Story  Name  : Shooting an Elephant  (শুটিং এন এলিফ্যান্ট‌ )  
Written  by       : George Orwell

মৌলমেইন , দক্ষিন বার্মার এক বড় শহর । একে লওয়ার বার্মাও (lower Barma) বলা হয় । সেখানে আমি অনেকের কাছে খারাপ ছিলাম । আমাকে ঘৃনা করতো । এক সময় এক ঘটনার জন্য আমার গুরুত্ব বেড়ে গেছে । আমি শহরের সাব ডিভিশনার অফিসার ছিলাম । অনর্থক , কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে ইউরোপিয়ানদের প্রতি বিদ্বেষ জন্মাচ্ছে । কারোর দাঙ্গা হাঙ্গামা করার সাহস ছিল না । কিন্তু যদি কোন ইউরোপিয়ান মহিলা বাজারে যায় , তার জামায় কেউ পানের পিক্‌ ছোড়ে । একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে , আমার এই ব্যপারটা দেখার দায়িত্ব ছিল , যতটুকু সম্ভব শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখা যায় । যখন কোন পাতলা , চটপটে কোন বার্মিজ আমাকে ফুটবল মাঠে ল্যাঙ মারে , তখন রেফারী অন্য দিকে তাকায় থাকে । আর উৎসুক জনতার তো কি বলবো !! মনে হয় দুনিয়ার সব হাসি জমা রেখে এখানে হাসতে এসেছে , হাহা -হিহি আরও যতো ধরণের হাসার ভঙ্গিমা আছে , কোনটাও প্রয়োগ করতে ভুলে নি । এই ধরণের ঘটনা আমার সাথে আরও কয়েকবার হয়েছে । যখন আমি সরে গেলাম , তখন এক ফর্সা লোক আমাকে বিভীৎস রকমের চেঁচামেচি করে গেলো । তা দেখে আমার তো যায় যায় অবস্থা । তরুণ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ছিল সব চাইতে খারাপ । কয়েক হাজার ভিক্ষু ওই এলাকায় থাকে । তাদের মনে হয় রাস্তায় রাস্তার দাঁড়িয়ে থেকে ইউরোপিয়ানদের প্রতি ব্যাঙ্গ তামাশা করা ছাড়া আর কোন কাজ  নেই ।

পুরো অবস্থাটা অনেক জটিল ,বিপর্যস্ত ছিল । তখন আমি স্থির করলাম , সাম্রাজ্যবাদ অনেক খারাপ জিনিষ , খুব শীঘ্রই আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো । বলতে গেলে , সত্যিকারভাবে , বার্মিজদের পক্ষে ছিলাম , আর ব্রিটিশ অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ছিলাম । চাকরি শুধু করার জন্য করছিলাম । আমার একদম ভালো লাগতো না এই চাকরিটা , যা বলে বুঝাতে পারবো না । এই চাকরিতে , আপনি দেখতে পারবেন , কোয়ার্টারের কাছে রাজা বাদশাদের আকাম কুকাম , দুর্গন্ধ কারাগারে অপরাধীদেরকে গাঁদাগাঁদি করে রাখা , অনেকদিন আটকে থাকা মলিন চেহারার অপরাধী , বেতের আঘাতে মানুষের পশ্চাৎদেশে ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন । সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হচ্ছিলো । কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলো না । আমি অল্প শিক্ষিত যুবক । ইংলিশম্যানরা আমাকে যা করতে দেই , আমাকে  নীরবে তা করে যেতে হয় । এমনকি আমি নিজেও জানতাম না , ব্রিটিশ রাজ্য নাকি মারা যাচ্ছে । আমি এতটুকুই জানতাম , কে স্থানচ্যুত হচ্ছে , বা কি হচ্ছে এই সব ব্যাপার মাথা ঘাটানোর আগে আমাকে আমার নিজের কাজ করতে হবে । আমি এতোটুকুই জানতাম , আমার রাজার বিদ্রোহীদের ,আর আমার বিরদ্ধে কিছু শত্রু আছে যারা আমার চাকরিটা কঠিন করে তুলছে – এই দু জায়গায় আমার জীবন ফেঁসে গেছে । মাঝে মাঝে মনে করতাম , ব্রিটিশ রাজ্যটা কেউ ভাঙতে পারবে না , এক জায়গায় বন্দী হয়ে যাবার মতন অবস্থা । আরেক দিকে মনে হতো , পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাওয়া যায় , বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দেমাগের উপর বেয়োনেট চার্জ করলে । বোধ হয় সাম্রাজ্যবাদের সাধারণ গুন । যে কোন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কর্মকর্তাকে যদি ডিউটির পরে ধরতে পার তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখ , শুনো তারা কি বলে ।

একদিন দারুন এক ঘটনা ঘটে গেলো । এটি এমনেই এমনেই ঘটে গেছে , কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পেলাম । খুব সকালে , পুলিশ স্টেশনের সাব ইনস্পেক্টর ফোন করে আমাকে ঘুম থেকে উঠালো , বাজারে এক হাতি নাকি তুলকালাম করে ফেলছে । আমি কি এসে কিছু করতে পারি ? আমি নিজেই জানতাম না কি করতে হবে , কিন্তু কি ঘটে টা দেখার ইচ্ছে ছিল সামনে থেকে । তাই ঘোড়া নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম । হাতে ছিলো পুরান এক রাইফেল , হাতি মারার জন্য কিছুই না । কিন্তু এর শব্দটা , ভয় লাগানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে । অনেক বার্মিজ আমাকে রাস্তার মধ্যে আটকিয়ে হাতির কাজ কারবার স্ববিস্তারে বলা শুরু করলো । এইটা বন্য হাতি না , পোষা হাতি , কারোর হাত থেকে ছুটে গেছে । এটি শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে , কোন কারণ ছাড়া পোষা হাতি আক্রমণ করে না । কিন্তু আগের রাতে শিকল ছিঁড়ে পালিয়ে গেছে । হাতিটির মাহুত , অর্থাৎ যিনি এই হাতি পুষতেন , যখন অন্য রাজ্যে হাতিটি ছিলো , তিনি এইটাকে সামলাতে পারতেন । কিন্ত হাতি সহ কোন কারনে ভ্রমনে বের হতে গিয়ে রাস্তা ভুল করে ফেলেছে । বারো ঘণ্টা হতে চলছে , আজকে সকালে হঠাৎ এই হাতিকে দেখে যায় । বার্মিজ লোকজনদের কোন অস্ত্র ছিল না , এই কারনে অনেক অসহায় হয়ে পড়েছিলো । হাতিটি এরই মধ্যে অনেক গুলো বাঁশের বাড়ি গুড়া করে দিয়েছে , গরু মেরেছে , ফলের দোকান পিষে ফেলেছে , আর যা ফলমূল ছিল তাও সাবাড় করে দিয়েছে । রাস্তায় ময়লার গাড়ি ছিলো ,সেটাকেও দুমড়ে মুচড়ে ফেলেছে ।

বার্মিজ সাব ইনস্পেক্টর আর কয়েকজন ইন্ডিয়ান কনস্টেবল কোয়ার্টারে আমার জন্য অপেক্ষা করছে , যেখানে হাতি দেখা গিয়েছে । কোয়ার্টার বাঁশ দিয়ে বানানো , তালপাতার ছাউনি , পাহাড় থেকে বাতাস আসছে চারিদিকে । আমার মনে আছে , সেই সকাল বেলাটা অনেক গুমোট , মেঘলা ছিলো । আমরা লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম , হাতিটি কোথায় গিয়েছে এই ব্যাপারে । কিন্তু সঠিক প্রশ্ন পেতে ব্যর্থ হলাম । দূর থেকে যে কোন গল্প , জল্পনা সঠিক মনে হয় , কিন্তু ঘটনার যতই কাছে যাওয়া হয় ততই অস্পষ্ট হতে থাকে । একজন বলে এদিকে গেছে , আরেকজন বলে অন্য দিকে গেছে , অন্য জন বলে হাতির নাম জীবনেও শুনে নাই । আমি প্রায় পুরো ঘটনাকে মিথ্যা বলে মনে করে নিতে যাচ্ছিলাম , কিন্তু হঠাৎ একটু দূরে চিৎকার , কান্নার শব্দ শুনলাম । “এই ছেলে , সরে যাও , সরে যাও , এখনই সরে যাও !” এক বৃদ্ধা হাত বাড়াতে বাড়াতে বাঁশের কুটিরের কাছে আসলো , তিনি ছোট ছোট ন্যাংটা ছেলেদেরকে জোরে জোরে চিৎকার করতে করতে তাড়াচ্ছে । আরও কিছু মহিলা জোরে জোরে চিৎকার করছে । ওইখানে নিশ্চয় কিছু একটা ঘটেছে । আমি কুটিরের পিছনে দেখলাম , এক নগ্ন মৃত দেহ কাদায় পড়ে আছে । সে ইন্ডিয়ান , কৃষ্ণাঙ্গ দ্রাবিড় জাতির কুলি । তখন বর্ষাকাল ছিল , মাটি একদম নরম । তার মুখ এক ফুট মাটির গভীরে ঢুকে গেছে । মুখ একবারে কাদায় ভরা , দাঁত বের করা । চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলো অনেক যন্ত্রণায় মারা গেছে । (বলবেন না যে মৃত শরীর দেখতে অনেক শান্ত দেখাচ্ছিল , ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় অনেক মৃত শরীর দেখেছি ) । বড় পশুর থাবাটা সুন্দর করে তার পিঠের উপর বসিয়ে দিয়েছে , যেন সে একটা বাচ্চা খরগোশ । তাড়াতাড়ি আমি বন্ধুকে বললাম , বন্ধুর বাসা থেকে হাতির মারার রাইফেল নিয়ে আসতে । আমি আমার ছোট রাইফেলটা পাঠিয়ে দিলাম । ভয় নিয়ে হাতির সাথে লড়তে যাবার দরকার নেই ।

কয়েক মিনিটের মধ্যে রাইফেল নিয়ে আসা হলো ,সাথে আছে পাঁচটা কার্তুজের গুলি । একই সময়ে বার্মিজরা জানালো একশো গজ দুরেই হাতি নিচের ধান ক্ষেতের মধ্যে আছে । আমি যখন যাওয়া শুরু করলাম , পিছনে লোকজন ভিড় জমিয়ে ফেলছে , আর আমার পিছন পিছনে চলছে । আমি যখন গুলি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম , উৎসাহে তারা চিৎকার দেয়া শুরু করলো । হাতিটা তাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গছে সেদিকে কোন আগ্রহ নেই । তাদের কাছে মনে হচ্ছে অনেক আনন্দের কারবার হচ্ছে । মনে হচ্ছে ইংলিশ ভিড় ; তারা উল্টা মাংস চাচ্ছে !! এটি আমাকে অপ্রস্তুত করে দিলো । আমার কোন গুলি করতে খেয়াল ছিল না । আমি রাইফেল এনেছি নিজেকে রক্ষা করতে । ভিড় দেখলেই স্বাভাবিকভাবে নিজেকে কিছুটা দুর্বল করে দেয় । মাথায় রাইফেল নিয়ে আমি সোজা পাহাড় দিয়ে নেমে চললাম , চারদিকে তাকাতেই নিজেকে বোকা মনে হচ্ছিলো । মানুষ দল বেঁধে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে আমার পিছন পিছন আসছে , আমার পায়েও বাড়ি লাগছে । পাহাড় থেকে নিচে এক পাক রাস্তা গিয়েছে , তার পরেই এক হাজার গজের ধানক্ষেত , জমি চাষ করা হয় নি , কিন্তু বৃষ্টির কারনে কাঁদায় ভরা ছিল , অল্প অল্প দূরে মোটা মোটা ঘাস ছিল । হাতিটা বাম দিক করে আট গজ দুরেই দাঁড়িয়ে আছে । সে লোকজনের চিৎকারে কানেই তুললো না , বরং ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়ছে , পা দিয়ে থেঁতলা করছে , আর তা মুখে নিচ্ছে ,

আমি তখন দেখলাম আমার পিছনে প্রচুর মানুষের ভিড় , কমপক্ষে দুই হাজার হবে , আরও বাড়ছে । রাস্তা পুরো বন্ধ হয়ে গেলো । আমি দেখছি হলুদ মানুষের গনসমুদ্র , তাদের মুখে হাসি , অনেক উত্তেজনা কাজ করছে , সবাই জানে , হাতিটিকে এখন গুলি করা হবে । তারা মনে হয় জাদু দেখছে । সবাই আমাকে সামনের দিকে ধাক্কা মারছে । পুর্ব দিকে শ্বেতাঙ্গের আধিপত্যের ব্যর্থতা আমি হাঁ করে গিললাম । এইখানে আমি শ্বেতাঙ্গ যার সাথে বন্দুক আছে , আর সামনে সব নিরস্ত্র মানুষ । মনে হতে পারে ফিল্মের আসল নায়ক । কিন্তু , বাস্তবে আমি অদ্ভুত পাপেট , জন সমুদ্রের ধাক্কায় এক বার এদিকে যাচ্ছি , আরেকবার ওইদিকে । আমি বুঝতে পারছি ঠিক এই সময় শ্বেতাঙ্গ মানুষ মারদাঙ্গা হয়ে সব কিছু তছনছ করে দেয় । সে কিছুটা হাল্কা হয়ে যায় , পরে ভালো মানুষের মূর্তির মতন আকার ধারণ করে । এইটাই তার নীতি থাকে , সে স্বদেশী স্বার্থ রক্ষায় নিজের সারা জীবন উৎসর্গ করে দিবে , স্বদেশীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা করার দরকার তাই করে । মুখে মাস্ক থাকে , পুরো চেহারাটা সেইভাবে ফিট করা থাকে , মনে হয় কিছু একটা করতে যাচ্ছে । যখন আমি রাইফেল আনিয়েছিলাম , তখন নিজেকে সেই রকম হিরো হিরো লাগছিলো । কিন্তু  হাজার মানুষকে সাথে নিয়ে পুরো রাস্তা আসার পর এখনো কিছুই করা হয় নি , অসম্ভব একটি ব্যাপার । মানুষজন আমাকে দেখে হাসবে , পুরো জীবন ধরে আমাকে তা সহ্য করতে হবে ।

কিন্তু আমি হাতিটাকে গুলি করতে চাচ্ছিলাম না । আমি তাকে দেখছিলাম , হাঁটু দিয়ে ঘাস পাড়া দিচ্ছে । আগের খবরদারি ভাবটা এখনো তার রয়ে গেছে । আমি পশু মারতে তেমন খুঁতখুঁতে নই , কিন্তু আমি কখনো হাতি মারি নি , কখনো তা করতেও চাই নি , যে কোন ভাবেই হোক বড় প্রাণী মারাটা ভালো না । অন্য দিকে পশুর মালিকের কথাটাও চিন্তা করতে হচ্ছে । জীবিত অবস্থায় পাঁচ পাউন্ডের হাতি । কিন্তু মৃত অবস্থায় শুধু দাঁতের দামটাই পাঁচ পাউন্ডের হবে । কিন্তু আমাকে কিছু একটা দ্রুত করতে হবে । আমি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম , কেমন দেখতে হাতিটা । তারা সবাই বলছে , আপনি যদি তাকে যেতে দেন তাহলে সে কিছুই করবে না , কিন্তু তার কাছে গেলে সে আপনার দিকে তেড়ে আসবে ।

আমি জানি আমার কি করা উচিত । আমি কয়েক গজ সামনের দিকে গেলাম , হাতিকে দেখতে । যদি সে তেড়ে আসে , আমি গুলি করে দিব । যদি আমার দিকে না তাকায় , তাহলে মাহুত না আসা পর্যন্ত তাকে এইভাবে রেখে দিব । কিত্নু আমি জানি আমি এইরকম কিছুই করবে না । আমার ভালো নিশানা নেই , আবার সাথে হাঁটু পরিমান কাদা । যদি হাতি তাড়া করার সময় , গুলি করতে না পারি , তাকে মেরে ভর্তা করে দিতে হবে । কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি কিছুই করি নি , আমি শুধু মানুষ দেখছি । মানুষের ভিড় দেখে আমি মোটেই ভয় পাই নি , এইটা অনেক সাধারণ ব্যাপার । হিরোরা ভয় পাই না । কিন্তু মনের মধ্যে এক বিষয় কাজ করছিল , যদি কোন রকম উল্টা পাল্টা হয় , তাহলে এই দুহাজার মানুষ আমাকে আস্ত রাখবে না , এক দম ভর্তা করে দিবে , তারপর শরীরটাকে তুলে নিয়ে পাহাড় থেকে সোজা খাঁদে ফেলে দিবে । এর মধ্যে কিছু মানুষ হাসাহাসিও করবে ।

একটা উপায় ছিল , আমি বন্দুকে  গুলি গুলো ভরলাম , তারপর রাস্তায় ভালো নিশানার পাবার জন্য শুয়ে পড়লাম । ভিড় এখনো বাড়ছে , অনেকটা নীরবতা , সবাই ব্যাগ্রভাবে তাকিয়ে আছে । মনে হচ্ছে অবশেষে থিয়েটারের পর্দা উঠে গেছে । মোটের উপর সবাই মেতে আছে । জার্মানের রাইফেলটা ভালো ছিল । হাতির কান থেকে সরে মাথার সামনে নিশানা করলাম ।

আমি গুলি করলাম । কিন্তু কোন শব্দ শুনলাম না , বরং উল্টা মানুষদের শব্দ শুনলাম । গুলি মারতেই কিন্তু তখন একটা আশ্চর্য ব্যাপার ঘটলো । সে নড়ে নি , পড়েও যাই নি , কিন্তু তার শরীরে পরিবর্তন ঘটলো । তাকে হঠাৎ ভীত সঙ্কুচিত মনে হল । গুলির ভয়ে মনে হয় অবসন্ন হয়ে গেলো । পাঁচ সেকেন্ড পরে , সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো । তার মুখ থেকে লালা পড়ছে । পুরো বার্ধক্য অবস্থা যেনো  তাকে ঘিরে ফেলেছে , মনে হচ্ছে হাজার বছরের হাতি । আমি আবার ওই জায়গায় গুলি করলাম । সে ভেঙ্গে যাবার বদলে আস্তে আস্তে আবার উঠে দাঁড়ালো । আমি আবার গুলি করলাম । এইবার কাজ করেছে । পুরো শরীরে ব্যাথায় কেপে উঠছে , পায়ে শক্তিতে ভর করে আছে । পড়তে গিয়ে সে মনে হয় আবার উঠে দাঁড়াতে চাচ্ছে , কিন্তু দাঁড়াতে পারে নি । এমনভাবে মাটিতে পড়লো মনে হলো আস্ত একটা পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে । তার মাথা আকাশের দিকে গাছের মতন মুখ করে আছে । প্রথমবার এবং শেষবারের মতন সে ডাক দিয়ে উঠলো । তার ডাকের শব্দে মনে হয় মাটি কেপে উঠবে ।

আমি উঠে দাঁড়ালাম । মানুষজন কাদা মাটি পার করে আমার দিকে ছুটে আসছে । বুঝা যাচ্ছে , হাতিটা এখনো মরে নি , শ্বাস নিচ্ছে এখনো । মুখ হাঁ করে আছে । আমি কিছুক্ষন অপেক্ষা করছিলাম , তার মরার জন্য । কিন্তু তার শ্বাস বন্ধ হয় নি । আরও দুইটা শুট করলাম । রক্ত বেড়িয়ে আসছে , কিন্তু সে মরছে না । আস্তে আস্তে সে মারা যাচ্ছে । অনেক দুনিয়ায় , মনে হয় তাকে গুলি দিয়ে মারতে পারবে না । আমি ওইখানে  ভয়ানক শব্দ শুনতে পাচ্ছি । বড় প্রাণীদের মৃত্যুটা অনেক ভয়ানক , পারছে না নড়তে , পারছে না মারা যেতে  । আমি ছোট রাইফেল দিয়ে একটার পর একটা শুট করতে থাকলাম , কোন পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না ।
পরে আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না , চলে গেলাম । পরে শুনেছি , প্রাণীটির মারা যেতে আরও দেড় ঘণ্টা লেগেছে । বার্মিজরা বাটি , ঝুড়ি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকলো । আমি আগেই বলেছিলাম তার হাড্ডি ছাড়া কিছুই রাখে নি ।

তারপর হাতিকে গুলি করা নিয়ে অনেক ধরনের কথা বার্তা । মালিক অনেক রাগান্বিত ছিল , কিন্তু সে একাই ইন্ডিয়ান , ওইখানে , কিছু করতে পারে নি । কিন্তু আইনগত ভাবে আমি ঠিক কাজ করেছিলাম , পাগলা হাতিকে মারা উচিত , পাগল ক্কুরের মতন । ইউরোপিয়ানরা পর্যন্ত দুইভাগে ভাগ হয়ে গেলো । বয়স্করা বললো , আমি ঠিক আছি , যুবক যারা আছে তারা বললো , এক কুলিকে মারার জন্য হাতিকে মেরে ফেলা , অনেক জঘন্য কাজ । কারণ কুলির চেয়ে হাতির দাম বেশি । কিন্তু পরে , আমি খুশী হয়েছি , কুলিটা মারা গিয়েছে দেখে , কারণ গুলি করার কারণ আমি দেখাতে পেরেছিলাম । মাঝে মাঝে নিজে অবাক হয় ভেবে , যদি বোকা না দেখানোর জন্য এই সব করেছি জানতে পেরে যদি  কেউ ধরে নিয়ে যায় ।

translated from: http://orwell.ru/library/articles/elephant/english/e_eleph

আরও গল্প পড়তে ক্লিক করুনঃ

প্রথম স্কুলে যাবার দিনঃ ছোট গল্প

The Most Dangerous Game

A Double-Dyed Deceiver 

HEARTACHE

The Luncheon

The Gift of Magi

A MOTHER IN MANNVILLE

Shooting an Elephant : Translation in Bangla