Story : A MOTHER IN MANNVILLE (এ মাদার ইন ম্যানভেল)
Written by: Marjorie Raulings

এতিমখানাটি ছিল ক্যারলিনা পর্বতের উপরে । নিরিবিলি পরিবেশে লেখালেখি করার জন্য আমি শরৎ কালে সেখানে গিয়েছি । অনেক সময় ধরে উপক্রান্তিয় অঞ্ছল বা গরম দেশের ম্যালেরিয়া থেকে করার জন্য পাহাড়ের হাওয়ার কাছে আশ্রয় নিতে চাচ্ছিলাম । কিন্তু ঘরের কোথা খুব মনে পড়ছিলো , অক্টোবরে ম্যাপল গাছের লাল পাতা , ভুট্টার গাঁদা , কুমড়া , কালো আখরোটের গাছ কেন জানি সব মিস্‌ করছিলাম । আমি এতিম খানার কেবিনে চার পাশে ওগুলো সব পেলাম । আমি কেবিন নিলাম , আমি আগুনে জ্বালানোর কাঠের জন্য একজন জিজ্ঞেস করছিলাম ।

পড়ন্ত বিকাল বেলায় , টাইপ রাইটার থেকে চোখটা উপরে তুললাম । দেখলাম , এক ছেলে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে । আমার কুকুর তার পাশে , তাকে নিয়ে আমি সব জায়গায় যাই । কিন্তু ছেলটাকে দেখে কোন আওয়াজ করলো না । ছেলেটার বয়স সম্ভবত বারো বছর হবে , কিন্তু বেঁটে ছিলো । তাঁর গায়ে ছিল ছেঁড়া একটা জামা , ঠিলা ঢালা একটা পায়জামা আর পা খালি । সে বললো , “আমি আজকে কিছু কাঠ কেটে দিতে পারবো । ”
“তুমি? কিন্তু তুমি তো অনেক ছোট । ”
“কাঠ কাটার জন্য , সাইজ কোন ব্যাপার না , অনেক বড় ছেলেরাও ভালো কাঠ কাটতে পারে না , আমি এতিম খানায় অনেক দিন ধরে কাঠ কাটি ” সে বললো ।
“ভালো কথা । ওখানে কুঠার আছে , দেখি , তুমি কি পারো । ” আমি চলে আসলাম , আর সে কাঠ কাটা শুরু করলো । কাঠ কাটা আঘাতের শব্দের মধ্যে ছন্দ , দৃঢ়তা ছিলো । পরে আমি তার কথা ভুলেই গেলাম । বৃষ্টি ছাড়া আরও কোন শব্দই নেয় ।মনে হয় প্রায় দেড় ঘণ্টার পর কেবিনে ছেলেটার পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম । সে বললো । “আমাকে এখন রাতের খাবার খেতে যেতে হবে , আমি আবার কালকে আসবো । ”

আমি বললাম , ” তুমি যা করেছো , তার জন্য আমি তোমাকে পারিশ্রমিক দিবো ” ভাবছিলাম , আমাকে অন্য বড় কোন ছেলে দেখতে হবে । দুইজন একসাথে কেবিনে গেলাম । অনেক শক্ত কাঠ কাটা হয়ে গেছে । আমি অবাক হয়ে গেলাম । “কিন্তু তুমি তো একজন পুরো মানুষের মতন কাজ করেছো , দারুন করে স্তূপ করা রাখা হয়েছে । ”

আমি তার দিকে তাকালাম । আসলে এই প্রথম দেখলাম , তার চুলের রঙ ভুট্টার পাতার মতন ,চোখজোড়া ছিল নির্লিপ্ত , পাহাড়ের আকাশে বৃষ্টি শুরু হবে হবে হবে এই রকম অবস্থা , ধুসর আর নীলের অপ্রুপ মিলন । আমি তাকে সিকি পয়সা দিয়ে বললাম , “তুমি কাল বিকালে আসতে পারো । অনেক ধন্যবাদ তোমাকে । ”

দিনের বেলা , কাঠ কাটার শব্দের জন্য আমি আধা জাগা ছিলাম । এতো সুন্দর করে কাঠ কাটা হচ্ছে দেখে আমি নিশ্চিন্তে আবার ঘুমাতে গেলাম । যখন ঘুম ভেঙ্গে গেলো , তখন সে চলে গেল । কাঠের গাঁদা গুলো অনেক সুন্দর করে কেবিনের পাশে রাখা ছিল । সে স্কুল থেকে এসে এতিম খানায় না যাবার আগ পর্যন্ত কাঠ কেটেই গেলো ।

তার নাম জেরি । যখন তার চার বয়স তখন থেকে সে এইখানে । আমি তার চার বছরের সময়কার ছবি মনে করতে পারি ! গাঢ় ধূসর-নীল চোখ , একই রকম , স্বাধীনতা ? না !! এটিকে বলা হয় অখণ্ডতা বা সততা । এটি সাহসের উপর দাড়িয়ে গেছে কিন্তু এটি নির্ভিকতার থেকেও উপরে । এটি সততা , কিন্তু ন্যায়পরায়নতা থেকে আরও উপরে ।

কুঠারের হাতলটা একদিন ভেঙ্গে গেলো । জেরি বললো , এতিম খানার কাঠের দোকান ঠিক করে দিবে । আমি সেটার জন্য টাকা দিতে চাইলাম , কিন্তু সে নিলো না । “আমি টাকা দিব এটির জন্য , কারণ আমি এইটা ভেঙ্গেছি । আমি অসতর্ক ভাবে কাজ করছিলাম । ‘

“কিন্তু কেউ সবসময় ঠিক মতন আগাত করতে পারে না , হাতলের সমস্যা ছিল ” আমি বললাম ।

এই কথা বলার পরে সে টাকাটা নিলো । তার কাছে অসাবধানতা বলতে কিছু ছিল না । সে স্বাধীন , যে কোন কাজ অনেক সাবধানে করে । যদি কোন ধরণের ভুল করে থাকে তাহলে কৌশলে না এড়িয়ে সরাসরি দায় স্বীকার করে নেয় । সে আমার জন্য বাড়তি অনেক কাজ করেছিলো । এই ধরণের সহৃদয় ব্যাপার , আমার মহান ব্যাক্তিদের মধ্যে দেখতে পাই । কোন ধরণের শিক্ষা এইগুলো শিখাতে পারে না । এইগুলো হঠাৎ করেই মন থেকে উদয় হয় , কোন ধরণের পূর্ব অভিজ্ঞতার দরকার পড়ে না । চুল্লির পিছনে একটি গর্ত ছিলো , আমি খেয়াল করি নি সেটা । সেইখানে সে কাঠ রেখেছিলো , যাতে আমি সব সময় এমনকি ঠাণ্ডার দিনেও শুকনো কাঠ পাই । কেবিনের যাবার পথে একটি পাথর নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিলো । সে সেখানে গর্ত করে , ভালো করে লাগিয়ে দিলো । যদিও সে নদীর তীর দিয়ে শর্টকাটে আসতো ।

আমি তার আন্তরিকতার জন্য ক্যান্ডি , আপেল দিতাম , । তার বদলে “ধন্যবাদ ” শব্দটা বলতে পারতো , কিন্তু মনে হয় তার ব্যবহার সে জানতো না , দেখতাম সে নিরব থাকতো ,একবার উপহারগুলোর দিকে তাকাতো , আরেকবার আমার দিকে , চোখে একটি পর্দা উঠে যেতো , ভালো করে দেখি তার চোখ জুড়ে আছে শুধু কৃতজ্ঞতা , মমতা , এক ধরণের বিশ্বস্ততা যা মনে ভালো করে লেগে আছে ।

সে আমার কুকুর , প্যাটের সাথে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো । তাদের সাথে অদ্ভুত একটা যোগাযোগ দেখতে পেতাম । মনে হয়, তাদের মনে একই ধরণের গুন বহন করছে , একই ধরণের জ্ঞান । ব্যাখ্যা করাটা অনেক কঠিন ব্যাপার , কিন্তু এটি উপস্থিত আছে ।

যখন আমি সাপ্তাহিক বন্ধে ঘুরতে বাইরে যেতাম , তখন আমি প্যাটকে তার কাছে রেখে যেতাম । সোমবারের দুপুর বেলায় , কেবিনে যাবার আগে পাহাড় জুড়ে ভারি কুয়াশা পড়ছে । কুকুরকে খাওয়ানো হয়ে গিয়েছিলো । জেরি বিকালের আগেই চলে আসলো , চিন্তিত ছিল । অধীক্ষক (superintendent ) বলেছিলেন কেউ কুয়াশায় বাইরে এজতে পারবে না । আপনি কাল রাতে আসেন নি । তাই আমি আমার সকালের নাস্তা থেকে তাকে খেতে দিয়েছি । আমি তাঁকে কিছু হতে দেই নি ।

আমি তাকে পারিশ্রমিক স্বরূপ কিছু টাকা দিলাম , সে দেখে চলে গেলো । রাতের অন্ধকারে সে আবার আসলো , দরজায় নক করলো । “আসো , জেরি । এতো রাতে যদি বাইরে থাকার অনুমতি পাও ” আমি বললাম ।
“আমি তাদেরকে বলেছি — গল্প করার জন্য আপনাকে দরকার । ” সে বললো ।
“তা ঠিক । ” আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম । “আমি শুনতে চাই , কিভাবে তুমি কুকুরটাকে সামলিয়েছো ”

সে আমার সাথে আগুনের সামনে বসেছিলো । কিভাবে দুইটা দিন তারা এক সাথে কাটালো তা বললো । কুকুরটি তার কাছে বসে পড়লো । সেখানে আরাম পেলো সে, সেটা আমার কাছে পাই নি । ছেলেটি বলতে লাগলো ” সে আমার সাথে ঠিক ছিল , কিন্তু ওইখানে লতাপাতা কিছু আছে । ঘাসগুলো অনেক বড় বড় । আমি সেখানে লুকিয়ে পড়লাম । আমি শুনতে পাই নি প্যাট যে আমাকে খুচ্ছিলো । যখন সে আমাকে খুঁজে পেলো , পাগল হয়ে গেলো ,খুশিতে আমার চারপাশে ঘুরতে লাগলো । ”
আমরা আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম ।
সে বলতে থাকলো “সেখানে আপেল গাছের গুড়ি ছিল , আগুনে ভালো জ্বলে ”
আমরা খুব কাছাকাছি বসেছিলাম , হঠাৎ সে তাড়াতাড়ি কথা বলা শুরু করলো ।

“তোমাকে কিছুটা আমার মার মতন লাগে । বিশেষ করে , যখন অন্ধকারে , আগুনের আলোতে ” সে বললো ।
“কিন্তু জেরি , তুমি যখন এখানে এসেছিলে , তখন তোমার চার বছর বয়স মাত্র । তোমার কি সব মনে আছে ?”
“আমার ,মেননভাইলে থাকে । ” সে বললো ।
আমি কেন জানি না , যখন সে মার কথা বলছিলো , আমার কেমন জানি অস্বস্তি লাগছিলো । পরে আমি আমার কষ্টটা বুঝতে পারলাম । আমি অস্বস্তির মধ্যে ছিলাম , মনে হচ্ছিলো , যে কারোর মহিলার উচিত এমন ছেলেকে ফেলে দিয়ে চলা , এতিমখানাটা অনেক ভালো ছিলো । খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে ছিলো , সবাইকে ভালো জিনসপত্রই দেয়া হতো , যাতে ছেলেদের কোন অভাব না থাকে । কিন্তু সেই ছেলেটা অনেক শুকনো ছিলো । মনে হয় , মায়ের পেটে ছেলেটা কিছুই পাই নায় ।
“তুমি কি তাঁকে পরে আর দেখেছো ” ?
” প্রত্যেক গ্রীষ্মকালে তিনি আমাকে দেখতে এখানে আসে । ”

আমি প্রায় কেঁদে দিতে চাচ্ছিলাম “তুমি কেন তাঁর সাথে থাক না ? তোমাকে কিভাবে এইভাবে রেখে চলে যেতে পারে ? ”
সে বললো , ” যখন তিনি পারে ,মেননভাইল থেকে এখানে আসে । তাঁর এখন কোন জব নেই । ”
তার মুখখানা আগুনের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো । ” তিনি আমাকে একটি কুকুর ছানা দিতে চেয়েছিলো । কিন্তু তারা শুধু একজন ছেলের হাতে কুকুর ছানা দেয় না । আপনার মনে আছে , আমি গত রবিবারে এক কোট পড়েছিলাম ? ” সে অনেক খুশী হয়ে বললো , “সেটি আমার মা আমাকে ক্রিস্টমাসের উপলক্ষে পাঠিয়েছিলো ।এর আগের ক্রিস্টমাসে ”
লম্বা একটা শ্বাস নিলো । আবার বলতে শুরু করলো , ” তিনি আমাকে এক জোড়া রোলার স্কেটস পাঠিয়েছিলো । , আমি সেগুলো অন্যদেরকেও ব্যবহার করতে দেই । তারা অনেক সতর্কতার সাথে ব্যবহার করে । ”
ছেলটাকে এভাবে ফেলে রেখে চলে যাবার তো কোন কারণ ছিল না । দারিদ্রতা ছাড়া আর কি হতে পারে ?
” প্যাটের যত্নের জন্য যে টাকাটা আপনি আমাকে দিয়েছিলেন আমি নিতে চাচ্ছি ” সে বললো । “তাঁকে এক জোড়া হাত মোজা কিনে দিতে হবে ”
আমি তাঁকে আর ভালো লাগে না । দারিদ্রতা , না , রুটি খাবারের চেয়ে সেখানে আরও অনেক বড় কিছু ছিলো । শরীর যতক্ষণ তাহকে আত্মাও ততক্ষন থাকে । সে তাঁকে গ্লাভস কিনে দেয়ার জন্য টাকা নিলো , যার মা তাঁকে ছেড়ে থাকে , সেই মেননভাইলে , স্কেটস পাঠিয়ে খুশিতে থাকে ।
“তিনি সাদা রঙের গ্লাভস পড়ে । আপনার কি মনে হয় আমি এক ডলারে তা পাবো ” সে বললো ।
” আমার মনে হয় ” আমি বললাম ।

আমরা আর জেরির মার প্রসঙ্গ নিয়ে আর কথা বলে নি । তার মা আছে , কোন ভাবে , আমি তার প্রতি এক ধরণের কষ্ট থেকে রেহাই পেলাম । সে এখন একা নেয় , এখন আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই।
সে প্রতিদিন কাঠ কাটতে আসতো , আর আমাকে ছোটখাট সাহায্য করতো । আস্তে আস্তে অনেক ঠাণ্ডা পড়ছিলো । মাঝে মাঝে তাকে থেকে যেতে বলতাম । সে আগুনের সামনে মেঝতে কুকুরকে জড়িয়ে শুয়ে থাকতো । কোন কোন দিন জমিতে তারা আনন্দে দৌড়াতো । আমার জন্য লাল ম্যাপল পাতা , ঝুপড়ী সহ চেস্টনাট (এক ধরণের বাদাম) নিয়ে আসতো ।
আমি চলে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম । আমি তাকে বললাম , ” তুমি আমার অনেক ভালো বন্ধু , জেরি । আমি তোমাকে অনেক মিস করবো । প্যাটও অনেক মিস করবে , আমি কাল চলে যাচ্ছি ” । সে কিছুই বললও না । নীরবে চলে যেতে দেখলাম ।
মনে করেছিলাম কালকে সে আসবে । কিন্তু সে আসে নি । দিনের শেষে , আমি এতিম খানার সামনে দাঁড়ালাম । মিসেস ক্লার্ককে আমি কেবিনের চাবি দিলাম ।
” আপনি কি জেরিকে ডাকবেন । আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিবো ” ।
“আমি তো জানি না সে কোথায় , এমি একটু চিন্তিত , সে ভালো নেই , সে দুপুর বেলা খাবার খায় নি । একজন , তাকে পাহাড়ের লতা পাতার দিকে যেতে দেখেছে ” তিনি বললেন ।
আমি মনে মনে স্বস্তি পেলাম । কারণ তখন আমার জন্য তার কাছ থেকে বিদায় জানানো সহজ ব্যাপার ছিল না ।
আমি বললাম , ” আমি আপনার সাথে তার মার ব্যাপারে কথা বলতে চাচ্ছিলাম , – কেনো সে এইখানে থাকে , কিন্তু আমার তাড়া আছে , এইখানে কিছু টাকা আছে । ক্রিস্টমাস , তার জন্মদিন উপলক্ষে আমি আপনাকে তার জন্য কিছু জিনিষ কিনে দিতে চাই , যদি আমার বদলে আপনি তাকে এইগুলো দেন , তাহলে ভালো হয় । আমি যদি এক ব্যাপারে তার স্কেটসটা মিলাতে পারতাম । !

তিনি বুড়ীদের মতন করে চোখ মিট মিট করে তাকালো , তিনি বললেন ” এইখানে খুব বেশী স্কেটস ব্যবহার হয় না । ”
তাঁর বোকার মতন কথা বার্তা দেখে কিছুটা বিরক্ত হলাম।
“আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি আপনাকে ! তার মা যে স্কেটস পাঠিয়েছে শুধু তা দেখবো । আমার পছন্দের স্কেটস যদি তাঁর মার পাঠানো স্কেটসের সাথে মিলে যায় ! ”
তিনি এখন আমার দিকে তাকিয়ে রইলো ।
“আমি কিছুই বুঝতে পারছি না । তার কোন মা নেই , তার কোন স্কেটসও নেই । ”

Translated from : http://eng.1september.ru/article.php?ID=200801208

 

A MOTHER IN MANNVILLE :Translation In Bangla | Razib Ahmed