে আঙ্কেলের হলের দরজার কড়ার শব্দ শুনতে পেলাম । এক একা কথা বলতে বলতে তিনি আসছেন । হাঁটতে হাঁটতে মাটির পাথরের শব্দ শোনা যাচ্ছে । যখন ডিনার করতে যাচ্ছিলেন , বাজারের জন্য টাকা চেয়েছিলাম । তিনি ভুলে গেছেন ।

” মানুষ এখন বিছানায় , এক ঘুম শেষ করেও ফেলেছে ‘ তিনি বললেন ।

আমি হাসলাম না । আমার অ্যান্টি বললেন ,

“কেন তাকে টাকা দিচ্ছো না , তাকে যেতে দাও । এমনিতেই দেরি করে ফেলেছেন । ”

আমার আঙ্কেল বললেন , সে ভুলে গেছে । তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন । সে বললেন , “কাজ করতে করতে মানুষ উদাস , হতোদ্যম হয়ে পড়ে । তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন , আমি কোথায় যাচ্ছি, আমি দ্বিতীয়বারের মতন আবার একই কথা বললাম । আমি The Arab’s Farewell to his Steed পড়েছি কিনা জানতে চাইলেন । যখন আমি রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম ,অ্যান্টিকে তিনি সেই কবিতা আবৃতি করে শুনাচ্ছিলেন ।

পয়সা হাতে ছিল , শক্ত করে ধরেছিলাম । বুকিংহাম রাস্তায় লম্বা লম্বা পা ফেলে আগাচ্ছিলাম । রাস্তায় অনেক লোকের ভিড় । বাস্প দেখে সেটির দিকে আগালাম । আমি ট্রেনের থার্ড ক্লাস সিট নিলাম । অসহ্য রকম দেরি করার পর , ট্রেন চলতে শুরু করলো । ঘরবাড়ি , নদী পার হয়ে ট্রেন ছুটতে শুরু করলো । ওয়েস্টল্যান্ড রো স্টেশনে আসার পর , মানুষ গাড়ির দরজার কাছে আসতেই , কুলিরা ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দিলো । বাজারের জন্য এটাই একমাত্র বিশেষ ট্রেন । আমি ট্রেনে একা বসে রইলাম । কয়েক মিনিটে , ট্রেনটি কাঠের প্লাটফর্মে আসলো । রাস্তার ধারে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম দশটা বাজে । আমার সামনে । আমার সামনে বিশাল এক বিল্ডিং ।

ছয় পয়সার কোন টিকিট পেলাম না , ভয় পাচ্ছিলাম যদি বাজার বন্ধ হয়ে যাই । ঘূর্ণায়মান দরজার দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই দেখলাম , এক লোক , চোখে মুখে ক্লান্তি , হাতে পয়সা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন । হলের ভিতরে গেলাম । এর চারদিকে গ্যালারি । সব দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো , হলের বড় অংশটা অন্ধকার । এক পরিচিত নিঃশব্দতা চিরিদিকে । চার্চের প্রার্থনার পর এই ধরনের নিঃশব্দতা নেমে আসে । আমি আস্তে আস্তে ভয়ে ভয়ে বাজারের ভিতর গেলাম । কিছু লোক এক খোলা দোকানের চারপাশে ভিড় করে আছে । দোকানের নাম ” ক্যাফে চ্যাটেন্ট ” , দুইজন লোক সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টাকা গুনছে । পয়সা পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম ।

অনেক কস্টে মনে পড়লো কেনো আসলাম । এর পরের এক স্টলে গেলাম , চিনামাটির বাসন , ফুলদানী দ্বারা সাজিয়ে রেখেছে । দরজার সামনে , এক তরুন যুবতী , দুইজন ভদ্রলোকের সাথে হাসতে হাসতে কথা বলছে । অল্প অল্প কথার শব্দ শুনতে পাচ্ছি ।

“আহ, আমি এই ধরনের কথা কোনদিন বলি নি । ”

“কিনতু , তুমি তা করেছো ।

“কিন্তু আমি করি নি ‘

“মেয়েটি এই কথা বলে নি ? ”

“হ্যা , আমি তাঁর কথা শুনেছি ।”

” কি !! মিথ্যা কথা !! ”

আমাকে দেখে , যুবতী মহিলাটি এগিয়ে আসলো , কিছু কিনবো কি না জানতে চাইলো । তাঁর কথায় তেমন আকর্ষণ কাজ করলো না , মনে হচ্ছে , কর্তব্যের জন্য বলতে হচ্ছে তাই বলছে । আমি ভদ্রভাবে পুলিশদের মতন করে বয়ামের দিকে তাকালাম , আর বিড় বিড় করে বললাম ,

“না , ধন্যবাদ । ”

যুবতী মহিলাটি এই ফুলদানিটি একটু ঘুরিয়ে রাখলেন , ঘুরে আবার সেই পুরুষদের মাঝে গেলেন । তারা আবার সেই একই বিষয়ে কথা বলতে শুরু করলো । ঘাড় ঘুরিয়ে দুই একবার মহিলাটি আমার দিকে তাকালেন ।

আমি তাঁর দোকানে শুধু শুধু দাঁড়িয়ে রইলাম , জানি সেইখানে থাকাটা কোন দরকার নেই । কিন্তু আমার হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো সত্যি সত্যি কিছু কিনতে এসেছি । তারপর আমি ঘুরে বাজারের মাঝখানে গেলাম । ছয় পয়সার দুইটি মুদ্রা পকেটে রেখে দিলাম । আমি যেখান থেকে আসছিলাম গ্যালারির শেষ ভাগ থেকে এক চিৎকার কানে ভেসে আসলো , বাতি নিভে গেলো । হলের উপরের অংশটাও পুরো অন্ধকার ।

অন্ধকারে নিজেকে এক নিশাচর প্রাণীর মতন মনে হলো , চোখমুখ পুরো রাগে ক্ষোভে কেবল জ্বলছে ।

  translated this story from :  Araby

আরও গল্প পড়তে ক্লিক করুনঃ

প্রথম স্কুলে যাবার দিনঃ ছোট গল্প

The Ant and The Grasshopper

I Have A Dream -Martin Luther King 

Tagor-Letter to Lord Chelmsford Rejecting Knighthood 

Abraham Lincoln-Gettysburg Address

Of Studies by Francis Bacon

Shooting an Elephant  

The Most Dangerous Game

A Double-Dyed Deceiver 

HEARTACHE

The Luncheon

The Gift of Magi

A MOTHER IN MANNVILLE

Araby by James Joyce in Bangla | Bangla Don