“লিটল উইমেন” লুইজা মে অলকট

গল্পটা আসলে লেখিকার নিজের জীবনের ছায়ায়ই রচিত। লুইজা মে অলকটের তিন বোন এবং তার পরিবারের ছোট বড় বিভিন্ন ঘটনার আলোকে লেখা বলে, গল্পটাকে সেমি বায়োগ্রাফিও বলা হয়ে থাকে। গল্পটা খুব সাধারণ, কিন্তু আমার মনকে এটা শান্ত করেছিল। মিষ্টি একটা পারিবারিক বন্ধন, সদস্যের পারস্পারিক বোঝাপড়া, সুসম্পর্ক ভীষণ ভালো লাগা দিয়েছে আমাকে। ওরা চার বোন -মেগ, জো, বেথ, এমি। ওদের বাবা যুদ্ধক্ষেত্রে, আর মা বিভিন্ন সামাজিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সারাক্ষন। বড়দিন আসছে, বাবা কাছে না থাকায় বেশ কষ্ট করেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে। মা কে যেন একা সব চাপ নিতে না হয়, তাই তারা প্রত্যেকে কিছু না কিছু করে সামান্য হলেও উপার্জন করছে। বাচ্চাগুলোর দায়িত্ববোধ বেশ মুগ্ধ করার মতো। বড়দিন আসছে, চার বোন গল্প করছে। তাদের কন্ঠে প্রথমে হতাশার সুর বেজে উঠেছে, গরীব বলে নিজেদের জন্য বড়দিনের উপহার কিনতে পারছে না। তবে তাদের এই হতাশা খুব বেশিক্ষন স্থায়ী হতে পারে নি, পরিবারের প্রতি ওদের দায়িত্ববোধ আর মা বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা সব হতাশাকে নিমিষেই দূর করে দিয়েছে এবং নিজেদের জন্য গিফট কেনার চিন্তা বাদ দিয়ে ৪ ভাই বোনের টাকা দিয়ে মা কেই সারপ্রাইজ দিবে বলে ঠিক করেছে।

বড়দিনের দিন ৪বোন সকালের নাস্তার টেবিলে খাবার সব সাজিয়ে অপেক্ষা করছে মা কখন বাসায় ফিরবে আর ওরা সারপ্রাইজ করবে মা কে। হঠাৎ মা ফিরলেন ঠিক, কিন্তু এক দরিদ্র পরিবারকে ওদের নাস্তার জন্য রেডি করা খাবারটা দিয়ে দিতে হবে জানালেন। মেয়েরা কিছুটা মন খারাপ করল প্রথমে, কারণ অনেকদিন পর ওরা ভালো খাবার দিয়ে নাস্তা করবে ভেবেছিল। কিন্তু পরক্ষনেই সেই হতদরিদ্র পরিবারটিকে খাবার দিয়ে সাহায্য করতে পেরে বরং তারা খুশিই হয়ে উঠল। ওদের মা ও বাচ্চাদের থেকে সারপ্রাইজ পেয়ে ভীষণ খুশি হলেন৷ খুব ভালো একটা বড়দিনই ওরা কাটাল।

আদর্শ একটা পারিবারিক পরিবেশে মা বাবার আদর্শে বেড়ে উঠা এই ৪ বোনের সম্পর্কে জানতে আপনাকে অবশ্যই গল্পটি পড়ে ফেলতে হবে।

 

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *