ভিক্টর হুগো’র “লা মিজার‍্যাবল” – ২

ভিক্টর হুগো’র “লা মিজার‍্যাবল” থেকে নেয়া একটা অংশ এবং শিক্ষা-

(এটা অনেকটা বিজনেস কেইস স্টাডির মতো ব্যাপার, এই ঘটনাটার সাথে দারুণ একটা সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন।)

ছোট শহর ‘এম’।

মাত্র দুই হাজার লোকের বাস এখানে,যার অধিকাংশই বিশেষ কুটিরশিল্প অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তেমন আহামরি কোনো শিল্প নয় সেটা, শুধুমাত্র নানান রং এর পুঁতি তৈরী করা। প্রথমদিকে এই ব্যবসাটা লাভজনকই ছিল।  কিন্তু এই সুসময় বেশিদিন টিকল না, কারণ বাজারে হাতে তৈরী পুঁতির জায়গা দখল করে নিতে লাগল মেশিনে তৈরী পুঁতি। হাতে তৈরী পুঁতির কারিগরদের শুরু হলো দুর্দিন, এম শহরে দেখা দিল অন্যের অভাব। এই সময়ে শহরে অতি সাধারণ একজন পরিশ্রমী মানুষের আগমন ঘটল এবং এক পুঁতির কারখানায় কারিগর হিসেবে সে কাজ নিল। ব্যবসার অবস্থা তখন এতোটাই মুমূর্ষু যে, মালিক মুনাফা পায় না, যার ফলে মজুরেরাও মুজুরি পায় না। ঠিক তখনই সেই সাধারণ লোকটা হাতে পুঁতি তৈরীর এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করল, যে পদ্ধতিতে অল্প সময়ে ভালো মানের পুঁতি তৈরী করা যায়। তবে তার এই নতুন পদ্ধতিকে কেউ পাত্তা দিল না, তখন লোকটা কারখানাটাই মালিকের কাছ থেকে কিনে নিতে চাইল এবং মালিক খুশিই হলো ওর প্রস্তাবে। কিভাবে যেন কিছু রূপার বাসন কোসনের মালিক ছিল ওই লোকটি, তাই বেচে সেই অর্থ দিয়েই কিনে নিল পুঁতির কারখানা। আর কারখানার মালিক হওয়ার পর শহরের মানুষ তার নাম জানল-  “মসিঁয় মাদেলিন” নতুন পদ্ধতিতে কাজ শুরু করে মাদেলিন অল্প দিনেই কারবারটির চেহারা ফিরিয়ে ফেললেন। কলের পুঁতির  উপর এইবার টক্কর দিতে শুরু করল তার হাতে তৈরী পুঁতি, কারখানা বড় হলো, বিপুল পরিমান লোক নিয়োগ হলো, শহরের আরও কয়েকটা কারখানাও তার সাথে এসে Merge করে নিল নিজেদের। সেই সাথে এম শহরে আর কোনো অসস্বছলতা রইল না, ফিরে এলো সবার মুখের হাসি। সবাই একবাক্যে স্বীকার করল যে এই শুভ পরিবর্তনের জন্য সবটুকু ধন্যবাদ এই একজন লোকেরই প্রাপ্য। সে হলো মঁসিয়ে মাদেলিন।

চলেন ব্যাপারটাকে এই-বার এনালাইসিস করি পরিচিত একটা দৃশ্যপটের সাথে সাদৃশ্য রেখে।

প্রথমত শুধু বিজনেস পারস্পেক্টিভ থেকে বলি, একটা শিল্প বা ব্যবসা যখন হঠাৎ করে বাজারে টিকতে না পারার মতো অবস্থায় পরে, তখন সেটাকে টিকিয়ে রাখতে কিছু নতুনত্ব নিয়ে আসতে হয়। তবে এই নতুনত্ব প্রথমেই সবাই গ্রহন করবে তা নয়, কারণ এটা সম্পর্কে সবাই অজ্ঞ, এই নতুন জিনিসটা সবাইকে আগে চেনাতে হয়, এর ভালো দিক প্রমান করে দেখাতে হয়, এরপর সবাই এক সময় ঠিক আগ্রহ ভরে গ্রহন করে সেটা। আর বিজনেসের ক্ষেত্রে যে কোনো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে একটা  USP- Unique Selling Proposition ক্রিয়েট করতে হয়, এই ইউনিকনেসই বাজারে দীর্ঘসময় টিকে থাকতে সাহায্য করে।

সাদৃশ্যপূর্ন ব্যাপারটা হলো-

আমাদের দেশের হ্যান্ডলুম তাঁতপন্যের চরম দুর্দিন এসেছিল ঠিক এমনিভাবে ইন্ডিয়ান পাওয়ারলুমের দৌরাত্ম্যে। হ্যান্ডলুম তাঁতিদের দুর্দশার শেষ ছিল না, অনেক তাঁতিরা পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহ্য বহন কারী তাঁতের কাজ ছেড়েও দিতে চেয়েছিল বিদেশী পাওয়ারলুম পন্যের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের মঁসিয়ে মাদেলিন ওরফে Razib Ahmed স্যারের আগমন ঘটল এবং দেশীয় পন্যগুলোকে নতুনরূপে নতুনভাবে উনি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শুরু করলেন, আর আজ বিশাল পরিবর্তনের প্রত্যক্ষদর্শী সবাই। বিদেশী পন্য আর চোখেই পরে না এখন, যারা আগে বিদেশি পন্য সেল করত, সবাই এখন দেশীয় পন্য সেল করছে৷ যারা বিদেশী পন্য কিনত, সবাই এখন দেশীয় পন্য কিনে গর্ব করছে।

আর এই পরিবর্তনটা এনে দেয়ার জন্য একজন ব্যাক্তিরই ধন্যবাদ প্রাপ্য মনে করে সবাই, যিনি আমাদের সবার প্রিয় শ্রদ্ধেয় @Razib Ahmed স্যার। ☺️

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *