ই-ক্যাবের জন্য অনেক কষ্ট করেছি দিনের পর দিন মাসের পর মাস। গত বছর এ সময়ে আমাদের রেজিস্ট্রেশান ছিল না এবং এজন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন কারণে অনেক কষ্টের সময় পার হয়েছি। এখন ই-ক্যাব প্রতিষ্ঠিত এবং ই-কমার্স নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আগ্রহ অনেক বাড়ছে। এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দুইই আমি। ই-ক্যাবের সবচেয়ে পরিচিত মুখও আমি ঘরে এবং বাইরে।
তাই স্বভাবতই এখন নিয়মিত সরকারি অফিসে (মন্ত্রণালয়ে), বেসরকারি বড় বড় কোম্পানি, এফবিসিসিআই, বিদেশি দুতাবাস, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মিডিয়া- এসব মিলিয়ে আমার ডাক পরে সপ্তাহে ৩-৪ বার। যত দিন যাচ্ছে এ ধরনের মর্যাদা, সন্মান, খ্যাতি, সুনাম বাড়ছে এবং বাড়বে। কথা বলতে পারি, লিখতে পারি আর বাংলা আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই পারি। লেখাপড়া ও গবেষণার দিকে আগ্রহ আছে, কিছুটা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে। তাই ধীরে ধীরে ই-ক্যাব এর কল্যানে ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিদিন একটু একটু করে হয়তো এগিয়ে যাবো এবং সেই সম্ভাবনা এখন বেশ উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে।
তবে আমার স্বপ্ন হল তরুণদের নিয়ে এবং তাদের জন্য সব সময় আমি চেষ্টা করে যেতে চাই যতদিন বেঁচে থাকি। আমার কোন রকম রাজনৈতিক স্বপ্ন ছিল না বা নেই, কোন ধরনের নেতা হবার ইচ্ছা নেই তা সেটি রাজনীতিতে বা ব্যবসা জগতে বা কোন ধরনের কমিউনিটিতে। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট হবার কথা ছিল না আমার- অন্য কেউ এই ধরনের এত কষ্টের দায়িত্ব নিতে রাজি হয় নি তখন। আর এখনো ই-ক্যাবের অভ্যান্তরে সেই অর্থে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কেউ নেই বলে নির্বাচনে দাঁড়ানো বা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
যাই হোক, আমি স্বপ্ন দেখি তরুণদের জন্য ভাল কিছু করার এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি হতে পারে এমন প্লাটফর্ম করার। ইংরেজি গ্রুপ দাড়িয়ে গেছে এবং একের পর সাফল্যের গল্প দেখতে পারছি এখন। আমার অনেক বছরের স্বপ্ন ছিল ইংরেজি ও আইসিটিকে এক করে কিছু করার। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের ইংরেজির দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে সেই ২০০১ সাল থেকে প্রতিদিন চিন্তা করেছি, গবেষণা করেছি এবং তা এখন কাজে আসছে। তাই এখন ইংরেজি চর্চার জন্য ওয়েবসাইট, ফেইসবুক আর স্কাইপ ব্যবহার করছি বেশ সাফল্যের সঙ্গে।
বুঝতে পারছি যে আগামিবছর অনেকেই এদিকে কাজ করার জন্য আমাকে চিনবেন। অনেক ফ্রিল্যান্সার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে। ৪৮ দিনে অন্তত ২০-২২ জন ইংরেজিতে কথা বলা শিখতে পেরেছেন। যারাই নিয়মিত সময় দিচ্ছেন তারাই এগিয়ে যাচ্ছেন এবং এক দুজন নয়, অনেক মানুষ।
কিছু মানুষ ইংরেজিতে দক্ষ হলে বাংলাদেশের ই-কমার্স এর জন্য ইংরেজিতে কন্টেন্ট তৈরির দিকে মন দেব। এটির প্রচণ্ড দরকার কারণ যখন বিদেশি দুতাবাসে যাই তখন এর গুরুত্ব হাড়ে হাড়ে টের পাই। হয়তো আর কয়েকমাস লাগবে কিন্তু আমি খুব আশাবাদী যে অন্তত ১০ জন পেয়ে যাবো আমার সঙ্গে মিলে এদিকে চেষ্টা করবে।
ই-ক্যাব নিয়ে কষ্ট করার অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে কিছু লোক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করবে, ফেইসবুকে আক্রমণ করবে, বাজে কথা বলবে। ই-ক্যাবের অভিজ্ঞতা থেকে এও জানি যে এসব নিয়ে ১% মাথা ঘামানো চলবে না। আমি তো জানি যে ই-ক্যাবের ৩৭৫ মেম্বারের মধ্যে মনে হয় অন্তত ২৭৫ জন আমার মাধ্যমে মেম্বার হয়েছেন। একটি অ্যাসোসিয়েশান দাড় করানো কত কষ্টের তা আমি জানি, কত কষ্ট করেছি, কত আত্বত্যাগ করেছি তাও জানি। তাই কোন কিছুকে পাত্তা না দিয়ে চেষ্টা করবো তরুণদের জন্য ইংরেজির এই প্লাটফর্মকে দাড় করাতে।
যারাই সুফল পাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আরও অনেকে যোগ দেবেন তা আমি জানি। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ এ স্বপ্ন পুরনে আমার সঙ্গে থাকার জন্য।
![]()
