Play : Romeo and Juliet
Written By : William Shakespeare

verona তে Capulets এবং the Montagues এই দুইটি ধনী পরিবারের মধ্যে অনেক দিন থেকে ঝগড়া চলছে , সময়ের সাথে সাথে তা আরও বেড়ে চলে । সম্পর্কের তিক্ততা এতো বেশি হয়েছিল যে , Montague এর দাস দাসীরা Capulet এর দাস দাসীদের সাথে দেখা করতো না । এমনকি Capulet এর কেউ Montague এর দের সাথে ভুলেও সাক্ষাৎ করতো না । কিন্তু তাদের মধ্যে কথা কাটা-কাটি থেকে খুনাখুনি পর্যন্ত হয় । হঠাৎ রাস্তায় কারোর সাথে দেখা হলে তারা ঝগড়া লেগে যেতো । তাদের এই বিরক্তিকর কর্মকান্ডে সবাই অস্বস্তির মধ্যে থাকতো ।

বৃদ্ধ ক্যাপুলেট বিশাল এক নৈশভোজের আয়োজন করেছেন , অনেক খ্যাতিমান অতিথিরা সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন । অনেক সুন্দরীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন । বৃদ্ধ Montague এর বাড়ির লোক বাদে যারা এসেছিল , তাদের সবাইকে অভ্যর্থনা করা হয়েছিলো । অবশেষ , রোমিওর প্রেম , বৃদ্ধ Montague এর পুত্র Rosaline উপস্থিত হয় । রোমিও এর বন্ধু , Benvolio তাঁকে ছদ্মবেশে যেতে বলেছিলেন যাতে তিনি রোজালিনকে দেখতে পারেন , তাঁর সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করতে পারেন । রোমিও Benvolio এর প্রতি কম বিশ্বাস থাকলেও রোজালিনের ভালোবাসার জন্য তিনি রাজি হয়েছিলেন । রোমিও , রোজালিনকে অনেক ভালবাসে । রোজালিনের প্রতি তাঁর প্রেম রোমিও এর ঘুম কেড়ে নিয়েছে , সমাজ থেকে একা হবার জন্য পালিয়ে গিয়েছিল । কিন্তু , রোজালিন তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান দেয় নি । বরং তাঁকে তাচ্ছিল্য করে চলেছে প্রতিনিয়ত । Benvolio তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো । বিভিন্ন নারীর সাথে মেলামেশা করলে যদি তাঁর মন ভাল হয় তাই তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠায় । এই ক্যাপুলেটসের অনুষ্ঠানে তরুন রোমিও এবং বেনভলিও ছদ্মবেশে গিয়েছিল । বৃদ্ধ ক্যাপুলেট তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেছিল , যারা ফ্রি আছে তারা আপনাদের সাথে ড্যান্স করতে পারে । বৃদ্ধ এই মানুষটিকে অনেক হাসিখুসি দেখাচ্ছিল । তিনি হাসতে হাসতে বলেন , তিনি যখন যুবক ছিলেন , তিনি মাস্ক পরে সুন্দরীদের সাথে অনেক গল্প করেছিলেম । তারা ড্যান্সিং করতে শুরু করলো , রোমিও এর হঠাৎ এক সুন্দরীর মেয়ের দিকে চোখ গেলো । এই রাতের আঁধারে তাঁর সৌন্দর্য চারদিক আলো করে তুলেছে । এই আকর্ষণীয় রুপ
পৃথিবীর খুব কম মানুষেরই থাকে । যেন , এক ঝাঁক কাঁকের মধ্যে এক ছোট্ট কবুতর এসে জুড়েছে । তাঁর রুপ তাঁকে অন্যদের থেকে আলদা করে তুলেছে । যখন সে প্রশংসা করছিলো , Tybelt কথাগুলো শুনে ফেলেছিলো । তিনি বৃদ্ধ capulet এর ভাইপো । টাইবেল্ট তাঁর কণ্ঠ ভাল করে চিনে । এক মন্টেগুর এই উৎসবে অপমান করার জন্য এই ধরনের ছদ্মবেশ ধারন করে আসতে দেখে Tybalt রেখে যান । কিন্তু Tybaltএর আঙ্কেল বৃদ্ধ ক্যাপুলেট , কোন ধরনের আঘাত সে এখন পাক্‌ সেটা তিনি চান নি । তারা দুইজনেই অতিথির কাছে তেমন সম্মানের না , কারণ রোমিও ভদ্র বলে সবার কাছে পরচিতি , ভেরোনার সবাই তাঁকে ধার্মিক , ভালো ছেলে বলে জানে । টাইবেল্ট তাঁর ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও তাঁকে থামতে হয়েছে , কিন্তু নিজে শপথ করেছে , তাঁকে একদিন এই লুকিয়ে ঢুকার জন্য কঠিন মুল্য দিতে হবে ।

নাচ যখন চলছে , রোমিও সেই নারীর দিকে তাকিয়ে ছিলো । মাস্ক পরে বিন্ম্রভাবে তাঁর হাত নারীর দিকে বাড়িয়ে দিলো । সে হাতকে মন্দিরের সাথে তুলনা করে , যদি সেই হাতকে ছোঁয়ার মাধ্যমে অপবিত্র করে থাকে , তাহলে সে সাধারণ লজ্জিত তীর্থযাত্রী মনে করবে , সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য তাঁর হাতে চুমো দিতে চায় । ” ভালো তীর্থযাত্রী ” নারীটি উত্তর দিলো । ” আপনাকে দেখে মনে হয় আপনি অনেক ভদ্র , বিনয়ী । সাধুদের হাত থাকে যা তীর্থযাত্রী ছুঁতে পারে , কিন্তু চুমো দিতে পারে না । ” — ” সাধুদের ঠোঁট থাকলে , তীর্থযাত্রীদেরও থাকে ” – রোমিও বললো । ” এই!! ” মহিলাটি বললো , ” ঠোঁট প্রার্থনার সময় অবশ্যই ব্যবহার করে । ” — “” ও , তাহলে , আমার প্রিয় সাধু , আমার প্রার্থনা শুনন , তা মঞ্জুর করুন । তা না হলে , আমি হতাশ হয়ে যাবো । তাদের মধ্যে যখন এই
প্রেমের অভিব্যক্তি আদান প্রদান চলছে ,তখন মহিলাটির মা তাঁকে ডাক দিলো । রোমিও পিছনে পিছনে যেয়ে দেখতে থাকলো এই মহিলাটির মা কে হয় । সে দেখল এই আকর্ষণীয় সুন্দরীর , মন্তেগুর ঘর শত্রু বৃদ্ধ ক্যাপুলেটের কন্যা । রোমিও অজান্তে এই মোহনীয় রূপসীর প্রেমে পরে গিয়েছিল , এটি তাঁর সমস্যায় ফেলতে পারে , কিত্নু সেখান থেকে সে আর ফিরতে পারবে না । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার পর , জুলিয়েট জানতে পারলো তাঁর সাথে যে কথা বলেছে সে রোমিও , একজন মন্টেগু । তাদের পরিবারের ঘোর শত্রু । সে পায়চারি করতে লাগলো , রোমিও এর প্রতি এক দুরনমনীয় আবেগ তাঁর মনে সঞ্চার করলো , এক অদ্ভুত প্রেমের জন্ম হয়েছে সেখানে । সে রোমিওকে , তাঁর শত্রুকে আপন করে নিতেই হবে , হয়তো পরিবারের শত্রুতার জন্য তাকে কষ্ট করতে হবে ।

মধ্যরাতে , রোমিও আর তাঁর সাথীদের নিয়ে চলে গেল , কিন্তু তারা তাঁকে পরে হারিয়ে ফেলেছে । যে বাড়িতে তাঁর ভালবাসাকে ফেলে এসেছে , সে বাড়িতে আবার গেল । বাগানের দেয়াল টপকে জুলিয়েটের বাড়ির কাছে গেল । বেশিক্ষন তাঁকে দাড়াতে হয় নি , জুলিয়েট জানালার কাছে চলে দাঁড়াতেই মনে হলো , পূর্ব দিক থেকে উঠা ঊষার কিরন এই রাতে চারিদিক আলো করে দিচ্ছে । জুলিয়েটের মুখে হাত , নিয়ে বসে আছে , দেখতে বিষণ্ণ লাগছে । রোমিও তা দেখে জুলিয়েটের গালে হাত দিয়ে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করছে ! জুলিয়েট যখন নিজে নিজে চিন্তা করছিল , তখন এক নিশ্বাস নিয়ে বললো , ” আহ্‌ , আমি ” !! রোমিও তাঁর কথা শুনার জন্য ব্যকুল হয়ে বললো “ওহ, আবার বলো , আমার পরী !! তুমি আমার মাথার উপর যেনো দেবদূত হয়ে এসেছো , যাকে দেখলে মানুষ হাঁ
করে তাকিয়ে থাকে । ” কথাটি তাঁর কানে পৌছায় নি । জুলিয়েট মনের অজান্তে তাঁর প্রেমিকের নাম উচ্চারন করে বললো , ” ওহ্‌ , রোমিও , রোমিও !! ” ” কেন তুমি এলে ? নিজের বাবাকে ভুলে , নিজের আত্ম পরিচয় ভুলে কেন তুমি শুধু আমার জন্যে আসলে ? তুমি চাও বা নাই চাও , আমার প্রেমের জন্য , আমি ক্যাপুলেট হিসবে থাকবো না ।

রোমিও তাঁর কথাগুলো আস্তে শুনতে পেলো , আরেক্টু জোরে শুনার জন্য় আরও ব্যাকুল হয়ে পড়লো । এখনো রোমিও এবং মন্টেগুকে নিয়ে বকেই চলেছে , যদি তাঁর আরেক নাম হতো , অথবা তাঁর এই নাম থেকে যদি সে দূরে থাকতো , বা এই নামের সাথে যদি তাঁর কোন সম্পর্কই না থাকতো , তাহলে কি হতো !! এই সব প্রেমময় শব্দগুলো শুনে আর রোমিও নিজেকে সংযত করে রাখতে পারলো না , এটি তাঁর কল্পনা নয় , অন্য নামে হয়তো সে পছন্দ করে , কিন্তু রোমিও আর সেখানে থাকবে না যদি তাঁর এই নাম তাঁকে কষ্ট দেয় ।জুলিয়েট হঠাৎ পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনে হতচকিত হয়ে উঠলো । প্রথমে সে মানুষটিকে চিনতে পারে নি । অন্ধকার রাতে তাঁকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিলো । সে তখন মাতাল ছিল না ,প্রেমিকের কণ্ঠ শুনার জন্য যথেষ্ট ছিল । রোমিও কণ্ঠ শুনে তাঁকে তৎক্ষণাৎ চিনে ফেলে । জুলিয়েট এই অন্ধকারে তাঁকে দেয়াল পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এসেছিল , ঝাড়ি দিতে থাকে । যদি কেউ দেখে ফেলতো তাঁকে মেরে ফেলতো । রোমিও বললো ” অহো , বিশ তরবারির আঘাতের থেকে তোমার ঐ দুটো চোখে আরও বেশি বিপদ খুঁজে পাই আমি । তুমি কি আমার দিকে একটু নরম ভাবে তাকাবে , আমি তাদের শত্রুতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি । তোমার ভালবাসা ছাড়া যদি এই জীবন ঘৃণায় নিঃশেষ হয়ে যেতে হয় , তাহলে সেটাই ভালো । ” জুলিয়েট বললো , ” এই জায়গায় তুমি কিভাবে এলে ? কে দেখিয়ে দিয়েছে ? ” “আমার প্রেম আমাক পথ দেখিয়ে দিয়েছে ” রোমিও বললো । ” আমি পাইলট নই , কেন তুমি আমার থেকে দূরে দূরে থাকো ? সুদূর সমুদ্র যেন তীরকে চোখের আড়ালে রাখে । ” জুলিয়েটের মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো , কিন্তু অন্ধকারে রোমিওর তা চোখে পড়লো না । কিন্তু তার মানে এই না যে , জুলিয়েট এখন পর্যন্ত যা দেখছে , তাতে রোমিও এর প্রতি ভালোবাসার কোন প্রমান হয় না । সে তাঁর আগের কথাগুলো মনে করতে পেরেছিল , কিন্তু এই মুহূর্তে ,এই দূরত্বে তা বলা সম্ভব না । এই  ধরনের বিচক্ষন নারীদের বেলায় , সব কিছু তুচ্ছ করে , সামনের সব অভিযোগ এক দিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে , তাদের নিজেদের ভালোবাসা জয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠে । কিন্তু তাদের এখন কোন উপায়  নেই , তাদের এই প্রণয়কে বাঁধা দেয়ার জন্য সেখানে কোন বাধা নেই । রোমিও তাঁর কথা শুনেছে , তখন জুলিয়েট স্বপ্নেও ভাবে নি রোমিও এখানে তাঁর প্রেমের স্বীকাররোক্তি স্বরুপ এসে দাঁড়িয়েছে ।  তাই ,সহজভাবে তা স্বীকার করে তাকে ভালো মন্টেগু নাম সম্বোধন করে বললো , যে তুমি যা শুনেছো তা ঠিক , এইভাবে অবচেতন ভাবে কথা বের হওয়ায় খারাপ কিছু ভাববেন না । যদিও আমি মেয়ে  বলে আমার বুদ্ধি হয়তো ভালো না , যারা ভণ্ড ,মিথ্যা কথা বলে তাঁর চেয়ে সত্য বলছি – তা আমি প্রমান করে দিতে পারি । ”

যখন জুলিয়েট রোমিওকে থামাচ্ছিলো , কোন ধরনের উদ্দ্যেগ নিতে বাঁধা দিচ্ছিলো , রোমিও মনের অজান্তেই তখন আরেকটু হলেই জুলিয়েটকে অসম্মান করতে যাচ্ছিলেন । এই রাতটা তাদের  জীবনের মাঝখানে হঠাৎ আসলেও রোমিও আসায় তিনি অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন । কিন্তু রোমিও তাঁর ভালোবাসার কথা জুলিয়েটকে বলার জন্য অতি তৎপর ছিলেন , জুলিয়েট জানায় , তাঁর  অনুরোধের আগে সে রোমিওকে সঁপে দিয়েছে । অর্থাৎ , জুলিয়েটের প্রেমের স্বীকারোক্তি সে শুনে নি , কিন্তু জুলিয়েট তা প্রত্যাহার করতে পারতো । এই প্রেমের সংলাপের মাঝখানে , জুলিয়েটের নার্স  তাঁকে ডাক দিলো । তিনি জুলিয়েটের সাথে ঘুমিয়ে ছিলেন । তিনি বললেন , এখন প্রায় ভোর হয়ে আসছে , তাঁর এখন ঘুমানো উচিৎ । জুলিয়েট তখন তাড়াহুড়া করে ফেরার পথে রোমিওকে বললো , তাঁর  প্রেম সত্যিই সম্মানজনক । বিয়ের স্থান – কাল ঠিক করার জন্য তাঁর কাছে বার্তা পাঠাবে । সে এখন তাঁর ভাগ্য রোমিও এর কাছে সঁপে দিয়েছে , এই পৃথিবীতে সেই এখন তাঁর প্রভু । যখন তারা এই ব্যাপারে  ঠিক করছিল , নার্স জুলিয়েটকে ডেকেই যাচ্ছিলো । জুলিয়েট আরার কতোটুকু যায় , আবার ফিরে আসে , আবার যায় , আবার ফিরে আসে । ছোট এক বালিকার পাখি যেমন একটা গেলে , তাঁর নরম পালক ধরে আবার টেনে কাছে নেয় , ঠিক তেমনি , রোমিওকে ছেড়ে যেতে তাঁর ইচ্ছে হচ্ছিলো না । রোমিও এর অবস্থাও জুলিয়েটের মতন । তাদের প্রতিটি কথা যেন এই রাতে সুরের মূর্ছনা তৈরি করে  চলছে চারিদিকে । অবশেষে , তাদের আলাদা হতে হলো ,রাতের ঘুমটা তাদের হয়তো শান্তিতেই কেটেছে ।

বাকিটা সময় রোমিও তাঁর প্রেমের কথা ভাবতে ভাবতে কেটেছে । তাদের সাক্ষাৎকারের কারণে রোমিও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পরেছে । ঘরে যাবার বদলে , ভিক্ষু লরেন্সকে খুঁজতে গির্জায় সময়ে কাটিয়েছিল ।  সাধু ভিক্ষুটি তাঁর প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন । কিন্তু এতো সকালে রোমিওকে বাইরে দেখে সে মনে করেছে , সারা রাত ঘুমায় নি , কিছুটা অসুস্থ লাগছে তাঁকে । ভিক্ষুটি ঠিক কারণ বের করেছিল । রোমিও এখন জুলিয়েটের প্রতি প্রেমে ডুবে আছে । কিন্তু রোমিও এর সম্মন্ধে তাঁর ধারণা ভুল ছিলো । তিনি মনে করেছিলেম রোজালিনকে সে এখনো ভুলতে পারি নি । কিন্তু রোমিও জুলিয়েটের প্রতি ভালোবাসার কথা  ভিক্ষুকে জানিয়ে তাঁকে অনুরোধ করে , যেন তাদের বিয়েতে তিন সাহায্য করে । এই কথা শুনে সাধু কিছুটা অবাক হয় । রোজালিনের প্রতি তাঁর প্রেম তাঁকে ছিনভিন্ন করে দিয়েছিল , তাঁর অসাদাচরনের অনেক অভিযোগ তিনি শুনেছে । তিনি বললেন , যুবক বয়েসের প্রেম হৃদয়ে থাকে না , থাকে চোখে । হ্যাঁ , রোজালিনের প্রতি তাঁর প্রেম সে কষ্ট পেয়েছে , রোমিও রোজালিনকে ভালবেসেছে , কিন্তু  জুলিয়েট সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেয় নি । কিন্তু এখানে জুলিয়েট এবং রোমিও দুইজন দুইজনকে ভালবাসে । তাঁর এই যুক্তিতে ভিক্ষু সম্মত হয় । আরও কিছু চিন্তা করে দেখলো যে , যদি তাদেরকে  বিয়ে দেওয়া যায় তাহলে মন্টেগু এবং ক্যাপুলেটসের মধ্যে সকল দ্বন্দের অবসান ঘটতে পারে । এই দুই পরিবারের তিনি বন্ধু ছিলেন , অনেক ঝগড়ার মধ্যস্থতা তিনি করেছেন । এই ধরনের চিন্তাভাবনায় ,  বৃদ্ধ মানুষটি তাদের বিয়ে দিতে রাজি হয় ।

রোমিও এখন খুশি । বার্তাবাহকের মাধ্যমে রোমিওর সব খবর জুলিয়েট পেয়েছে । সাধু লরেন্সের উপস্থিতিতে ভালমতন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে । লরেন্স এই যুগল যাতে হাসি খুশি থাকে এবং এই মিলনের মাধ্যমে মন্টেগু এবং ক্যাপুলেট দের মধ্যে বৈরিভাব যাতে দূর হয় , সেই ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করেছে ।

বিয়ে শেষ হবার পর , জুলিয়েট বাড়ি ফিরে আসলো , রাতের জন্য সে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে । রোমিও তাঁকে কথা দিয়েছে , রাতে বাগানে সেই আগের জায়গায় দেখা করতে আসবে । কিন্তু সময় যেনো কাটছে না । উৎসবের আগে যেমন ছোট বাচ্চারা নতুন পোশাক পরার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করে , ঠিক তেমনি জুলিয়েটের মনের অবস্থা এখন সেইরকম ।

একই দিন , দুপুর বেলা , রোমিওের বন্ধু বেনভেলিও এবং মারকিউটো , ভেরনার রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলছে । সেখানে ক্ষিপ্ত ক্যাপুলেট তাঁর দল্বল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল । সেই দিনের ক্যাপুলেটের ভোজে তাঁকে  দেখে যে রাগ হয়েছিল , এতদিন সেই রাগ সে পুষিয়ে রেখেছে । সে রোমিওকে সাহায্য করার জন্য মার্কিউটোকে দোষী সাব্যস্ত করে , মার্কিউটো , টাইবেল্টের মতন রগচটা , সে তীক্ষ্ণ ভাষায় কথার  জবাব দেয় । বেনভেলিও তাদের রাগ সংযম করতে বলতে পারতো , কিন্তু ঝগড়া ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে । যখন রোমিও পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো , টাইবেলট , রোমিও এর দিকে ঘুরে তাঁকে ভিলেন  নামে আখ্যায়িত করে । রোমিও এর এহকন টাইবেল্টের সাথে ঝগড়া করতে চাই না , কারন সে এখন তাঁর শালা , জুলিয়েটের প্রিয় ভাই । এই মনটেগু কোনদিন তাদের সাথে ঝগড়া করে নি । স্বভাবতই  নম্র , ভদ্র স্বভাবের ক্যাপুলটের এর কাছে গরম হবার চেয়ে চুপচাপ থাকাটাই আনন্দের মনে করলো । টাইবেল্টকে ভালো ক্যাপুলেটের নাম সম্বোধন করে যুক্তি দেখিয়ে ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করল , যদিও সেই নামে সম্বোধন করে রোমিও কিছুটা মজা পেলেও টাইবেল্ট কিছুতেই সেই কথা শুনতে চাইলো না । বরং সে আরও অস্ত্র বের করলো । মারকিউটো সে বুঝতে পারে নি , রোমিও ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি  সামাল দেবার চেষ্টা করছে । এই ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতিতে রোমিওের শান্ত ভাব উপেক্ষা করে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে । টাইবেল্ট এর সাথে মারকিউটো মারামারি লেগে গেলো । মারকিউটো  পরে গেলো , অন্যদিকে রোমিও এবং বেনভলিও চেষ্টা করেও তাঁকে টাইবেলটের হাত থেকে বাঁচাতে পারে নি । মারকিউটো মারা গেলে , রোমিও আর নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে পারে নি । রোমিও  টাইবেলটকে ক্ষত বিক্ষত করে তুললো । মধ্য দুপুরের তাদের এই মারামারির ঘটনা শহরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে গেলো । তড়িঘড়ি করে , মনটেগু এবং ক্যাপুলেট বাড়ি থেকে লোকজন জড়ো হয় । শীঘ্রই  সেখানে প্রিন্স এসে উপস্থিত হয় । এই ধরনের ঝগড়া শহরের শান্তির বিঘ্ন ঘটায় , তাই তিনি দোষীকে কঠোর শাস্তি দিবেন বলে স্থির করলেন । বেনভলিও প্রিন্সকে কিভাবে ঝগড়া শুরু হলো , পরে কি  ঘটেছে সব কথা খুলে বলে। ল্যাডি ক্যাপুলেট তাঁর আত্মীয় টাইবেল্টের মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করতে থাকে , বেনভলিও কথা না শুনে হত্যাকারীর বিচারের দাবি প্রিন্সের কাছে উপস্থাপন করে । তিনি  দাবি করেন , বেনভলিও রোমিও এর বন্ধু , সে তাঁর পক্ষে কথা বলছে । কিন্তু তিনি জানেন না , এই রোমিও তাঁর জামাতা , জুলিয়েটের স্বামী । অনেকে বলেন ,রোমিও টাইবেল্টেকে মেরে কোন অন্যায় করে নি , কারণ টাইবেল্টে আগে মারকিউটোকে মেরেছে । প্রিন্স মহিলাদের কথা এবং পুরো বিষয় চিন্তা ভাবনা করে রোমিওকে verona থেকে বহিস্কৃত করেন ।

কিছুক্ষণ আগে যে নারীর নববধূ রুপে সেজেছিলো , এখন অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাঁকে এখন স্থায়ী তালাকপ্রাপ্ত হতে হবে । সেই সংবাদ শুনা মাত্র তিনি রোমিও এর প্রতি ক্ষেপে যান , জুলিয়েটের কাজিনকে সে মেরেছে । তিনি তাঁকে সুন্দর অত্যাচারী , পাষণ্ড , হিংস্র পশু রুপে গালি দিতে থাকেব । সুন্দর নিস্পাপ চেহেরার পিছনে সর্প-হৃদয় বাস করছে সেখানে । পরে তাঁর এই প্রতিশোধরুপী মনোভাবএর জায়গায় , প্রেম জায়গা করে নেয় । রোমিও এর পরিণতির কথা ভেবে তাঁর চোখ জল চলে আসে । টাইবেল্ট যদি রোমিওকে মেরে ফেলতো !! রোমিও নির্বাসনের দুক্ষে তাঁর হৃদয় আরও ভারী হয়ে গেল । শত শত টাইবেল্টের চেয়ে সেই শব্দটি যেনও তাঁর কাছে আরও বেশি ভয়ানক হয়ে উঠেছে ।

গণ্ডগোলের পর , রোমিও লরেন্সের কাছে আশ্রয় নেয় । তাঁর কাছে এই নির্বাসন মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানক মনে হচ্ছে । verona এর কারোর সাথে দেখা হবে না এমনকি , জুলিয়েটের সাথেও না । জুলিয়েট ছাড়া তাঁর কাছে পুরো বিশ্ব এখন নরকের মতন লাগছে । সাধু লোকটি তাঁকে সান্তনা দেবার চেষ্টা করলো । সেই কথাগুলোর দিকে রোমিও এর কোন মনোযোগ নেই , দুঃখে সে তখন পাগলপ্রায় , ক্ষোভে কষ্টে চুল ছিঁড়ছে , মাটিতে দাপাদাপি করছে । সাধু তাঁকে থামানোর জন্য হালকা ভর্ৎসনা করলেন । রোমিও টাইবেল্টকে মেরেছে , কিন্তু নিজেকে কি মেরেছে , তাঁর প্রেমকে কি মেরেছে ? সাধুর এই কথায় কিছুটা জ্ঞান ফিরে পেলো রোমিও । প্রিন্সের মৃত্যুর বদলে তাঁর এই নির্বাসনের শাস্তি সমুচিত মনে হল । সে টাইবেল্টকে মেরেছে , কিন্তু টাইবেল্ট তাঁকে মেরে ফেলতো । সান্ত্বনার কথা এই জুলিয়েট
বেঁচে আছে . তাঁর প্রেমের কিছু হয় নি । সাধু ব্যক্তির কথায় সে কিছুটা আশ্বস্ত পেলো । তিনি বললেন , এই রকম হতাশা , মৃত্যু কামনা করা ভালো না , অনেক শোচনীয় কাজ । রোমিও যখন শান্ত হলো তখন তিনি বললেন , রাতে গোপনে সেখানে যেয়ে জুলিয়েট থেকে বিদায় নিয়ে এসে , Mantua এর দিকে রওনা দিতে । সেখানে কিছুদিন থাকতে হবে তাঁকে । তারপর সময় বুঝে তাদের বিয়ের ঘোষণা করবে তিনি । এতে হয়তো দুই পরিবার খুশি হতে পারে । তারপর রাজার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ব্যাপাবে আবেদন করা হবে । রোমিও যে কষ্ট নিয়ে এখানে এসেছে তাঁর বিশ গুন আনন্দ নিয়ে সে ফিরে যাবে । রোমিও সাধুর এই কথায় আশ্বস্ত হলেন । তারপর রোমিও জুলিয়েটের সাথে দেখা করার জন্য প্রস্থান করলেন , ভোর হবার আগে দেখান থেকে mantua তে চলে যাবেন । সাধু কথা দিয়েছিলেন , চিঠির মাধ্যমে সব খবরাখবর জানাবে ।

সেই বাগানে রোমিও তাঁর প্রিয় জুলিয়েটের সাথে রাত কাটালেন । জানালার সামনে গিয়ে জুলিয়েটকে মুগ্ধ নয়নে দেকছে রোমিও । তাদের উপস্থিতি জুড়ে এক রমণীয় মাহেন্দ্রক্ষন অবস্থান করছিল । এক পরমানন্দ আবিষ্ট করে রেখেছিলো চারপাশ । তাদের এই মিলনক্ষণ ক্রমেই হ্রাস হয়ে এসেছে । তাদের দুজনকে এখন আলাদা হয়ে যেতে হবে । পাখিদের গান গাওয়া শুরু হলো । কিন্তু অন্য সময় মিস্টি মন মাতানো সেই কলকাকলি যেনও আজ অনেক বেসুরো লাগছে জুলিয়েটের কাছে । মুহূর্তের মধ্যে ভোরের আভা ছড়িয়ে গেলো পূর্ব দিক জুড়ে । এই ধরণী যেনো তাদেরকে আলাদা করতে সব শক্তি দিয়ে উঠে পরে লেগেছে । রোমিও জুলিয়েট থেকে বিদায় নিলো , যাবার আগে কথা দিয়েছে , তাঁকে Mantua থেকে দিনে প্রতিঘণ্টায় চিঠি লিখবে , যখন জানালা থেকে নেমে যখন রোমিও নিচে
দাঁড়িয়ে ছিল , তখন জুলিয়েটের কাছে তা সমাধির মতন মনে হলো । রোমিওকে এখন ভারাক্রান্ত হ্রদয়ে জুলিয়েটকে ছেড়ে চলে যেতে হবে ।

তাদের এই বিদায়ের পর , বেশিদিন হয় নি যে রোমিও চলে গিয়েছে । এরই মধ্যে , বৃদ্ধ ক্যাপুলেট জুলিয়েটের জন্য পাত্র পছন্দ করেছে । কেউ স্বপ্নেও ভাবে নি , জুলেয়ট বিয়ে করেছে । সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলে প্যারিসের সাথে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে , তরুন , দেখতেও সুন্দর । জুলিয়েটের জন্য মানানসই । জুলিয়েট যদি রোমিওকে কোনদিন না দেখতে , তাহলে সেই প্যারিস পাত্রটি হয়তোবা জুলিয়েটের রাজপুত্র হতো ।

এই কথা শুনা মাত্র জুলিয়েট বিহ্বল হয়ে পরে । সে জানায় তাঁর মন এখন বিয়ের জন্য প্রস্তত না । টাইবেল্টের মৃত্যর ঘটনায় সে অনেক আঘাত পেয়েছে , শোক না কাটিয়ে উঠার আগে কিভাবে বিয়ের মতন অনুষ্ঠান তারা করতে যাচ্ছে । যখন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায় , তখন সে খুঁত ধরা শুরু করেছে । কিন্তু বৃদ্ধ ক্যাপুলেট সব কিছু অগ্রাহ্য করে , বৃহস্পতিবার প্যারিসের সাথে তাঁর বিয়ে ঠিক করেন । এই ধরনের সুন্দর , ধনী বংশের পাত্র পেয়ে verona সবাই খুশি হবে । তিনি আর কিছু শুনতে চাইলেন না , তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়ে দেন , জুলিয়েটকে তাঁকে বিয়ে করতে হবে , নয়তো তাঁর সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে ।

এই ধরনের কঠিন অবস্থায় জুলিয়েট সেই সাধুর কাছে উপদেশ চাইলো , কি করা যায় । সাধু তাঁকে জিজ্ঞেস করলো , জুলিয়েট কোন সমস্যার সমাধান পেয়েছে কিনা । জুলিয়েট বলে , তাঁর স্বামী জীবিত থাকাকালে প্যারিসকে বিয়ে করতে হলে তিনি কবরে চলে যাবেন । সাধু তাঁকে উপদেশ দিলেন ঘরে যেতে , বিয়ের জন্য রাজি হতে । পরের রাতে , অর্থাৎ বিয়ের আগের রাত , জুলিয়েট যেনো সাধুর দেয়া ঔষুধ খায় , সেই ঔষুধ খেলে জুলিয়েট ৪৮ ঘণ্টা ঠাণ্ডা অচেতন অবস্থায় পরে থাকবে । বর তাকে নিতে আসলে , তারা তাঁকে মৃত মনে করে চলে যাবে । পরিবার তাঁকে ভল্টে করে সমাহিত করলে সেখান থেকে উঠে আসবে । প্যারিসকে বিয়ে করার ভয়ে জুলিয়েট এই সাহসী পরিকল্পনায় রাজি হয় । সাধু তার স্বামীকে এই ব্যাপারে জানিয়ে রাখবে , এবং রাতে সে সেখানে এসে জুলিয়েটকে mantua তে নিয়ে যাবে ।

গির্জা থেকে যেয়ে , প্যারিসের সাথে জুলিয়েট দেখা করে , এবং বিয়েতে তাঁর সম্মতির কথা জানায় । তাঁর এই কথায় বৃদ্ধ ক্যাপুলেট এবং তাঁর স্ত্রী অনেক খুশি হয় , এবং পুরো verona জুড়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পরে ।

বুধবার রাতে জুলিয়েট পুরো মিশ্রণ খেয়ে ফেলে । সে সাধুর কথার ব্যাপারে কিছুটা সন্দেহ ছিল । জুলিয়েট তাঁকে ভালো লোক হিসেবে জানে , কিন্তু রোমিও যদি তাঁর কাছে না আসে , ভল্টের ভিতরে টাইবেলটের হাড় , মাথার খুলির কথা কল্পনায় আনতেই সে ভয় পেয়ে গেল , এক ধরনের অশরীরী ভয় গ্রাস করেছে তাঁকে । কিন্তু যখন আবার রোমিওর ভালোবাসার , প্যারিসকে বিয়ে করার বিতৃষ্ণার  কথা যখন তাঁর মনে আসলো সে পুরো শিশি খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লো।

প্যারিস সকালবেলা বাড়িতে প্রবেশ করতেই কাঁদতে থাকে । বেচারা প্যারিস!! বিয়ে করার আগেই বউ তাকে ছেড়ে ভবসাগর পার করে ফেললো । বৃদ্ধ ক্যাপুলেট এবং লেডি ক্যাপুলেটও শোকে কাঁদতে থাকলো , হাসিখুসি এই মেয়েটাকে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্য কেড়ে নিলো । বিয়ের আনন্দ এখন শোকে পরিণত হয়েছে , বিয়ের আনন্দের জন্য যে মিউজিক প্রস্তুত ছিল তার বদলে সেখানে শোকস্তব চলছে , বধুকে বরন করার জন্য যে ফুল আনা হয়েছিলো , সেই ফুল এখন শবের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে । যে পুরোহিত বিয়ের জন্য ঠিক করা ছিল , তাকে কবর দেবার জন্য আরেক পুরোহিত দরকার পরছে ।

খারপ খবর ভালো খবরের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় । সাধুর পাঠানোর খবরের আগে জুলিয়েটের এই বেদনার খবর রোমিও এর কাছে পৌছে যায় । সাধুর চিঠিতে লেখা ছিল , যে এটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নকল , কিছু সময়ের জন্য সে কবরে থাকবে , রোমিও সেই সময় সেখানে এসে তাঁকে যাতে উদ্ধার করে নিয়ে যায় । এর আগে রোমিও কিছুটা হাসিখুশি ভাবে ছিল । স্বপ্নে সে দেখেছিল , সে মৃত । তাঁর ভালোবাসার সেই নারী তাঁর কাছে এসে রোমিওকে মৃত পায় , তারপর সেই নারী রোমিওর ঠোঁটে শ্বাস রাখতেই রোমিও তাঁর শ্বাস ফিরে পেলো । এখন verona থেকে সে বার্তাবাহককে এখানে দেখে , স্বপ্নের পুর্বাভাস অনুযায়ী সে কোন সুখবর মনে করেছিলো । কিন্তু স্বপ্নের পুরো উল্টো অবস্থা দেখে সে ঘাবড়ে যায় । সেই নারী এখন মৃত্যুশয্যায় , চুম্বনের মাধ্যমে রোমিওকে আর জাগাতে পারবে না । সে ঘোড়া নিয়ে
প্রস্তুত হলো , সে স্থির করলো রাতে কবরে তাঁকে দেখতে যাবে । এই সময় সে এক অপকর্ম ঘটিয়ে বসলো । এক দরিদ্র ঔষধ বিক্রেতার কথা মনে করলো । Mantua তে তাঁর এক দোকান আছে , দেখতে অনেকটা ভিখারি , জরাজীর্ণ ধরনের । খালি বাক্সে কিছু ভাঙ্গাচোরা সেলফ আছে , হঠাৎ সে বলে উঠলো , যদি একজন মানুষের বিষের প্রয়োজন হয়, তাহলে মেন্টুয়ার আইন দ্বারা যে বিক্রি করবে তাঁর মৃত্যু ঘটবে । এখানে সেই গরিব লোক সেটি বিক্রি করে । ” তাঁর এই শব্দগুলো রোমিওের কাছে পৌছালো । রোমিও ঔষধ বিক্রেতাকে খুঁজে তাঁকে বিষ দিতে বললো । রোমিও তার বদলে তাঁকে স্বর্ণ উপহার দিবে । স্বর্ণের লোভ সামলাতে না পেরে ঔষধ বিক্রেতা তাঁকে বিষ দিয়ে দেয় ।

বিষ নিয়ে সে ভেরনাতে গেল । ভেরনাতে পৌছানো মাত্র সে চার্জসমাধিক্ষেত্র খুঁজে পেলো । সেখানে মাঝখানে ক্যাপুলেটদের পুরান কবর আছে । তাঁকে লাইট , কোদাল দেয়া হয়েছিল । যখন সে লোহা ভেঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙছিলো তখন মনটেগু থেকে আওয়াজ এসে কাজে বিঘ্ন উপস্থিত হলো ।সেটি প্যারিসের কণ্ঠ ছিল । এই অসময়ে সে ফুল দিয়ে কান্নাকাটি করার জন্য এসেছে । সে রোমিওএর কোন ব্যাপারে এখানে এসেছে সেটি তাঁর অজানা ছিল , কিনতু সে যে মন্টেগু এবং তারা ক্যাপুলেটের চরম শত্রু সেটা সে জানা ছিল । এতো রাতে লাশ নিয়ে কোন অঘটন ঘটার কোন আশংকায় সে রোমিওকে ক্রিমিনাল নামে গালি দিতে থাকে । ভেরনার রুলস অনুসারে তাঁকে এখানে পেলে গ্রেপ্তার করতে হবে তাঁকে । রোমিও প্যারিসকে অনুরোধ করে তাঁকে ছেড়ে দেবার জন্য , টাইবেল্টের কতাহ স্মরণ করিয়ে সে বলে , যদি তাকে রাগ করালে , প্যারিসের অবস্থা টাইবেল্টের মতন হবে । কিন্তু সেই সাবধানবাণী প্যারিস শুনলো না , তাদের মধ্যে মারামারি লেগে যায় । প্যারসি পরে যায় লাইট দিয়ে দেখে
প্যারিস নিহত হয়েছে । রোমিও তাঁর মৃতদেহ নিয়ে তাঁকে triumphal কবরে কবর দিতে পারে , যেখানে জুলিয়েটের কবর আছে । সে কবর খুলে দেখল তাঁর সেই প্রিয়তমা সেখানে শুয়ে আছে , চেহারায় কোন পরিবর্তন নেই । তাঁর রুপের সেই সৌন্দর্যেরও কোন পরিবর্তন নেই , মনে হয় যেনও , মৃত্যুও প্রনয়শীল । সে এখনো প্রস্ফুটিত অবস্থায় আছে । তাঁর পাশে টাইবেল্ট শুয়ে আছে , দুঃখ করে বললো সে তাঁকে ইচ্ছে করে মারে নি , রোমিও সেই প্রেমিকার ঠোঁটে শেষ বারের মতন চুমু দিলো । সে যে বিষ এনেছিলো তা খেয়ে নিলো , সেই বিষ অচেতনকারক নয় , সত্যি সত্যি বিষ । অন্যদিকে জুলিয়েটের মিশ্রণের প্রভাব কমতে শুরু করেছে ।

ঘণ্টাকয়েকপরে , সাধু সেখানে উপস্থিত হয় , সে কথা দিয়েছিল , সে জেগে উঠবে । কিন্তু mantuaতে যে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন তা সেখানে রোমিও এর কাছে পৌছায় নি । সে নিজে জুলিয়েটকে মুক্ত করার জন্য কুঠার আর হারিকেন নিয়ে এসেছে । কিন্তু এখানে এসে দেখে , ক্যাপিউলেট কবরের বাতি জ্বলছে , তালোয়ার পরে আছে , রক্ত ছড়িয়ে আছে । রোমিও , প্যারিস পরে আছে ।

এখানে কি ঘটেছে সেটা অনুমান করে হয়তো সাধু কিছুটা বিনোদন করতে পারতো । জুলিয়েটের জ্ঞান ফিরেছে , সাধুকে কাছে দেখে তাঁর সব কিছু মনে পড়েছে । রোমিও এর জিজ্ঞেস করতেই , সাধুর কানে শব্দ আসতেই তাঁকে বললো সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে । লোকজনের আওয়াজ কাছে আসতেই সাধু দৌড়ে পালিয়ে গেল , কিন্তু জুলিয়েট দেখলো রোমিওের হাতে শিশি , সে মনে করলো , বিষ খেয়ে তাঁর ভালবাসার নিঃশেষ ঘটেছে । সে রোমিও নরম হাতে চুমু দিয়ে , তাঁর পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিলো । রোমিওের পাশে সে মরে পরে গেল ।

লোকজনসব দ্রুত জড়ো হলো , এক ছেলে রোমিও এবং প্যারিসের মারামারি দেখে ঘণ্টা বাজিয়েছিল । সেই ঘণ্টা শুনে সব শহরের মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছে । ভেরোনার রাস্তার সবাই বিস্ময় প্রকাশ করে, প্যারিস !! জুলিয়েট !! রোমিও !! ক্যামনে কি !! মন্টেগু , ক্যাপিউলেট , প্রিন্স রহস্য উদঘাটনে ব্যস্ত হয়ে পরলো । সাধু লোকজনের হাতে ধরা পড়েছে । সাধু সবার সম্মুখে প্রিন্সের কাছে পুরো ঘটনা ব্যক্ত করে ।

পরে প্রিন্স , বৃদ্ধ মন্টেগু এবং ক্যাপুলেটদের দিকে ঘুরে তাদের এই পাষণ্ড , অসঙ্গত শত্রুতার জন্য তিরস্কার করেন । তাদের এই হিংসার জন্য এই দুই সন্তানকে চরম মুল্য দিতে হয়েছে । তাদের এই পুরনো শত্রুতা চিরদিনের জন্য ভুলে যাবার জন্য পণ করলেন । ক্যাপুলেট মনটেগু এর হাত ধরে , বললেন তাকে যেন ভাই বলে ডাকেন । ক্যাপুলেট চান তাদের এই সম্পর্ক যাতে কোনদিন খারাপ না হোক , Montague , জুলিয়েটের এক স্বর্ণের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করবেন । , ক্যাপিউলেট বলেন , তিনি রোমিও এর জন্য একটি মূর্তি বানাবেন । দুই সন্তানের এইভাবে বিসর্জনের মাধ্যমে দুই পরিবারের
শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় ।

রোমিও- জুলিয়েট বাংলা অনুবাদ –

source : http://reading.searchenglish.com/romeo-and-juliet/

Romeo and Juliet – Translation in Bangla