ষোল শতকের ইংল্যান্ডে এই কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছিল। এর নায়ক এক দুঃসাহসী বীর আইভানহোর নামানুসারেই গল্পটির নামকরণ করা হয়েছে। আইভানহো ছিল তখনকার রাজা রিচার্ডের ভীষন প্রিয়ভাজন মানুষ। রাজা রিচার্ড তার ভাই জন কে দেশ পরিচালনার ভার দিয়ে ক্রুসেড যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আইভানহো নিয়ে। কিন্তু জন আভিজাত্য আর সিংহাসনের লোভে পরে যায়, সাময়িক এই শাসনভার কে স্থায়ী করে নিতে চায় সে। জন হলো এক অত্যাচারী রাজা, যাকে প্রজারা মোটেই পছন্দ করে না, তারপরও সে কিছু স্বার্থান্বেষী নাইট টেম্পলার পেয়ে যায়, তাকে স্বমর্থন করার জন্য এবং সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করে রিচার্ড কে ফ্রান্সে বন্দী করে রাখে, আর জনকে পাকাপোক্ত ভাবে সিংহাসনে বসানোর জন্য পরিকল্পনা আটতে থাকে।
ইংল্যান্ডে তখন খ্রীস্টান ছাড়াও ছিল তিন জাতির বসবাস- স্যাক্সন, নরম্যান আর ইহুদি।
এরা একে অপরের শত্রু ছিল বলা যায়, সব সময় এদের মাঝে ঝামেলা লেগেই থাকত।
আইভানহো ছিল স্যাক্সন পরিবারের ছেলে, ওর বাবা জমিদার সেড্রিক। রোয়ানা নামে তার এক পালিত বোন আছে, যাকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায় বলে ওর বাবা ওকে ত্যাজ্যপুত্র করে দেয়। কারণ ওর বাবা রোয়ানা কে এক জমিদারপুত্রের সাথে বিয়ে দিবে বলে ঠিক করে রেখেছে। জমিদার সেড্রিকের ছিল দুইজন প্রভুভক্ত ক্রীতদাস গার্থ আর ওয়াম্বা৷ এদিকে এক ঝড় বৃষ্টির রাতে যুদ্ধ শেষে আইভানহো তীর্থযাত্রীর ছদ্মবেশে ফিরে এসেছে তার নিজ এলাকায়, নিজ বাড়িতে! ওইরাতে সে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল আরও ৪জন, একজন ইহুদী আর ৩জন নাইট টেম্পলার। এই তিন টেম্পলার ইহুদীদের চরমভাবে ঘৃণা করে। তীর্থযাত্রীরূপী আইভানহো ইহুদি বৃদ্ধ লোকটা কে ৩টেম্পলারের রোষানল থেকে বাঁচাবার জন্য সকাল হওয়ার আগেই ওকে নিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে এবং নিরাপদে পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। ইহুদী লোকটি ভীষণ খুশি হয়ে আইভানহোকে তেজী ঘোড়া আর কিছু অস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেয়, আর আইভানহো এগুলো নিয়েই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে শক্তিশালী দক্ষ ৩ জন টেম্পলার চ্যালেঞ্জারদের সাথে এবং তাদের পরাজিত করে জিতে যায়। পরাজিত নাইটদের পাঠানো ঘোড়া আর স্বর্ণমুদ্রাগুলোর অর্ধেক সে দান করে দেয় ক্রিতদাসদেরকে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়েই ফ্রান্সের রাজার কাছ থেকে চিঠি আসে জন এর কাছে, জানায় রিচার্ড পালিয়েছে। এটা দেখেই আবার জন এর মনে সিংহাসন হারানোর ভয় জেগে উঠে। সে তার সমর্থনকারীদেরকে নিয়ে পরামর্শ করে রিচার্ডকে ঠেকানোর জন্য।
ওইদিকে পরাজিত নাইটরা ভীষন রেগে সেড্রিক, রোয়ানা, ইহুদি লোকটাকে এবং তার মেয়েকে কীডন্যাপ করে নিয়ে যায় এক ভয়ংকর দূর্গে, ওদের সাথে তখন আইভানহোও ছিল, তবে প্রতিযোগিতায় লড়ে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পরেছিল সে। তখন রাজা রিচার্ড ব্ল্যাক নাইটের ছদ্মবেশে তাদেরকে উদ্ধার করে সেই ভয়ংকর দুর্গ থেকে। রিচার্ড তার সিংহাসনে ফিরে এসে ঘোষণা দেয়, নরম্যান স্যাক্সনদের মধ্যে কোনো বিবেধ থাকা যাবে না, সবাই এক, সবাই তার প্রজা, সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। রাজার এই আদেশই তাদেরকে বিবেধ ভুলিয়েছিল। এদিকে জমিদার সেড্রিক রাজা রিচার্ডের অনুরোধে এবং বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে পুত্র আইভানহো কে ক্ষমা করে দেন, রোয়েনাকেও আইভানহোর সাথে বিয়ে দেন।
একজন সৎ, ন্যায়বান শাসকই পারে প্রজাদের শান্তি ফিরিয়ে দিতে, সমাজ গোত্র আর ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদেরকে আলাদা করে না রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক পথে চলতে উৎসাহিত করতে পারে একজন সুশাসক। শুধু বীরত্ব প্রকৃত জয় এনে দিতে পারেনা, আসল জয় তো হয় মনুষ্যত্বের।
(ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে লিখে শেষ করতে পারলাম অবশেষে এটা কোনো রকমে, কি লিখেছি জানিনা। বার বার ঘুমের ঘোরে লেখা কেটে ফেলছিলাম, আবার লিখছিলাম। মানে একরকম যুদ্ধই করলাম বলা যায় আরকি।
![]()
