গত পরশু মানে এই শনিবারে (২২ নভেম্বর ২০১৪) চট্টগ্রামের ই-কমার্স কোম্পানি গুলোর ও যারা ই-কমার্স নিয়ে আগ্রহী তাদের সঙ্গে আমরা ই-ক্যাব থেকে বসেছিলাম। সব মিলিয়ে মনে হয় আমরা ৩০-৩৫ জনের মত ছিলাম। অনুষ্ঠানের সব আয়োজনই করেছিল Branoo এবং তাদের প্রধান রাজিব রায় এর কাছে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞ।
সবার সঙ্গেই খোলামেলা কথা হয়েছে এবং এ ব্যপারে নিজের কিছু কথা এখানে যোগ করছিঃ
১। চট্টগ্রামে অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে অনেক কোম্পানিই চিন্তা করছে কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে সেখানে ই-কমার্স এর বিকাশ কিছুটা থমকে রয়েছে। প্রচার প্রচারণার অবশ্যই দরকার এবং সেই সঙ্গে ব্যবসা করতে দুই একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। প্রচার প্রচারণার জন্য মেলা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, আড্ডা এগুলোর দরকার। আমরা ই-ক্যাব থেকে উদ্যোগ নেয়া শুরু করেছি তবে যা বেশি দরকার তাহল চট্টগ্রামের যারা রয়েছেন তাদের এই ব্যপারে সক্রিয় হওয়া। তারা সক্রিয় হলেই অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।
২। কুরিয়ার সার্ভিস নিয়ে সমস্যা খুবই ভোগাচ্ছে সেখানকার সবাইকে। কোন প্রডাক্ট পাঠাতে একদিকে সময় বেশি লাগছে, টাকা বেশি লাগছে আর অন্যদিকে সমস্যায় পড়লে কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর থেকে সাপোর্ট পাওয়া যায় না। ঢাকাতে পন্য হয়তো পাঠানো যায় কিন্তু ঢাকার বাইরে পন্য পাঠাতে তারা অনেক ক্ষেত্রেই পারেন না উচ্চ চার্জের জন্য। এ সমস্যা দূর না করতে পারলে তাদের ব্যবসার সম্প্রসারন কঠিন হবে।
৩। কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ ও পেশাদার কর্মীর অভাব। এ বিষয়টি নিয়ে আমার ব্যক্তিগত উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। কারণ বাংলাদেশে অনেক শিক্ষিত লোক বেকার থাকলেও দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এখন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে কোন ডিগ্রি চালু করেনি।
৪। অনলাইনে কার্ড ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করার ব্যপারে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব অনেকের মধ্যেই সেখানে রয়েছে বলে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তারা জানালেন। ফলে চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশে মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের বাস হলেও বাজার এখনো বেশ সীমিত।
৫। অনলাইন শপিং সাইট গুলোর জন্য সাপোর্টিং কিছু কিছু বিষয়ের জন্য তাদের ঢাকার উপর নির্ভর করতে হয়। ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, এসইও এসব ব্যপারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ঢাকার উপর নির্ভর করতে হয়। আমার মনে হয়েছে এর মূল কারণ হল চট্টগ্রামের কোম্পানিগুলো কিছুটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঢাকাতে এখন সপ্তাহের ২-৩ দিনই কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকে এবং একে অন্যের দেখা হয় ও পরিচয় হয় এবং এভাবেই বিশ্বাস, আস্থা এবং পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে।
৬। মিটিং এ একটা কথা উঠে এল চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজারে ই-কমার্স সেক্টরের বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বিশেষ করে পর্যটন খাতে।
চট্টগ্রামে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?
![]()
