Story  Name  : HEARTACHE  (হার্টটেক )
Written   by     : Anton Chekhov

“আমার কষ্টের কথা কার কাছে বলবো ? ”

গোধূলি সন্ধ্যা । রাস্তার বাতির চারপাশে হাল্কা তুষারের কণা বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে ,বরফগুলো সবে মাত্র গলতে শুরু করেছে , ঘোড়ার পিঠে , ঘাড়ে , মাথায় পাতলা বরফের আবরণ পড়েছে । স্লেজ চালক , আইওনা পটাপভ পুরো ভুতের মতন সাদা । সে স্লেজের স্টিয়ারিংকে নিজের শরীরের সাথে পেঁচিয়ে বক্সের উপর বসে থাকে । যদি তুষার তাঁর গায়ের উপরও পড়ে তাহলে সে স্টিয়ারিং নাড়াতে চিন্তাও করে না । তাঁর ছোট ঘোড়া দেখতে সাদা , চুপচাপ । তাঁর স্তব্ধতা , দৌড়ানো , কাঠির মতন চালচলন দেখতে আধাপয়সার কাঠের ঘোড়ার মতন মনে হয় । সে তাঁর চিন্তার মধ্যে বুঁদ হয়ে থাকে । তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কেউ যদি ডোবায় নিক্ষেপ করা হয় , তারপরেও সে মুখ থেকে আওয়াজ করবে কিনা সন্দেহ ।

আইওনা এবং তাঁর ঘোড়া যে বের হয়েছে অনেকক্ষন হলো । দুপুরবেলার আগেই তারা এক গজ পথ পাড়ি দিলো , কিন্তু একটা ভাড়াও পেলো না । কিন্তু এখন সন্ধ্যার ছায়া শহরে পড়ছে । মিটির মিটির করে জ্বলতে থাকা রাস্তার বাতিগুলো স্পষ্ট হচ্ছে , মানুষের ছোটাছুটি আস্তে আস্তে বেড়েই চলছে ।

“স্লেজ !! ভয়বর্গসকায়াতে যাবেন !! ” কথাটি আইওনার কানে গেলো ।

আইওনা চলা শুরু করলো । তুষারে আবৃত তাঁর চোখের পর্দার মধ্য দিয়ে মিলিটারি ওভারকোট পড়া এক অফিসারকে দেখতে পেলো ।

“ভয়বর্গসকায়ার দিকে । আপনি কি এখনো ঘুমান ?” অফিসার আবার বললো ।

আইওনা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো । লাগামে টান দেয়ার সাথে সাথে ঘোড়ার পিঠ , ঘাড় থেকে জমানো তুষার বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো । অফিসার স্লেজের ভিতর উঠলো । স্লেজ ড্রাইভার সিটে বসলো । চাবুক যতটুকু না তাঁর চেয়ে জোরে মারা শুরু করলো । ঘোড়াও ঘাড় বের করে ,তাঁর কাঠির মতন পা গুলো উল্টা পাল্টা ভাবে বাড়ানো শুরু করলো ।

“তুই কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস , শয়তান ? ” অন্ধকারে এদিক সেদিক চলার মধ্যে আইওনা চিৎকার শুনতে পেলো , ” তুই কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস শয়তান ? ডান দিকে যা !! ”

“কিভাবে চালাতে হয় তুই তো কিছুই জানিস না , ডান দিকে যা ‘ অফিসার রেগে কথা বললো ।

কোচম্যান তাঁর গাড়ি পাশ কেটে দিব্যি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে , এক পথচারী তাঁর কাঁথ দিয়ে ঘোড়ার নাক মুছে দিতে দিতে রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওনার দিকে রাগান্বিত ভাবে তাকালো । আইওয়ান খুশ খুশ করে কাসতে লাগলো , যদিও সে রাজার মতন সিংহাসনের উপর বসে ছিলো । কনুই নড়িয়ে চার চোখদুটো খুললো , যেনো সে কোথায় আছে , কেন সে এখানে আছে কিছুই জানে না ।

” সবগুলা রাস্কেলের দল । ঘোড়ার পায়ের নিচে তারা কিভাব পড়বে সে চিন্তা করে ” অফিসার রসিকতা করে বললো ।

আইওনা তাঁর ভাড়ার দিকে তাকালো । তাঁর মুখ দিয়ে সে কিছু বলতে চাচ্ছিলো , কিন্তু নিশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নি ।

“কি ?” অফিসার জিজ্ঞেস করলো ।

আইওনা বাঁকা করে একটা হাসি দিলো । শুকনো কণ্ঠে বললো , ” আমার ছেলে … আমার ছেলে গত সপ্তাহে মারা গিয়েছে , স্যার ।”

“হুম !! কিভাবে মারা গেলো ? ”

আইওনা তাঁর হাতে থাকা ভাড়ার দিকে তাকিয়ে বললো ,

“কে বলতে পারে !! অবশ্যই জ্বরের জন্য । ……… তিন দিন ধরে হাসপাতালে পড়ে ছিলো , তার পর মারা গেলো ,সব গডের ইচ্ছা “”

” ঘাড় ঘুরা , শয়তান !! ” অন্ধকার থেকে বেরিয়ে শব্দটা কানে আসলো । তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে , বুইরা কুকুর ? দেখ্‌ , তুই কই যাচ্ছিস !! ”

” চালা ব্যাটা , চালা ! এইভাবে চালাইলে কালকেও পৌছতে পারবো না । তাড়াতাড়ি কর্‌ !”

স্লেজ ড্রাইভার গলা বের করে , তাঁর সিটে বসলো । চাবুক জোরে মারা হচ্ছে । কয়েকবার সে অফিসারের দিকে তাকালো । কিন্তু তারপর চোখ বন্ধ করে বসে রইলো । আর অন্যদিকে কিছুই শোনার প্রয়োজন মনে করলো না । ভয়বর্গসকায়াতে তারা ভাড়া থামিয়ে , আইওনা রেস্টুরেন্টের সামনে থামলো । বক্সের উপর আরাম করে বসে রইলো । আবার তুষার তাঁকে আর তাঁর ঘোড়াকে আবৃত করে ফেললো । এক ঘণ্টা … দুই ঘণ্টা চলে গেলো ।

তিন যুবক , পায়ে গলসের জুতা পড়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে । এদের মধ্যে দুইজন লম্বা , আরেকজন কুঁজো । রাস্তার মধ্যে চলতে চলতে তারা জোরে কথা বলছে ।

” কোচম্যান , পুলিশ ব্রিজের দিকে যাচ্ছে ! ” কুঁজো পাগলের মতন কাঁদতে লাগলো । “আমাদের তিন জনের মাত্র বিশ কপেকস ( রাশিয়ার মুদ্রার একক) আছে !!”

আইওনা চাবুক দিয়ে ঘোড়াকে টান মারলো । বিশ কপেকস ভাড়াটা যথেষ্ট না , কিন্তু সেটার জন্য তাঁর কোন চিন্তা নেই । এটি বিশ রুবেল (মুদ্রার একক) নাকি পাঁচ কপেকস সেটি তাঁর কাছে কোন ব্যাপার না , ভাড়া আছে তাঁর কাছে সেটাই বিষয় । ওই তিন যুবক একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে , খারাপ ভাষায় কথা বলছে , একবার একজন স্লেজের উপরে উঠে যাচ্ছে , আরেকবার সবাই মিলে এক সাথে বসছে । প্রশ্ন হচ্ছে শান্ত থাকার বিষয়টাঃ কে বসবে , আর কে দাঁড়িয়ে থাকবে , অনেক বাগবিতণ্ডা , কথা কাটা কাটির পর তারা সিদ্ধান্ত নিলো , কুঁজো দাঁড়িয়ে থাকবে,কারণ সে সবচেয়ে ছোট ।

“তাহলে , এবার চালা ” কুঁজো তাঁর কর্কশ কণ্ঠে বললো , নিজেকে ঠিক করে দাঁড়িয়ে , আইওনার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলতে লাগলো । ” বরাবর যা !! কি ক্যাপ পরেছিস এইটা , বন্ধু !! পেটারস্‌বার্গে এর চেয়ে খারাপ ক্যাপ আর নাই ”

“হে হে !! …হে হে !! ” আইওনা হাসলো । ” এটা বড়াই করার মতন কোন বিষয় না !! ”

” ভালো কথা , কোন কিছু যখন বড়াই করার মতন না , তাহলে চালাইতে থাক্‌ !! তুই কি এইভাবে সারা রাস্তা ধরে চালাবি ? হ্যাঁ ? তোর ঘাড়ে যদি একটা বাড়ি দিতে পারতাম ? ”

” আমার মাথা ব্যাথা করছে ” লম্বাটা বললো । ” ডাকমাসভসে গতকাল ভাস্কা আর আমি চার বোতল ব্রান্ডি খেয়েছি । ”

” আমি বুঝতে পারছি না , তুই কেন এই ধরণের কথা বলছিস ” আরেক লম্বা রাগান্বিতভাবে বললো । “তুই অসভ্যের মতন মিথ্যা কথা বলছি । ”

“আমাকে মেরে ফেল্‌ , এইটা সত্যি !! …”

” ডাহা মিধ্যা কথা ”

” হে …হে ” আইওনা হাসলো । ” একদম সাধু মানুষ !”

“ওহহো !! শয়তান তোকে ধরে নিয়ে যাবে ! ” কুঁজো জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করলো । “তুই কি এখনো ভালো হয়েছিস ? পুরান প্লেগ থেকে ? হ্যাঁ ? এইভাবে কেউ ভালো হতে পারে ? তাঁকে চাবুক দে । ঝুলিয়ে রাখ তুই । ”

আইওনা বুঝতে পেরেছে যে তাঁর পিছনে খারাপ লোক বসেছে এবং কুঁজোর কাঁপানো স্বর শুনতে পেলো । সে শুনতে পেলো তাঁকে নিয়ে খারাপ কথাবার্তা হচ্ছে । সে মানুষগুলোর দিকে তাকালো , বুকটা কেমন জানি ভারি হয়ে উঠলো । লম্বা লোকটি নাডিয়েজহাদ পেট্রোভনা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো । আইওনা ঘাড় ঘুরিয়ে তাদের দিকে তাকালো । সেখানে ছোট একটা সময় পর্যন্ত নিশব্দতা । সে আবার তাকালো এবং বললোঃ

“এই সপ্তাহে … আমার … ছেলে মারা গিয়েছে ! ”

” আমরা একদিন সবাই মারা যাবো …” কুঁজো লোকটি একটি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো ,কাশতে কাশতে বললো , ” তাড়াতাড়ি চালা । আমি এতক্ষন এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না ! কখন সে আমাদেরকে বের করবে ? ”

” আচ্ছা , তোর ঘাড়ের মধ্যে বাড়ি দিয়ে তোকে একটু উৎসাহ দেই !! ”

” তুই কি পুরান প্লেগের কথা শুনেছিস ? আমি তোকে স্মার্ট বানাবো । যদি উৎসবে তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে তোর মতন এইভাবে দাঁড়ায় , একজন হলেও হাঁটতে পারবে । তুই কি শুনতে পাচ্ছিস ? তোর কি আমার কথা শোনার দরকার আছে ? ”

আইওনা শোনার চেয়ে ঘাড়ে যে থাপ্পড় খেলো সেটা টের পেলো ।

” হে হে …” সে হাসলো । ” জনাব … গড আপনাকে স্বাস্থ্য দিক !”

” ক্যাবম্যান , তুই কি বিবাহিত ” লম্বা করে একজন জিজ্ঞেস করলো ।
” আমি ? হে হে ! জনাব । আমার কাদামাটি আমার একমাত্র স্ত্রী … হে হে …হো হো ! … দুঃখের বিষয় এইটাই । আমার ছেলে মারা গিয়েছে , কিন্তু আমি বেঁচে আছি । এইটাই আশ্চর্যের বিষয় মৃত্যু ভুল দরজা দিয়ে আসে । … আমার কাছে আসার বদলে , আমার ছেলের কাছে এসেছে ”

আইওনা তাদের দিকে ঘুরে তাকিয়ে কিভাবে তাঁর ছেলে মারা গিয়েছে বলতে লাগছিলো । কিন্তু এই মুহূর্তে , কুঁজো এক শ্বাস নিয়ে বললো , “থাঙ্কস গড ! আমরা অবশেষে চলে এসেছি । ” বিশ কপেক্স নেবার পর আইওনা ফুর্তিবাজদের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো । আবার সে একা , নিশব্দতা তাঁর চারিদিকে ।। দুঃখটা তাঁর কাছে কতক্ষন পর পর এসে তাঁকে হৃদয়টা ভেঙ্গে ফেলছে । অনেক কষ্ট , উদ্বিগ্নতা সত্ত্বেও মানুষের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে রইলো । হাজার মানুষের মাঝে সে কাউকে পেলো না যাকে সে তাঁর দুঃখের কথা বলবে । কিন্তু তাঁর সামনে কতো মানুষের ভিড় । তাঁর দুঃখটা অনেক । তাঁর হৃদয়টা যদি ভেঙ্গে যেতো , তাঁর কষ্ট পৃথিবীকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো , কিন্তু দেখার কেউ নেই । দুঃখটা এমন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে , দিনেরবেলা মোমবাতি নিয়েও এটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না ।

আইওনা হাতে পার্সেল নিয়ে এক দারোয়ানকে দেখলো , চিন্তা করলো তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করবে ,

“এখন কয়টা বাজে বন্ধু ? ” সে বললো ।

“দশটা বাজছে । আপনি কেন এখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন ? চালান !”

আইওনা কিছু কদম এগিয়ে নিলো । কষ্ট থেকে নিজেকে বেড়িয়ে আনলো । সে ভাবলো , মানুষকে আকর্ষণ করানোটা তাঁর কাছে ভালো লাগে না । পাঁচ মিনিট চলে গিয়েছে , সে আড়মোড়া দিয়ে উঠলো । মাথা ঝাঁকানোর সময় তীক্ষ্ন ব্যাথা অনুভব করলো , চাবুকে টান দিলো … সে আর সহ্য করতে পারছে না ।

” বাড়িতে চলে যাবো !” সে চিন্তা করছে ।

তাঁর ঘোড়া তাঁর ভাবনার সবকিছু জানে । সে কদম ফেলে চলতে শুরু করলো । দেড় ঘণ্টার পর , আইওনা এক ময়লা চুলার সামনে বসলো। চুলার সামনে , বেঞ্চের উপরে , সব মানুষ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । বাতাস কিছুটা ভারি । আইওনা ঘুমন্ত মানুষের দিকে তাকালো , চিন্তা করলো সে তাড়াতাড়ি চলে এসেছে ……

“আমি ওটস্‌ কিনে খাবার মতন অতো টাকা আজকে উপার্জন করতে পারি নি ” সে চিন্তা করলো । “সেই কারনে আমার অনেক কষ্ট ………… একজন লোক জানে সে কিভাবে কাজ করতে হয় …… তাঁর যথেষ্ট খাবার ছিলো । তাঁর ঘোড়ার অনেক খাবার ছিল … অনেক শান্তি ছিলো … ”

কর্নারে এক যুবক ক্যাবম্যান ঘুম থেকে পানি আনার জন্য গেলো ।

“কি , পানি চান ?” আইওনা তাঁকে জিজ্ঞেস করলো ।

“মনে হয় ”

“তোমার যাতে ভালো হয় , … কিন্তু আমার ছেলে মারা গেছে , বন্ধু ……তুমি কি তা জানো ? এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে …… এক ধরণের অদ্ভুত ব্যাপার …”

আইওনা দেখলো তাঁর কথা সে খেয়াল করছে কিনা । কিন্তু সে কিছুই দেখলো না । যুবকটি তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছে । বৃদ্ধ লোকটি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ঘুম থেকে উঠলো , যুবক লোকটির মতন সেও পানি খেতে গেলো । কিন্তু কথা শুনার কেউ পেলো না । তাঁর ছেলে যে মারা গিয়েছে , শীঘ্রই এক সপ্তাহ হয়ে যাবে , কিন্তু এখনো শোনার কেউ পেলো না । সে মন খুলে তাঁর কথা বলতে চায় । সে বলতে চাই , কিভাবে তাঁর ছেলে অসুস্থ হয়েছে , কিরকম কষ্ট পেয়েছে , মৃত্যুর আগে কি বলে গিয়েছে , কিভাবে মারা গেল , কিভাবে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হলো । তাঁর এখনো এক মেয়ে আছে , নাম আনিসিয়া । তাঁর সম্বন্ধেও বলতে চান । হ্যাঁ , তাঁর অনেক কথা জমা পড়ে আছে । যে শুনবে তাঁর কথা , সে কষ্ট পাবে , চিৎকার করবে , কাদবে , স্বান্তনা দিবে । তাঁর চেয়ে কোন মহিলার সাথে কথা বলা অনেক ভালো । যদিও তাঁরা বোকা ধরণের , কথা বলতেই কান্না শুরু করে দিবে ।

“চলো , ঘোড়ার কাছে যাই , দেখে আসি ” আইওনা চিন্তা করলো । ” ঘুমের জন্য সবসময় অনেক সময় পড়ে আছে … চিন্তা করো না …… ”

তাঁর কোট রেখে আস্তাবলে গেলো যেখানে তাঁর ঘোড়া আছে । সে চিন্তা করতে থাকলো ওটস্‌ এর কথা , খড়ের কথা , আবহাওয়ার কথা ………..তাঁর ছেলেকে নিয়ে এখন চিন্তা করতে পারে না । তাঁর সাথে কথা বললে হয়তো কিছু হতো , কিন্তু তাঁর কথা চিন্তা করলেই এখন অসহ্য যন্ত্রণা হয় ।

“তুই কি খাচ্ছিস ? ” আইওনা ঘোড়াকে জিজ্ঞেস করলো । “খা , খা , ভালো করে খা , আজকে তো ওটস্‌ কিনার মতন টাকা পাই নাই , আমরা ঘড় খাবো … হ্যাঁ , আমি চালাতে চালাতে বুড়ো হয়ে গিয়েছি …… হয়তো এতদিনে আমার ছেলে চালাতো , আমি না … সেই সত্যিকারের ক্যাবম্যান ছিল … সে যদি বেঁচে থাকতো …… ”

আইওনা কিচ্ছুক্ষন চুপ থাকলো । তারপর বলতে শুরু করলো ।

” কিভাবে সেটি হলো , কুজমা ইওনিচ চলে গেলো …। আমার কাছ থেকে বিদায় নিলো সে … কোন কারণ ছাড়ায় সে চলে গেলো … ধর্‌ , তোর একটা ছোট্ট ঘোড়ার বাচ্চা আছে , একদিন হঠাৎ একইভাবে সে চলে গেল … তোর কি দুঃখ হবে না , হ্যাঁ ? ……”

ঘোড়া চিবাতে চিবাতে কথা শুনছিলো , তাঁর মাস্টারের হাতে নিঃশ্বাস ফেলছিলো । আইওনা বলতে লাগলো , তাঁর সমস্ত কথা তাঁকে বলেই যাচ্ছিলো ।

 

Translation from : http://eric.gruver.net/heartache.html

HEARTACHE : Translation in Bangla | Razib Ahmed