Play :The Merchant of Venice
Written By : William Shakespeare

শাইলক একজন সুদখোর । সে একজন ইহুদী , জন্ম  ভেনিসে । খ্রিস্টান ব্যবসায়ীদের চওড়া সুদে ঋন দিয়ে সে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন । সেখানকার ভালো মানুষরা শাইলককে পছন্দ করতো না । শাইলক অনেক কঠোর প্রকৃতির মানুষ , সে সুদের টাকা থেকে এক টাকাও নিতে ছাড়েন না । অপরদিকে Antonio ভেনিসের তরুন ব্যবসায়ী । শাইলক আন্টোনিওকে দুচক্ষে দেখতে পারতো না । সে মানুষের কষ্ট দেখলে টাকা ধার দিতেন , কিন্তু সে টাকার বদলে কোনদিন সুদ নিতো না । সেইজন্য লোভী শাইলক এবং উদার ব্যবসায়ী এই  আন্টোনিও এর মধ্যে ঘোর শত্রুতা ছিলো । যখনই আন্টোনিও এর সাথে শাইলকের দেখা হতো , শাইলক তাঁকে অনেক তীব্র ভাষায় অপমান করতেন । যেখানে একজন ইহুদীর ধৈর্যয় থাকা উচিৎ ছিল , সেখালে তিনি প্রতিশোধ নেবার পরিকল্পনা করতেন ।

আন্টোনিও অনেক দয়ালু মানুষ , রোমানের সবাই তাঁকে ভালবাসে , মানুষের সাহায্যে সবসময় এগিয়ে আসেন । তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু বলতে Bassanio নামে এক লোক ছিল , সে ভেনিসেই বসবাস করে । তাঁর কিছু সম্পদ ছিল । কিন্তু বেহিসেবী লোক ছিলেন , উচ্চ পদস্থ লোক হয়েও তাঁকে অভাব অনটনের মধ্যে থাকতে হতো । যখনই তাঁর টাকার দরকার পরতো ,আন্টোনিও তাঁকে সাহায্য করতো । তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে মনে হতো এক মানিব্যাগে দুইটি হৃদয় পুরে আছে ।

একদিন Bassanio আন্টোনিও এর কাছে এলো । তাঁর কাছে এসে বললেন তিনি বিয়ে করে তাঁর ভাগ্য পাল্টাতে চান । মেয়ের বাবা মারা গিয়েছে , এখন মেয়ে বিশাল সম্পদের উত্তরাধিকারী । আর বাবা জীবিত থাকাকালে সে কয়েকবার দেখেছিলো , কিন্তু কোনদিন তাঁর সাথে কথা হয় নি , কিন্তু সে নারীর চোখের চাহনিতে তাঁর অনেক অব্যক্ত কথা প্রকাশ পেতো । সেই চাহনিতে সে বুঝে নিয়েছিলো তাঁকে হয়তো সে পছন্দ করতে পারে , কিন্তু ভালবাসাকে নিজে করে নেবার জন্য় তাঁর কাছে তেমন টাকা নেই । তাই , এন্টোনিও এর কাছে তিনি হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার চাইলো ।

এন্টোনিওর কাছে টাকা ধার দেবার মতন কোন টাকা নেই , কিনুত কিছু মাল বোঝাই জাহাজ এখানে আসার কথা । এন্টোনিও বলে সে শাইলকের কাছে যেতে পারে , জাহাজের থেকে যে টাকা আসবে সেখানে থেকে তা শোধ করে দিবে ।

এন্টোনিও এবং Bassanio একসাথে শাইলকের কাছে গেলো , এন্টোনিও জিউ এ কাছে তিন হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার চাইলেন । তিনি যত ইচ্ছা সুদ রাখতে পারেন , জাহাজ বোঝাই পন্য থেকে তা শোধ হয়ে যাবে । শাইলক এই কথা শুনে চিন্তা করতে লাগলেন । “যদি , তাঁকে আমি ভালভাবে একবার ধরতে পারি ,তাহলে নিজের মনের জ্বালা মিটিয়ে নিতে পারবো । সে আমাদের ইহুদি জাতিকে ঘৃনা করে , সে মাগনা মানুষকে টাকা দিয়ে বেড়ায় । ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুধু সেই আমার সাথে ঝগড়া করেছে , শুধু মাত্র তাঁর কারনেই আমার ইনকামে আজ বেহাল দশা । যদি তাঁকে ক্ষমা করে দেই , তাহলে আমার পূর্বপুরুষ অভিশপ্ত হবে । ” শাইলককে চিন্তায় মগ্ন হতে দেখে এন্টোনিও বললো , ” শাইলক , আপনি কি শুনতে পারছেন ? টাকা কি ধার দিতে পারবেন ? ” তাঁর এই কথা উত্তরে শাইলক বললো , জনাব , এন্টোনিও , এই Rialto তে আপনার সাথে আমা অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে , এমনকি আমার আয় রোজগার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন । আমাকে অবিশ্বাসী বলেছেন , আমাকে গলা কাটা কুকুর বলেছেন । আমার ইহুদী ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করেছেন । আমাকে লাথি মেরেছেন যেনো আমি রাস্তার ইতর লোক । এখন আপনি আমার কাছে টাকা ধার চাইতে এসেছেন । ভালো কথা !!একটা কুকুরের কাছে কিভাবে টাকা থাকে ? তাও আবার তিন হাজার স্বর্ণমুদ্রা !! একজন ইতরলোক কিভাবে এতো টাকা ধার দেয় ?আমি কি মাথা ঝুকিয়ে বলবো স্যার , আপনি আমাকে গত বুধবারে অপমান করছেন । এর আগে , আমাকে কুকুরও বলেছেন । এতো সৌজন্যতার কারনে , আমি আপানাকে টাকা ধার দিচ্ছি । ” এনটনিও উত্তর দিলো , ” তাই যদি হয় , আমি একই কথা আবার বলবো . আপনাকে আবারও অপমান করবো । আপনি যদি টাকা দিতে চান , শত্রু ভেবে দেবার চেয়ে , আমার বন্ধুর দিকে চেয়ে দেন । যদি আমি তা শোধ করতে না পারি , তাহলে যা শাস্তি দিবেন , তা মেনে নিবো । ” “কেন তা করবো ? ” শাইলক বললেন । ” ” আপনি কিভাবে ঝগড়া করতে পারেন !! আমি আপনার বন্ধু হতে চেয়েছিলাম , আপনার প্রিয় হতে চেয়েছিলাম । আপনি ভুল যাবো সব কিছু , আমি পুরো টাকাই দিবো , সুদও নিবো না । ” এই কথা শুনে এন্টোনিও চমকে গেলেন । কিন্তু শাইলক উদারতার ভান করে চলছে । কিনুত সে এগুলো এন্টোনিও এর কাছে ভালো সাজার জন্য করেছে । এন্টোনিও উকিলের কাছে যাওয়া উচিৎ , সেখানে তাদের বন্ড সাইন করতে হবে । যদি , শাইলক এনটনিওর শরীরের যে কোন অংশ থেকে এক পাউন্ড মাংস কেটে নিতে পারবে ।

এন্টোনিও বললো , “রাজি , আমি এই বন্ড সাইন করবো । ”

বাসানিও এন্টোনিওকে এই বন্ড সাইন করতে নিষেধ করেছিলেন , কিন্তু এন্টোনিও কথা শুনলো না , বরং বললে , টাকা জমা দেবার আগের দিন জাহাজ চলে আসবে ।
সাইলক তাদের এই কথাবার্তা গুলো শুনে অবাক হয়ে বললো , ” ও , ফাদার ,আব্রাহাম , খৃষ্টানরা কি ধরণের সন্দেহবাদী !! তাদের আচরণ সবাইকে সন্দেহবাদী করে তুলে । বাসানিও , আপনি দয়া করে বলতে পারবেন , শর্ত সে ফিরিয়ে নিক বা আর নাই নিক , কিন্তু তাঁর থেকে আমার কি লাভ হবে ? তাঁর থেকে মাংস নিয়ে আমার কি লাভ হবে ? তাঁরটা কি গোস্ত নাকি খাসির মাংস যেটা বিক্রি করে আমার টাকা আসবে ? আমি শুধু বন্ধুত্বের দিক থেকে কেবল সাহায্য করার চেষ্টা করছিল । যদি ইচ্ছে হয় নেন , নাহলে বিদায় । ”

ইহুদির দয়ালু কথাবার্তা শুনার পরেও বাসানিওড় পছন্দ হয় নি , তাঁর বাঁধা উপেক্ষা করে , এন্টনিও এই বন্ড সাইন করে ফেললো ।

বাসানিও যাকে বিয়ে করতে চলেছে অর্থাৎ সেই ধনী ঘরের উত্তরাধিকারী ভেনিসের কাছেই বেলমন্টে থাকে। তাঁর নাম portia । ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও তিনি ছিলেন প্রশংসনীয় ।

অবশেষে , এন্টোনিও এর কাছ থেকে বাসানিও টাকা নিয়ে ট্রেনে করে বেলমনটের দিকে রওনা দিলেন ।

বাসানিও তাঁর কাজে সফল হয়েছে , portia অনেক কম সময়ের মধ্যে তাঁকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয় ।

বাসানিও পরটিয়ার কাছ সব কিছু বলেছে , তিনি এই পৃথিবীতে তেমন সৌভাগ্য নিয়ে আসে নি । ধনী , উচ্চভ্রান্ত কোন বংশে সে জন্মগ্রহন করে নি যাতে সে অহঙ্কার করতে পারে । তাঁর উত্তরে পরটিয়া বলে , পরটিয়া তাঁকে ভালবসেছে তাঁর গুন দেখে , সে এমনিতেই যথেষ্ট ধনী , স্বামীর থেকে কোন সম্পদের তাঁর দরকার নেই । বরং তাঁর জন্য নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে , পরটিয়াকে আরও দশগুন ধনী হতে হবে , আরও শুন্দর হতে হবে । তাঁর এখন শিক্ষা শেষ হয় নি ,পরটিয়ার পরিচালনায় সে আরও কিছু শিখতে চায় , সে নিজের জীবন তাঁর সাথে একসাথে কাটাতে চায় । সে বলে , ” আমার যা কিছু ছিল , তা এখন তোমার । গতকাল আমি এই জমিদার বাড়িতে আমি রানী ছিলাম , এতগুলো দাস-দাশীর প্রভু ছিলাম , এখন এই দাস-দাসী , আমি সহ সবকিছু এখন তোমার । ” তারপর বাসানিওকে এক আংটি উপহার দিলেন ।

বাসানিও ,পরটিয়ার এই সহানুভূতিশীল , নম্র আচরণে অবাক হয়ে গেলো , আনন্দে সে কোন ভাষা প্রকাশ করতে পারছে না , এক ধরণের কৃতজ্ঞতা , খুশিতে তাঁর মনপ্রান উছলে উঠলো । তাঁর আংটি নিয়ে প্রতিজ্ঞা করলো সে কোনদিন তাঁকে ছেড়ে যাবে না ।

Gratiano এবং Nerissa সেখানে উপস্থিত ছিল , তারা দুইজন সেই porita এর বাড়ি দেখাশুনা করে । যখন পরটিয়া , বাসানিওকে তাঁর ভালোবাসার কথা জানাচ্ছিলও , তখন তারা একসাথে সেদিন বিয়ের করার জন্য অনুমতি চায় ।

” অবশ্যই ,Gratiano” বাসানিও বললো ।

গ্রাটানিও বললও , সে , portia এর বাড়ির নেরিসাকে ভালবাসে , কিন্তু নেরিসা বলেছে , যদি , তাঁর পরটিয়া বাসানিওকে বিয়ে করে , তাহলে নেরিসা গ্রাটানিওর জীবনসঙ্গী হবে বলে কথা দিয়েছে । পরটিয়া নেরিসাকে এটি সত্যি কিনা জানতে চাইলো । নেরিসা উত্তর দিল, ” ম্যাডাম , আপনি যদি সম্মতি দেন , তাহলে তা হবে ” । পরটিয়া হাসিমুখে তা সম্মতি দেন । বাসানিও বললো , ” তাহলে আমাদের বিয়েতে আনন্দ আরও দ্বিগুন হবে । ”

এই খুশিটা মুহূর্তের মধ্যে মলিন হয়ে যায় , যখন এন্টোনিওর কাছ থেকে বাসানিওর কাছে চিঠি আসে । সংবাদে প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর আশঙ্কা দেখে , পরটয়া ভীত হয়ে পরে । উৎসুক মনে সে জানতে চায় , ব্যাপারটা কি ? বাসানিও বলে, ” পরটিয়া , একটা ঘটনা ঘটে গেছে । তোমাকে তো আমি বলেছি , আমার কোন সম্পদ নেই । কিন্তু তোমাকে একটা কথা বলা উচিৎ ছিল , আমার কিছু দেনা আছে । ” তারপর , বাসানিও সব কিছু খুলে বলে কিভাবে এন্টোনিও তাঁর জন্য শাইলকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছে , যদি টাকা ঠিক সময় দিতে না পারে , তাহলে এন্টোনিওর শরীর থেকে মাংস কেটে নিবে । তারপর চিঠি পড়ে শুনালো , “প্রিয় বাসানিও , আমার জাহাজ সব ডুবে গিয়েছে । এখন সেই ইহুদীর কাছে জব্দ হয়ে গেলাম । আমার বেঁচে থাকা যেহেতু সম্ভব না , তাই , তোকে মৃত্যুর আগে একবার দেখার ইচ্ছা ছিলো । কিন্তু আমাকে ভালোবেসে থাকলে , তাহলে দেখেতে আসিস না । আশা করি , চিঠিটা তোর কাছে না যাক্‌ । ” পরটিয়া বললো , ” ওহ , প্রিয় , সব কাজ এখন একদিকে ফেলে রেখে , তাড়াতাড়ি তাঁর কছে যাও । এই ধরণের ভালো বন্ধুর জন্য আমার বাসানিওর দিকে তাকিয়ে আমি ২০ হাজার স্বর্ণ মুদ্রা কিছুই না । আমি তোমাকে ভালবাসি । ” পরটিয়া তাঁর টাকার আইনগত অধিকার দিতে বিয়ে করে ফেললো , গ্রাটানিও নেরিসাকে বিয়ে করে ফেলে । বিয়ে করার পর গ্রাটানিও , বাসানিও ভেনিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ।

এন্টোনিওর সাথে বাসানিওর জেলে দেখা হয় । টাকা পরিশোধের তারিখ পার হয়ে যাবার পর , সেই নিষ্ঠুর ইহুদী বাসানিওর টাকা নেয় নি ,সে এন্টোনিওর মাংস কেটে ফেলার জন্য জেদ করতে থাকে । ভেনিসের ডিউকের কাছে এই ব্যাপারেটা দেখতে একটা দিন ধার্য করা হয় , বাসানিও সেই ট্রায়ালের মুহূর্তগুলো অনেক ভয়ের মধ্য দিয়ে পার করেছে ।

পরটিয়া হাসিমুখে তাঁর স্বামীকে বিদায় দেয় । আশা করেন , তাঁর স্বামীর সাথেও যেনও এন্টোনিও ভালোভাবে ফিরে আসে । একা হয়ে যাবার পর , সে চিন্তা করে তাদের কোন কাজে সে অংশ নিতে পারে কিনা । এন্টোনিওর মৃত্যুতে সে শঙ্কিত । কিন্তু পরটিয়ার নিজে ক্ষমতা নিয়ে তাঁর কোন দ্বিধা নেই ।যে চিন্তা সে কাজ , মুহূর্তের মধ্যে সে ভেনিসে উদ্দেশে রওনা দেন ।

পরটিয়ার সাথে উকিল বেলারিওর পরিচয় ছিল । পরটিয়া এন্টোনিওর কেইসের ব্যাপারের ব্যাপারে পরামর্শ চান । এক দুতের মাধ্যমে বালারিও তাঁর পরমার্শ কিভাবে কি করতে হবে , প্রয়োজনীয় সব কিছু লিখে পরটিয়ার কাছে পাঠিয়ে দেন ।

পরটিয়া এবং নেরিসা দুইজনেই পুরুষ উকিলের বেশ ধারন করে । নেরিসাকে মুহুরি হিসেবে তাঁর সাথে নিয়ে সেইদিনেই ভেনিসে তারা পৌছে যায় । আদালতে পৌছে কোর্টে উকিলের কাছে চিঠি দেয় , সেখানে লেখা থাকে , বেলারিও অসুস্থ , তাই তাঁর বদলে শিক্ষানবিশ উকিল বেলথাসা কেইজ পরিচালনা করবেন । ডিউক এটি অনুমোদন করে । পরটিয়া , বেলথাসার সেজে সেখানে উপস্থিত হয় ।

বিচারকাজ শুরু হয় । পরটিয়া চারিদকে তাকায় , সেই নিষ্ঠুর ইহুদীকে দেখলো , তারপর বাসানিওকে দেখলো , কিন্তু বাসানিও তাঁকে চিনে নি , কারণ পরটিয়া ছদ্মবেশ ধারন করে আছে সেখানে , বাসানিও এন্টোনিওর পাশে দাঁড়ানো , বন্ধুর জন্য দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন ।

বিচার কাজ শুরু হলে এই কোমল নারী অত্যন্ত সাহসিকতার সহিত পুরো কেইজটি পরিচালনা করে । শাইলকের কাছে সে নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলে , ভেনিসের আইন অনুযায়ী , বন্ড অনুসারে সে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে । কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সে করুনার মাহাত্ম তুলে ধরে । কিনুতু দয়াহীন শাইলক সেই সব কথা ছুঁড়ে ফেলে দেয় , যেনও , স্বর্গ থেকে কোন বৃষ্টির ফোটা নিচে পড়লো। বরং ঈশ্বরের জায়গায় নিজেকে সে বসিয়ে দিল । এন্টোনিওকে দ্বিগুন করুনা করেছে , তাঁকে আশীর্বাদ স্বরুপ টাকা দিয়েছে , সে নিয়েছে । শাইলককে মনে কর‍িয়ে দিয়ে বলেন , আমরা সবাই করুনার জন্য প্রার্থনা করি , একই প্রার্থনা আমাদের শিখায় কিভাবে অন্যদের প্রতি করুনা করতে হয় । উত্তরে শাইলক শুধু বন্ড করা বাজেয়াপ্ত জিনিষের কথা বললেন । পরটিয়া জিজ্ঞেস করলো , ” তিনি কি টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম ছিল না ? ” বাসানিও তারপর অনেকবার টাকা দিতো চাইলো , কিন্ত , শাইলক তা নিলো না । বরং এন্টোনিওর মাংস কেটে নেয়ার জন্য জেদ করতে থাকলো । বাসানিও সেই তরুন উকিলের কাছে প্রার্থনা করে বললো , আইনে কি সামান্য পরিবর্তন করা যায় না ? পরটিয়া দুঃখ করে বললো , একবার আইন পাশ হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা যায় না । শাইলক এই কথা শুনে বললো , “ওহ ,উকিল , আইন নিজে বানিয়ে এখন বিচার করতে !! ওহ , জ্ঞানী বিচারক , কিভাবে তোমাকে সম্মান করি বলো তো !! তোমাকে তো দেখে এতো জ্ঞানী মনে হয় না । ”

পরটিয়া শাইলকের করা বন্ড পড়ে দেখলো , ” এই বন্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । এই ইহুদী আইনগতভাবে এক পাউন্ড মাংস দাবি করেছে , সে সেটা এনটোনিওর বুকের কাছ থেকে । “তারপর সে বললো , ‘ একটু করুনা করেন । টাকা নেন , এই বন্ড ছিঁড়ে ফেলুন । ‘ শাইলক নিষ্ঠুর ভাবে তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো । সে বললো , ” আমার কোন ক্ষমতা নেই সেই জায়গা থেকে সরে আসার । ” “তাহলে আর কি ? আপনার ছুরিতে ধার দেয়া উচিৎ এখন ।

যখন শাইলক মাংস কাঁটার জন্য ছুরি ধার করাচ্ছিলো তখন , পরটিয়া এন্টোনিওর কাছে জানতে চাইলো ,” আপনার কিছু বলার আছে কিনা ? ” তাঁর কিছু বলার নেই বলে ,সে মৃত্যুর জন্য় প্রস্তুত সেটা জানিয়ে দেয় । তারপর এন্টোনিও বাসানিওকে বললো , ” বন্ধু , তোর হাতটা একটু দে !! বিদায় বন্ধু , তোর জন্য এই বিপদে পড়েছি দেখে আমার কোন কষ্ট নেয় । তোর স্ত্রীকে জানিয়ে দিস্‌ আমি তোকে কি রকম ভালবাসতাম । ” বাসানিও তাঁর উত্তরে বললো , ” আমি বিয়ে করেছি তাঁকে , তাঁকে আমি অনেক ভালবাসি , কিন্তু তোর জীবনের চেয়ে সেটার মুল্য বেশি না । তোর জন্য আমি সব কিছু করতে পারি , বন্ধু । ”

পরটিয়া , এই ভালোবাসার কথা শুনে , কোন দুঃখ পায় নি , বরং তাঁর মনের কথা বলতে পারছে না দেখে আরও কষ্ট পাচ্ছিলো , বলতে পারছে না সে ” আপনার স্ত্রী একটা ছোট ধন্যবাদ দিতে চায় । যদি সে এখানে উপস্থিত থাকতো , হয়তো সেটাই বলতো । ” গ্রাটানিও তাঁর প্রভু বাসানিওর কথাবার্তা শুনে , মনে করলও , তাকেও এই ধরণের কথা বলতে হবে । সে নেরিসাকে বললো , যে পরটিয়ার মুহুরি সেজে এসেছে , ” আমার বউ আছে , তাঁকে আমি ভীষণ ভালবাসি । যদি সে স্বর্গে থাকতো , তাহলে এই নিষ্ঠুর ইহুদীর মনটা পরিবর্তন করে দেবার জন্য কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতো । ” ” আপনার ভাগ্য ভালো , আপনি তাঁর পিছনে এই কথা বলছে , নাহলে আপনাকে বাসায় অনেক শোচনীয় অবস্থায় দেখতে হতো ” নেরিসা বললো ।

শাইলক এখন অধৈর্য্য হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলো , ” আমরা ব্যর্থ সময় কাটাচ্ছি । আমি রায় জানানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি । ” কোর্টের সবাই এখন এন্টোনিওর জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে লাগলো , সবার চেহেরা জুড়ে ভয় গ্রাস করে ফেললো ।

পরটিয়া জিজ্ঞেস করলো , আপনার কতটুকু মাংস কাটা হবে তা তো ঠিক করা আছে , তাই না ? তাহলে শাইলক , আপনি রক্ত না পড়ে এইভাবে মাংস কাটতে হবে । ” শাইলক বললো , “এইটা তো চুক্তিতে ছিল না । ” পরটিয়া উত্তরে বললো , “এইটা যদি না থাকে তাহলে তাতে কি আসে যায় । এইটা ভালো তো , আপনি অনেক মহান । অনেক করুনা করেছেন । ” তাহলে ? এক পাউন্ড এন্টোনিওর মাংস এখন আপনার । এই আইন সেটাকে সম্মতি দিবে , এই কোর্ট বাহবা দিবে । আপনি বুকের থেকে মাংস এখনই কাটতে পারেন । ‘ শাইলক বিস্ময়সহকারে বলেন , ” কি জ্ঞানীর মতন কথাবার্তা । ” তারপর , তিনি লম্বা ছুরি বের করে এন্টোনিওর দিকে তাকিয়ে বললো , ” তৈরি হও বাছা । ”

“একটু অপেক্ষা করেন , ইহুদী সাহেব ” পরটিয়া বলেন । ” একটা ব্যাপার , বন্ডে কিন্তু রক্ত পড়ার কথা লেখা নেই । শুধু এক পাউন্ড মাংসের কথা লেখা আছে । যদি মাংস কাটতে গিয়ে যদি এক ফোটা রক্ত বের হয় , তাহলে ভেনিসের আইন অনুযায়ী আপনার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে । ” এটি হলে এনটনিওর মাংস শাইলক কাটতে পারবে না । এই কথা শুনে কোর্টের সবায় পরটিয়ার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে ।

শাইলক হতাশ হয়ে পড়লো । বাসানিও খুশিতে নাচতে লাগলো , খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে , ” এই আপনার টাকা । ” পরটিয়া তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললো , ” এতো তাড়াহুড়ার কিছু নেই । তাঁর শাস্তি ছারা আর কিছুই পাওনা নেই । শাইলক মাংস কাঁটার সময় মনে রাখবেন , যাতে রক্ত না পরে । আর আপনি এক পাউন্ডের চেয়ে একটু চুল পরিমাণ কম বা বেশি মাংস কাটতে পারবেন না । যদি একটু এদিক সেদিক হয় তাহলে ভেনিসের আইন অনুযায়ী আপনার মৃত্যদন্ড হবে । আর আপনার সম্পত্তি সব বাজেয়াপ্ত করা হবে । ” আমার টাকা দেন , আমি চলে যায় । ” শাইলক বললো , “আমি প্রস্তুত , এই যে টাকা , ” , বাসানিও বললো ।

শাইলক টাকা নিতে গিয়ে পরটিয়া তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললো , ” আর একটু ধৈর্যয় ধরুন , ইহুদী সাহেব । আপনার উপর আরেকটি অভিযোগ আছে । এক নাগরিকের জীবন নিয়ে ষড়যন্ত্র করার জন্য ভেনিসের আইন অনুযায়ী আপনার সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে । আপনার জীবন এখন ডিউকের করুনার উপর নির্ভর করে । সেইজন্য় হাঁটু গেড়ে প্রান ভিক্ষা চান । ”

ডিউক শাইলককে বললো , ” খ্রিস্টান জাতি হিসেবে আমাদের পার্থক্যটা কোথায় তা মনে হয় বুঝতে পারবেন । আমি আপনাকে বলার আগেই জীবনভিক্ষা করে দিয়েছি , আপনার অর্ধেক সম্পত্তি এন্টোনিও পাবে , আর অর্ধেক সম্পত্তি রাষ্ট্রের কাছে যাবে । ”

এনটোনিও বললেন , তিনি শাইলকের কাছে সম্পত্তি তাঁকে দিয়ে দিবে , যদি সে সাইন করে , তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সমস্ত সম্পত্তি তাঁর মেয়ে এবং তাঁর জামায় পাবে । এনটোনিও জানতো , শাইলকের নামে এক কন্যা সন্তান আছে । মেয়ে তাঁর শাইলকের বিরুদ্ধে যেয়ে এনটনিওর বন্ধু লরেঞ্জকে বিয়ে করেন । শাইলক তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়ে ত্যায্য করে ।

ইহুদী এই ব্যাপারে রাজি হয় । প্রতিশোধ নিতে না পারায় একধরনের হতাশা কাজ করে তাঁর মনের ভিতর । সে বলে , ” আমি এখন অসুস্থ , আমাকে যেতে দিন , কি করতে হবে তা পাঠিয়ে দিন , আমি আমার অর্ধেক সম্পত্তি আমার মেয়েকে দিয়ে দিবও । ” ডিউক বললেন ” আপনি চলে যান , তাহলে এইখানে সাইন করুন । আর আপনি যদি অনুতপ্ত হয়ে থাকেন , তাহলে খ্রিস্টান হয়ে জাব , সরকার আপনার বাকি সম্পত্তি ফিরিয়ে দিবে । ”

ডিউক এন্টোনিওকে ছেড়ে দিলও , কোর্ট শেষ হবার পর তিনি তরুন বিচারকের প্রশংসা করলেন , এবং তাঁকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানালেন , কিন্তু পরটিয়াকে তাঁর স্বামীর আগে বেলমনটে পৌছতে হবে । তাই সে উত্তর দিল , ” আপনার মহানতার জন্য ধন্যবাদ , কিন্তু আমাকে এখন এখান থেকে যেতে হবে । ” সেটা শুনে ডিউক দুঃখ প্রকাশ করলেন , তারপর এনটনিওর দিকে তাকিয়ে বললেন , ” এই ভদ্রলোককে পুরস্কার দিন , আমার মনে হয় , আপনি তাঁর কাছে অনেক ঋণী । ”
ডিউক এবং তাঁর সেনটররা চলে যাবার পরে বাসানিও পরটিয়াকে বললো , ” আপনি অনেক উপকার করেছে , আপনার জন্যই এন্টোনিও এই শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে । আমি আপনাকে অনুরোধ করছি , ইহুদীর থেকে যে তিন হাজার ডুকেট বেঁচে গেলো , তা আপনি নিয়ে নেন । আমরা আপনার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো । ”

পরটিয়া টাকা নেই নি , কিন্তু বার বার পুরষ্কারের জন্য অনুরোধ করায় সে বললো , ” আপনার গ্লাভসটা দিন । আমি আপনার পুরস্কার স্বরুপ সেটা পরবো । ” বাসানিও গ্লাভস খুলতে গেলে পরটিয়া বাসানিওর আঙ্গুলের আংটির দিকে তাকায় । পরটিয়া বলে , ” আপনার ভালোবাসার স্মৃতিস্বরূপ এই আংটিটি আমাকে দেন । ” বাসানিও দ্বিধাদন্দের মধ্যে পরে গেলো , আমি এটি দিতে পারবো না , আমি আমার স্ত্রীর কাছ কথা দিয়েছি । আমি ভেনিসের সব চাইতে দামি আংটি আপনাকে উপহার দিবো , দরকার হলে ঘোষণা দিয়ে তা খুঁজে দিবো । কথাটি শুনে পরটিয়া কিছুটা অপমানিত বোধ করেছে , কোর্ট থেকে চলে যাবার আগে বলেন । ” আপনি আমাকে শিখিয়ে দিলেন , কিভাবে একজন ভিক্ষুককে উত্তর দিতে হয় ।”

“বন্ধু , বাসানিও , আংটিটি দিয়ে দে । আমার দিকে চেয়ে দিয়ে দে । তোর বউকে খুশি করার চেয়ে অনেক বড় কাজ করেছে সে । বাসানিও অকৃতজ্ঞ হতে চাইলো না । সে গ্রাটানিওকে দিয়ে পরটিয়াকে আংটি দিয়ে দিল । ” নেরিসাও গ্রাটানিওর কাছ থেকে আংটি চাইলো । গ্রাটানিও প্রভুর উদারতার দিকে চেয়ে কিছু চিন্তা না করে দিয়ে দিল । এই মহিলা দুইটি পরে হাসতে হাসতে চলে গেলও । তারা এই চিন্তা করে হাসছে , কিভাবে তারা তাদের কাছ থেকে আংটির মাধ্যমে ট্যাক্স নিয়েছে ,এবং তারা একই মহিলার কাছে সেটি উপহার হিসেবে দিয়েছে ।

পরটিয়া অনেক খুশি মনে ফিরে আসলো । সে কোনদিন ভাবে এই ধরণের ভালো একটা কাজ করবে । মেঘের আড়ালে থাকা চাঁদও যেনও আনন্দে হাসছে । বেলমনটের বাড়ি আজ চাঁদের আলোয় আলোকিত । সে নেরিসাকে বল , ” আজ সারা বাড়ি জুড়ে কি আলো , একটা মোমবাতির আলো আর কতদুর যায় এই অন্ধকার দুনিয়ায় ভালো একটি কাজ কিভাবে খিলখিল করে হাসছে !! বাড়ি থেকে গানের মিউজিক কানে আসলে সে বলে , “আমার মনে হয় , গানের মিউজিকগুলো দিন দিন আরও মিষ্টি হয়ে যাচ্ছে ” । ”

পরটিয়া , নেরিসাকে বাড়িতে প্রবেশ করে , তাদের ড্রেস পালটালো , তারপর তারা স্বামীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে । শীঘ্রই বাসানিও এন্টোনিওকে নিয়ে চলে এলো , বাসানিও তাঁকে পরটিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । এমন সময় তারা দেখতে পেলো নেরিসা এবং তাঁর স্বামী কর্নারের রুমে ঝগড়া করছে । ” কি ব্যপার ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো ” পরটিয়া বললো । “ম্যাডাম , নেরিসা একটা ছোট আংটি দিয়েছিল , সেখানে একটি ছোট লেখা ছিল , ছুরি দিয়ে যেনো কাব্য রচনার প্রচেষ্টা । আমাকে ভালোবাসো , নয়তো ছেড়ে চলে যাও । ”

“আংটির মধ্যে কবিতার আর কি মূল্যই বা থাকে ? ” নেরিসা বললো , ” তুমি কথা দিয়েছিলে , মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আংটি তোমার সাথে রাখবে । এখন বলছ ,তুমি তা এক উকিলের মহুরিকে দিয়ে দিয়েছো , আমি জানি সে নিশ্চয় মহিলা ছিল । ” গ্রাটানিও বললো , “এই হাত দিয়ে আমি তাঁকে দিয়েছই । সে এক যুবক , এক ছোকড়া ধরনের । তোমার চেয়ে খুব একটা উন্নত না । সেই উকিলের মুহুরি সে , সেই উকিলের কারণে এন্টোনিওর প্রান আজকে বেঁচে গিয়েছে । এই ছেলেটা পারিশ্রমিক স্বরুপ আংটিটা চেয়েছে , আমি তা না দিয়ে থাকতে পারি নি । ” পরটিয়া বললো , ” আপনি দোষ করেছেন , গ্রাটানিও , এইটা আপনার স্ত্রীর প্রথম উপহার ছিল । আমি বাসানিওকে একটা আংটি দিয়েছি । আমি নিশ্চিত সে এই আংটিটি কাউকে দিবে না । ” গ্রাটানিও তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে বললো , ” আমার স্যার , বাসানিও তাঁর আংটি সেই উকিল কে দিয়ে দিয়েছে । আর ছেলেটা তাঁর মুহুরি ছিল , তাঁকে লিখতে হয়েছিল সেখানে , সেই জন্য আমার আংটিটা সেই চেয়েছে । ”

পরটিয়া এই কথা শুনে ক্ষেপে যায় , বাসানিওর কাছ থেকে তাঁর আংটি দেখতে চাই । পরটিয়া বলে , নেরিসা আমাকে শিখিয়েছে কি বিশ্বাস করতে হবে , মহিলাটি আংটির ব্যপারে নিশ্চয় কিছু জানতো । বাসানিও এই কথা শুনে কিছুটা বিমর্ষ হয়ে যায় । সে আন্তরিক সহকারে বললো , ” না , সম্মানীয় ম্যাডাম , কোন মহিলা নয় , একজন ভালো সিভিল ডক্টর এই কাজ করেছে । , যে কিনা আমার কাছ থেকে তিন হাজার ডুকেট নিতে চায় নি ।তাঁর বদলে সে আংটি চেয়েছে । যদি আমি তা দিতে যখন অস্বীকার করেছি , সে চলে যেতে চাইলো । আমি এতো বড় অকৃতজ্ঞ কিভাবে হই । তাই আমি আংটিটি দিয়ে দিলাম । আমাকে ক্ষমা করবেন ,। আপনি যদি সেখানে থাকতেন তাহলে মনে হয় আমার আংটিটা এইভাবেই তাঁকে দিয়ে দিতেন । ”

” ওহ্‌ এন্টোনিও । আমি এই ঝগড়ার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছি । ”

পরটিয়া এন্টোনিও বললো আপনি সেই জন্য কোন দুঃখ করবেন না , এন্টোনিও বললো , ” বাসানিওর জন্য আমি নিজেকে বাজি রেখেছিলাম, কিন্তু সে আমার জন্য আপনার স্বামী সেই আংটিটি দিয়ে দেয় । আমার তো মরে যাবার কথা । আমি আবার নিজেকে বাজি রাখতে পারবো , আপনার স্বামী আপনার সাথে কোনদিন বিশ্বাস ঘাতকতা করবে না । ” পরটিয়া বললো , ” তাহলে আপনি তাঁর নিশ্চয়তা দিচ্ছেন , ” । ” তাঁকে এই আংটিটা দিন , বলে দিন এটিকে যেনও অন্য সাবার থেকে ভালো রাখে । ”

যখন বাসানিও তাঁর আংটির দিকে তাকালো সে অবাক হয়ে গেল , একই আংটি সে মুহুরিকে দিয়েছিল । তারপর , পরটিয়া সব খুলে বললো , কিভাবে সে উকিল হয়েছে , নেরিসা মুহুরি হয়েছে । বাসানিও খুশি , বিশ্ময়ে অবাক হয়ে যায় , কিভাবে তাঁর স্ত্রীর সাহসিকতার জন্য এন্টনিওর প্রান বেঁচে যায় ।

পরটিয়া আবার এনটোনিওকে স্বাগতম জানায় , এনটোনিওকে তাঁর কাছে আসা এক চিঠি দেয় । চিঠিতে লেখা থাকে , এন্টোনিও যে সব জাহাজ ডুবে যাবার কথা ছিলও , সেগুলো ফিরে এসেছে । এই ধরণের আশ্চর্য সব ঘটনায় এইখানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় । গ্রাটানিও তখন কাব্য আকারে শপথ করে বলে ,

– যখন সে বেঁচে থাকবে , তাঁর কোন ভয় নেই

যতক্ষণ নেরিসার আংটি আছে তাঁর সাথে ।

 

 

From Tales from Shakespeare

by Charles and Mary Lamb

মার্চেন্ট ইন ভেনিস বাংলা অনুবাদ : সোর্স ঃ http://reading.searchenglish.com/the-merchant-of-venice/

 

 

The Merchant of Venice – Translation in Bangla