Non-Fiction :   I Have A Dream
                 By :  Martin Luther King , Jr

 

আমি আজকে আপনাদের সাথে ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আনন্দিত । আমাদের জাতির জন্য মহান স্মরণীয় এক অধ্যায় হতে চলেছে ।

আমরা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি , একশ বছর আগে এক গ্রেট অ্যামেরিকান , এখানে দাস প্রথা মুক্তির ঘোষণা করেন । এই গুরত্বপূর্ণ রায় , নিগ্রো দাসদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছিলো , যারা অন্যায় অবিচারে ধুঁকে ধুঁকে মরছিলো । এটি তাদের বন্দিদশার কালো রাত্রির অবসান করে নতুন এক ঊষার আলো নিয়ে এসেছিল ।

কিন্তু একশ বছর পরও , নিগ্রোরা এখনো মুক্তি হয় নি । এখনো , নিগ্রোরা বৈষম্যের শিকার থেকে মুক্তি পেতে পারে নি । একশো বছর পরেও নিগ্রোরা , সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে । এখনো তাদের অবহেলার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে , নির্বাসনের মতন জীবন কাটাতে হচ্ছে । তাই , আজকে আমাদের এই লজ্জাজনক অবস্থার নাটকীয়  অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি ।

আমরা এখন চেক দিয়ে ক্যাশ তুলতে পারি । যখন রাষ্ট্রের নির্মাতারা সংবিধানে চমৎকার সব কথা লিখেছে , স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে , যারা সেখানে অঙ্গীকারনামায় সাইন করেছিলো , তারাই  একদিন এই অ্যামেরিকাকে হারাতে বসেছিলো । এই নোটে প্রতিশুতি দেয়া হয়েছিলো প্রত্যেক অ্যামেরিকান কালো হোক সাদা হোক জীবন মান সুযোগ সুবিধায় সম অধিকার নিশ্চিত করা হবে । এটি স্পষ্ট অ্যামেরিকান এই অঙ্গীকারনামাকে লঙ্ঘন করেছে । প্রত্যেক জাতি এই বর্ণের ব্যাপারে সদা সচেতন । এই পবিত্র প্রতিশ্রুতিকে সম্মান দেয়ার পরিবর্তে অ্যামেরিকান নিগ্রোদেরকে কালো তালিকায় ফেলে দেয় , যার কারনে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ফান্ড রাখা হয় নি ।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই না , ব্যাংক আমাদের দাবি মানতে অসমর্থ । আমরা মানতে চাই না , এই মহান জাতির জন্য অপর্যাপ্ত ফান্ড আছে । এই জন্য , চেক দিয়ে দিয়ে ক্যাশ তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে । যেটি শুধু ধনীদেরকে স্বাধীনতা , ন্যায়বিচার দিবে ।

আমরা অ্যামেরিকাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য এসেছি । এখন , আমাদের আমাদের জলসা বিনোদন করার সময় নেই । এখন আমাদের গণতন্ত্রের জন্য সত্যিকারের শপথ নিতে হবে । বর্ণবাদী বিচার ব্যবস্থা রোধ করে জাতিকে ঐক্যের পথে নিয়ে যাবে । এই বৈষম্য চোরাবালি বিচার ব্যবস্থা থেকে জাতিকে উত্তোলন করে , আমাদেরকে সুদ্ঢ় ভাতৃবন্ধন নির্মাণ করতে হবে । সব ঈশ্বরের সন্তানদেরকে সত্যিকারের বিচার প্রবর্তন করার এখনই সময় ।

এই সময়ে এটি আমাদের জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । নিগ্রোদের এই যুক্তিসঙ্গত এই দাবি কোনদিন পাশ করা হবে না যতদিন স্বাধীন , সমতা রাষ্ট্রে নিশ্চিত না করা হয় । ১৯৬৩ এখনো শেষ হয় নি , মাত্র শুরু । যদি মনে করা হয় , নিগ্রোদের এই জাগরন দমন নিপীড়নভাবে শান্ত করা হবে , তাহলে জাতি তার স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে যাবে । যতক্ষণ পর্যন্ত নিগ্রোদের দাবি না মানা হবে ততক্ষন পর্যন্ত অ্যামেরিকার কোন নিস্তার নেই । ন্যায়বিচার যতদিন এই মাটিতে প্রতিষ্ঠা না হয় , ততদিন বিদ্রোহের আগুনে এই জাতিকে পুড়তে হবে ।

কিন্তু একটা জিনিষ আমি আমার লোকদেরকে বলতে চাই , যারা এই ধরণের বিশ্বাসে দাঁড়িয়ে আছেন , তারা এই রাজ্যে ন্যায়বিচার ছিনিয়ে নিয়ে আসবে । আমাদের দাবি ছিনিয়ে নিয়ে আসতে কোন ধরণের ভুল করা যাবে না । কোন ধরণের ঘৃনিত কাজ করা যাবে না । আমাদের সংগ্রাম মর্যাদা এবং শৃঙ্ঘলতার সহিত পালন করতে হবে । আমাদের কারো কোন অনিষ্ট হয় সেই ধরণের আনন্দোলন করা যাবে না । আমাদের আত্মিক শক্তি তথা দৈহিক শক্তি দিয়ে আমাদের জেগে উঠতে হবে ।

নিগ্রো সম্প্রদায় জুড়ে সংগ্রামী ভাই বোনদের সমুদ্রের স্রোত দেখতে পাচ্ছি আমি । তাদের প্রতি অনুরোধ ফর্সাদের প্রতি কোন ধরণের তৈরি যাতে না হয় । অনেক সাদা মানুষ আজ এখানে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত । তারা বুঝতে পেরেছে তাদের ভাগ্য আমাদের সাথে জুড়ে আছে । তাদের স্বাধীনতার সাথে আমাদের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ।

আমরা একা চলতে পারি না ।

আমরা যখন চলবো , তখন আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে , আমরা সবসময় এগিয়ে যাবো ।

আমরা পিছনে ফিরে আসতে পারি না ।

তারা সব সময় একটা জিনিষ জিজ্ঞেস করে সিভিল রাইটের ভক্তরা জিজ্ঞেস করে , “আমরা কবে সন্তুষ্ট হবো ?” আমরা সন্তুষ্ট হবো না , যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশদের দ্বারা আমাদের নির্যাতন করে হচ্ছে , ভয় ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছে । আমরা সন্তুষ্ট হবো না , আমরা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত না হবার পর্যন্ত , আমাদের হোটেল , মোটেলে থাকতে সুবিধা না পাবার পর্যন্ত । আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না , যতক্ষণ আমাদের বস্তি থেকে সরে ভালো কোথাও যেতে পারছি । আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না , যতক্ষণ আমাদের সন্তানদের মুখের ভাত কেড়ে নেয়া হয় , “শুধু ফর্সাদের জন্য ” এই বলে তাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয় । আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না , যতক্ষণ পর্যন্ত , মিসিসিপির নিগ্রোবাসিরা তাদের ভোট দিতে না পারছে । নিউইয়র্কে নিগ্রোরা জন্ম থেকে বিশ্বাস করে তারা ভোট দিতে পারবে না। না , একদম না , আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না , যতক্ষণ পর্যন্ত পানি ঈশ্বর প্রদত্ত পানির মতন জিনিষের ভোগের অনুমতি না মিলছে ।

আমি দেখছি , অনেকে বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনারা এখানে এসেছেন । আপনাদের কেউ কেউ জেল থেকে ঘেঁটে এসেছো । অনেকে দাবি জানাতে এসেছেন । পুলিশ নির্যাতনে আপনারা ক্ষত বিক্ষত করে ফেলেছে । আপনারা এখন যাযাবর হয়ে ঘুরছেন । কাজ করেও টাকা আপনাদের হাতে দেয়া হচ্ছে না । যান , আপনারা ফিরে যান , মিসিসিপিতে ফিরে যান , আলাবামাতে ফিরে যান , ক্যারোলিনাতে ফিরে যান , , জর্জিয়াতে ফিরে যান, লুইসিয়ানাতে ফিরে যান, বস্তিতে ফিরে যান , যে যেখান থেকে এসেছেন , ফিরে যান আপনারা । জেনে নেন , এই সমস্যার সমাধান হবে না ।

আমার ভাইয়েরা , আমাদের হতাশায় ভেঙ্গে পড়লে চলবে না ।

এমনকি আজ অথবা কাল , যতই কঠিন সমস্যা আসুক না কেন , আমাদেরকে কঠিনের মোকাবেলা করতে হবে । আমার এখনো স্বপ্ন আছে । অ্যামেরিকার মাটিতেও সেই স্বপ্ন গেঁথে আছে ।

আমার স্বপ্ন এক দিন জাতি জেগে উঠবে । সত্যিকারের ধর্মে বিশ্বাস করবে । “আমরা এক সত্যে বিশ্বাস রাখতে হবে যে , ঈশ্বরের সৃষ্টি সব মানুষ সমান । ”

আমার স্বপ্ন , একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে শ্রমিক , তার  মালিকের ছেলের সাথে বসে একসাথে ভাত খাবে ।

আমরা সপ্ন , একদিন মিসিসিপির , অন্যায় অবিচারের উত্তাপ সরে গিয়ে স্বাধীন , ন্যায়বিচারের এক বাগান হবে ।

আমার স্বপ্ন , একদিন আমার ছোট সন্তানেরা সেই জাতিতে বসবাস করবে , যেখানে বর্ণের পরিবর্তে চরিত্র দ্বারা ভেদাবেদ করা হবে ।

আমরা আজকের স্বপ্ন !!

আমার স্বপ্ন আলবামাতে ভয়ানক বর্ণবাদীরা ত্রাস সৃষ্টি করছে , সরকারের কার্য ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে , একদিন কৃশাঙ্গ সন্তানেরা শ্বেতাঙ্গসন্তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চলবে ।
আমরা আজকের স্বপ্ন !!

একদিন সবাই সব মানুষ এক সাথে বসবাস করবে , ভাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে চলবে । যখন সব মানুষ এক সাথে কাঁধে কাঁধে হাত মিলিয়ে চলতে পারবে , তখনই প্রভুর মহিমা প্রকাশিত হবে ।

এইটাই আমার আশা । এই বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে আমি দক্ষিনে ফিরে যাবো
এই বিশ্বাস আমাদের হতাশার মধ্যে আলোর ঝলকানি দেখাবে , এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা ভেদাভেদ দূর করে ভাতৃত্ব বন্ধনে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো । হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাবো , এক সাথে প্রার্থনা করবো । এক সাথে জেলে যাবো , এক সাথে সংগ্রাম করবো । এক সাথে মুক্তো হবো ।

একদিন সেই দিন আসবে । প্রভুর সন্তানরা সবাই মিলে এই গান গাইবে ,

My country ’tis of thee, sweet land of liberty, of thee I sing.

Land where my fathers died, land of the Pilgrim’s pride,

From every mountainside, let freedom ring!

যদি অ্যামেরিকাকে মহান দেশে পরিণত হতে হয় , এই স্বপ্ন একদিন সত্যি হবেই ।

নিউ হ্যাম্পশায়ার পাহাড়ে থেকে নতুন এক স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

নিউ ইয়র্কের পর্বত থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

পেনসিলভানিয়ার পাহাড়ে থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

কলোরাডো তুষারাবৃত পর্বত থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

ক্যালিফোর্নিয়ার পর্বত থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

শুধু এটাই নয় ,

জর্জিয়ার পাথরের পর্বত থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক

টেনেসি পর্বত থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

মিসিসিপির পাহাড় থেকে স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

প্রত্যেক পর্বত থেকে , স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বেজে উঠুক ।

যখন এটি হচ্ছে , যখন আমরা স্বাধীনতার ঘণ্টার ধ্বনি বাযাতে পারবো , আমরা তখন প্রত্যেক গ্রামে -শহরে নিয়ে যাচ্ছি , আমরা সব জায়গা থেকে নিজদেরকে উদ্দীপ্ত করতে পারবো । তখন সব সন্তানেরা কৃষ্ণাঙ্গ – সাদা মানুষ , প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক সবাই হাতে হাত মিলাতে পারবো । এক শব্দে অঙ্গীকার করতে পারবো ।

Free at last! Free at last!

Thank God Almighty, we are free at last!

 

translated from : http://www.americanrhetoric.com/speeches/mlkihaveadream.htm

আরও গল্প পড়তে ক্লিক করুনঃ

প্রথম স্কুলে যাবার দিনঃ ছোট গল্প

Tagor-Letter to Lord Chelmsford Rejecting Knighthood 

Abraham Lincoln-Gettysburg Address

Of Studies by Francis Bacon

Shooting an Elephant  

The Most Dangerous Game

A Double-Dyed Deceiver 

HEARTACHE

The Luncheon

The Gift of Magi

A MOTHER IN MANNVILLE

 

I Have A Dream -Martin Luther King : Translation in Bangla