আর কটা দিন তারপর বেলা মুক্তি

 

না, এটা কোনো রোমান্টিক বা প্রেম-ভালোবাসার পোস্ট না, আগেই বলে রাখছি। এটা নিজের কথা এবং নিজেকে নিয়ে পোস্ট।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে চেষ্টা করেছি কয়েকটা কনফারেন্সে আবেদন বা অ্যাবস্ট্রাক্ট সাবমিট করতে। ছয়টাতে হয়েছে। তার মধ্যে চারটি হচ্ছে বাংলাদেশে, একটি ভারতে, একটি তুরস্কে।

সামনে হয়তো আরও হবে। তবে আপাতত বাংলাদেশের এই চারটি কনফারেন্সে প্রেজেন্টেশন দেওয়াই আমার একমাত্র চিন্তাভাবনা আগামী দুই মাসের মধ্যে।

স্বাভাবিকভাবেই অনেক লেখাপড়া করতে হচ্ছে এই রিসার্চগুলোর জন্য। কনফারেন্সে যারা বক্তৃতা দিচ্ছেন, তাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমি সেদিক দিয়ে মহা ব্যতিক্রম।

তাই রিসার্চের দিকে অনেক কিছুই শিখতে হচ্ছে, জানতে হচ্ছে। আগে থেকে অনেক কিছু অবশ্য জানতাম। আবার নতুন করে অনেক কিছু ঝালাই করে নিতে হচ্ছে।

এর মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্সে আমি বক্তৃতা দিচ্ছি জিআই পণ্য নিয়ে। আমার কাছে সহজ লাগছে এই জন্য যে, জিআই নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। এখনও প্রচুর লেখাপড়া করি। প্রতিদিন অল্প হলেও, ১০ মিনিট হলেও জিআই পণ্যের পেছনে সময় দিই। কারণ সামনের দিনগুলোতে রিসার্চের কাজে বা অন্যান্য কাজে জিআই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হবে।

এর বাইরে রয়েছে ই-কমার্স, ইংরেজি শিক্ষা বা ইংরেজি ভাষা, নারী উদ্যোক্তা, দেশি পণ্য। এসব বিষয় নিয়েই সামনে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। সেই সঙ্গে ইতিহাস নিয়ে, আর্কিওলজি বা প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করতেও ভালো লাগে।

আগের সময়ের বা আগের জীবনের তুলনায় এটাই ব্যতিক্রম বা আলাদা। এই পার্থক্যটা আমার জন্য একটা বড় আশীর্বাদ হয়েছে। প্রথম প্রথম একেবারেই অ্যাডজাস্ট করতে পারতাম না। কারণ আমি যা-ই চিন্তা করতাম, অন্যদের নিয়ে চিন্তা করতাম। এখন শুধু চিন্তা করছি নিজেকে নিয়ে তা নয়, নিজের কাজ মন দিয়ে করতে পারছি বা করছি।

এটা অবশ্যই একটা বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে এবং আগের জীবনে হয়তো চাইলেও আর ফিরে যেতে পারব না। তবে এখনও মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে। খারাপ লাগার কারণ হচ্ছে, আমার যা দক্ষতা, মেধা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা—সবকিছুই আমি চাইতাম অন্যদের কল্যাণে বা সমাজের মঙ্গলের জন্য উৎসর্গ করতে, কাজে লাগাতে। এখন যা করছি, সবই নিজের জন্য করছি। এটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে আর একটু সময় লাগবে।

তবে আনন্দ পেতে শুরু করেছি। কাজে আনন্দ পেতে পারলে, যে কাজে আনন্দ পাওয়া যায়, সেখানে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব—সেটা আমি জানি। আর কষ্ট করতে আমার কখনোই খারাপ লাগে না। বরঞ্চ পরিশ্রম করতে ভালো লাগে। কষ্ট করে যদি কোনো কিছু অর্জিত হয়, তাহলে এর সুখ ও আনন্দ সম্পূর্ণ অন্যরকম।

এখন যেহেতু পুরোপুরি নিজের কাজ নিয়ে চেষ্টা করছি, তাই আগের মতো অনেকে আর পাগল হয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী হবেন না। এখন যা হবে, যারা দেখা করতে চান বা যারা পোস্টে লাইক, কমেন্ট করছেন, তারা এটা মেনে নিয়েই করছেন যে আগের মতো আমি নেতাগিরি করব না। তাই আমার সঙ্গে দেখা করে আসলে সত্যিকার অর্থে কোনো লাভ নেই বা আমার পোস্টে লাইক, কমেন্ট দিয়েও কোনো কিছু হবে না।

অনেকেই বুঝে গিয়েছেন এবং ভালো হয়েছে। কারণ এর ফলে সামনে যারা দেখা করতে আসবেন, তারা সত্যিকার অর্থেই দেখা করতে আসবেন। অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না। অন্য কোনো চিন্তা থাকবে না।

তবে এটাও সত্যি কথা যে, আমি যেভাবে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছি, আগের মতো আর অন্যদের সঙ্গে দেখা করা, সময় দেওয়া, কথা বলা—এগুলো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। সামনে যা দেখা-সাক্ষাৎ হবে, সবই আমার নিজের কাজের জন্য। এটাই বাস্তবতা।

অনেকেই ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে তাদের ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ চান। এটা আমি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি এই জন্য যে, আসলে আগে দিনটা চব্বিশ ঘণ্টাই অন্যদের চিন্তা করতাম। তাই পরামর্শ দেওয়া অনেক সহজ ছিল। এখন পরামর্শ দিলে সেটা ভুল পরামর্শ হবে প্রথমত, আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে, একটা পরামর্শ আজকে দিলাম, সাত দিন পরে আবার নতুন করে নক দিলে সেভাবে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব না। এই বাস্তবতা আমি মেনে নিয়েছি।

অন্যরা যখন দেখে আমি মেসেজে রিপ্লাই দিই না, তখন তারাও বুঝে গেছেন যে, আমাকে আর এসব নিয়ে মেসেজ দিয়ে কোনো লাভ নেই। এভাবেই দিন এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে আনন্দ এইখানেই যে, আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারছি। গানের কথার সঙ্গে এটাই মিল। আমি আমার নিজের মতো করে চলতে পারছি, চলব এবং হয়তো আরও অল্প কিছু সময় লাগবে।

যারা প্রতিদিন আমার পোস্টগুলো পড়ছেন, তাদের সংখ্যা অনেক। কারণ আমার পোস্টের গড় ভিউ প্রতিদিন পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার হয়। এটা বিশাল একটা সংখ্যা। অবশ্য আগে এক লাখ ছিল। তারও আগে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ছিল। সে তুলনায় পঁচিশ-ত্রিশ হাজার অনেক কমে গেছে। কিন্তু তারপরেও সংখ্যাটা বিশাল এবং সামনে হয়তো বাড়বে।

কারণ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে পাঠক তৈরি হচ্ছে, যারা ঠিক আমার থেকে নেতাগিরি আশা করেন না। আমার পোস্টগুলো পড়তে ভালো লাগে দেখেই পড়ছেন। আমাকে মন থেকেই পছন্দ করেন, শ্রদ্ধা করেন। ঘুরে ফিরে এটাই আসল ব্যাপার

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *