চার্লস ডিকেন্সের “অলিভার টুইস্ট”

গল্পটা আগেও পড়েছি, তাই দ্রুত শেষ করে ফেলতে পেরেছি।

রাইটার চার্লস ডিকেন্স খুব দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন, আমি পড়তে পড়তে অলিভার টুইস্টের মাঝে যেন উনার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। তখনকার ইংল্যান্ডের সেই ভিক্টোরিয়া আমলের সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মানুষগুলোর জীবনের বাস্তব চিত্র অনেকটা উঠে এসেছে এই গল্পটায়।

দুর্ভাগ্যবশত অলিভার টুইস্টের জন্ম হয় এক অনাথ আশ্রমে, জন্ম দিয়েই ওর মা মারা যায়। কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে করতে আশ্রমে বড় হতে থাকে অলিভার। একদিন অত্যাচার আর সইতে না পেরে পালিয়ে যায় লন্ডন শহরের উদ্দেশ্যে। সেখানে আবারও ভাগ্যের নির্মমতায় খারাপ ছেলেদের পাল্লায় পরে সে। অলিভার নিষ্পাপ এক ছেলে, খারাপ কাজের কথা যে কখনো ভাবতে পারে না, অথচ বাজে ছেলেদের সাথে পরে কোনো অপরাধ না করেও চুরির দায়ে মার খেয়ে জেলে যেতে হয়, আবার ডাকাতির দায়ও কাঁধে তুলে নিতে হয়। তবে ওর মায়াবী আর নিষ্পাপ চেহারা সবাইকে বাধ্য করে ওকে ভালোবাসতে আর বিশ্বাস করতে। অলিভারও সবার বিশ্বাস ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে দৃড়প্রতিজ্ঞ থাকে সব সময় এবং এর জন্যই এক সময় ওর সততার পুরষ্কার হিসেবেই বলা যায় যে, অলিভারের দুঃখের দিনের অবসান হয়। কিছু ভালো মানুষদের স্নেহের আশ্র‍য়ে থাকার সৌভাগ্য হয় তার, মা বাবার পরিচয় আর অর্থ সম্পদও লাভ করে সে। আর যারা  অলিভারের ছেলেবেলার জীবনটা দুর্বিষহ করে তুলেছিলো, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য জুটে কঠিন শাস্তি।

এই গল্পটার মূলশিক্ষাটা যদি বলি তবে আমি বলব-

সততার বিকল্প নেই।  দিনশেষে বিশ্বাসীরা পুরষ্কৃত হয়, আর জুলুমকারীদের হয় নির্মম পরিণতি।

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *