“সুইস ফ্যামিলি রবিনসন”

“সুইস ফ্যামিলি রবিনসন”

আজ আবার গল্পটার ৮৪ তম পেইজে এসে আমি থামলাম কিছু লিখার জন্য। আসলে থামতে বাধ্য হলাম বলতে হয়, কারণ এটুকু অংশ শেয়ার না করে থাকা যাচ্ছিল না। আপনারা জানেন রবিনসন, তার স্ত্রী এলিজাবেথ, আর তাদের ৪ ছেলে আটকা পড়েছে একটা দ্বীপের মাঝে। একাকী একটা পরিবারকে সম্পূর্ন নতুন একটা পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বেশ খাটতে হচ্ছে, তবে তারা বেশ উৎফুল্লতার সাথেই টেকনিকাললি শ্রম দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারটিকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে, কারণ তারা প্রত্যেকে পরিশ্রমী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং পজিটিভ।

যা শেয়ার করার জন্য আমি থামলাম সেটা বলি-

মজার ব্যাপার হলো, এই রবিনসন পরিবার “রবিনসন ক্রুসো” বই এর ভক্ত, এই বইটা ওরা সবাই এতোবার পড়েছে যে সব ওদের মুখস্ত আর এ গল্পটার সাথে তাদের জীবনের এই সংকটাপূর্ন মুহূর্তের মিল খুঁজে পেয়ে তারা তাদের সব সমস্যার সমাধান সেই রবিনসন বই এর আলোকে করার কথা ভাবে।

তো, হেসে খেলে, প্রচুর কাজ আর ব্যস্ততার মাঝে বেশ ভালোই কাটছিল তাদের দিনকাল। এর মাঝে হঠাৎ শুরু হলো বর্ষা, তাদের প্রস্তুতি নেয়ারও কোনো উপায় থাকল না। পরিবারটি তাদের বাসা বেঁধেছিল বিশাল এক গাছের অনেক উঁচু তে, তাই বর্ষার বর্ষন আর বাতাসে সেখানে টিকতে না পেরে ট্রি হাউস থেকে নেমে আশ্রয় নিতে হয় তাদের সেই পালিত পশুগুলোর খামার ঘরে। টানা বর্ষনে এক ঘরে পশুগুলোর সাথে গাদাগাদি করে থাকতে অসম্ভব কষ্ট হচ্ছিল তাদের। তারপরও এই কর্মঠ পরিবারটি অলস সময় কাটাচ্ছিল না, বোর হচ্ছিল না কিছু না কিছুতে নিজেদের কে ব্যস্ত রাখছিল প্রতিনিয়ত। রবিনসনের স্ত্রী এলিজাবেথ ওদের জন্য জামা কাপড় সেলাই করতেন সারাদিন, ছেলেরা সবাই পড়াশোনা করত, নতুন কিছু শিখত, সবাই মিলে প্রার্থনা করত, আর রবিনসন ক্রুসো কে নিয়ে গল্প করত, গল্পটা কেউ বা পড়ত, কেউ পড়ে শোনাত। তারা রবিনসন ক্রুসোর গল্পেই তাদের সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতো, গল্পটার প্রতি তারা এক রকম কৃতজ্ঞতা বোধ করত। পরিবারটির এই দৃশ্যটা আমাকে খুব আকর্ষন করেছে, চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন তাদের মাঝে নিজেকেও কল্পনা করে নিলাম। আর এর সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পেলাম Razib Ahmed স্যারের কথাগুলোর। স্যার আমাদের কে বই পড়তে বলেন, কিশোর ক্লাসিক পড়ার উপর জোর দেন কেনো এর উত্তরই যেন এই গল্পটা আমায় দিয়ে দিল। আমাদের সবার জীবনেই নানান প্রতিকূলতা আসে, বাঁধা বিপত্তি আসে, সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, সমস্যাগুলোর সমাধান করার মাধ্যমেই টিকে থাকতে হবে। আর বই আমাদেরকে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার পথ করে দেয়, একেকটা বই একেকটা জীবনদর্শন শেখায়, প্রতিটি গল্পেই কোনো একটা সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার পথ বাতলে দেয়া থাকে৷ তাই বই পড়ার অভ্যাস থাকলে, যখন কোনো বিপদে পড়ব আমরা, সেই বিপদের সাথে কোনো না কোনো গল্পের সাদৃশ্য হয়ত খুঁজে পেয়ে যাব এবং পেয়ে যাব সেই বিপদ থেকে মুক্তির পথ, যেমনটা এই “সুইস পরিবার রবিনসন” তাদের পড়া “রবিনসন ক্রুসো” থেকে পেয়েছিল।

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *