“সুইস ফ্যামিলি রবিনসন”

আচ্ছা আমি তো “সুইস ফ্যামিলি রবিনসন” এর ফিনিশিং দেই নি!

পড়ে শেষ করেছি কয়েকদিন আগেই, লিখব লিখব করে দেরী হয়ে গেলো।

গল্পটা আমাকে ভীষণ পরিতৃপ্ত করেছে।

একাকী একটা পরিবারের নির্জন এক দ্বীপে সফলভাবে  কাটিয়ে দেয়ার ১০ বছর পূর্তিতে গল্পটার সমাপ্তি ঘটেছে। একটানা ১০টা বছর সভ্যতার বাইরের একটা দ্বীপে পুরো পরিবার নিয়ে এভাবে কাটিয়ে দেয়া চাট্টিখানি কথা নয়! তারা পেরেছিল কারণ তারা প্রত্যেকে ছিল পজিটিভ, পরিশ্রমী, উদ্দমী, সাহসী, আর আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ। ওরা কেউ কাউকে ফাঁকি দেয়নি, নিজেদেরকেও না। সেখানে সারভাইভ করার জন্য প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে গেছে, এবং তারা ব্যস্ততা আর কাজের মাঝে ছিল বলেই ১০টি বছর কখন কেটে গিয়েছে খোঁজই পায় নি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর চেষ্টায় দ্বীপটা যেন স্বর্গে পরিণত হয়েছিল। তবে আমি ওদের প্রতিটি সমস্যার মোকাবিলা এবং প্রতিটি কাজ দেখে যা শিখেছি তা হলো- ওরা অনেক কঠিন এবং অনেক পরিশ্রমের কাজকেও টেকনিকাললি অনেক সহজ করে নিয়েছে, সবকিছু একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে প্ল্যান করে করে এগিয়েছে, তাই সবকিছু এতো সফলভাবে করতে পেরেছিল। তাই শুধু গাধার খাটুনি খেটে গেলেই কিন্তু সফলতা আসবে না, বুদ্ধি খাটিয়ে টেকনিকাললি সবকিছু করলে সব কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়, এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

আরেকটা বিষয় হলো – ওরা আরেকটা ব্যাপার স্ট্রিক্টলি মেনে চলেছে, সেটা হলো প্রতি রবিবারের নিয়মিত প্রার্থনা। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তারা এই দিনটা ছুটি নিয়ে প্রার্থনা করে, রেস্ট নিয়ে, নিজেরা গল্পগুজব করে কাটিয়েছে, এই ছুটিটা কিন্তু তাদের প্রশান্তি দিয়েছে, পুরো সপ্তাহের কাজের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করেছে। তাই ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য, সৃষ্টিকর্তার জন্য এবং নিজের পরিবারের জন্য সময় বের করে নিতে হবে, এগুলো হচ্ছে মনের খোরাক। পরিবার টি সেই প্রতিকূল পরিবেশেও পড়ালেখা থেকে দূরে থাকে নি, ওরা বই পড়েছে, সন্ধ্যাবেলায় সবাই নিয়ম করে পড়তে বসেছে, “রবিনসন ক্রুসো” বই পড়ে তারা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার শিক্ষা পেয়েছে।

গল্পের একমাত্র নারী রবিনসনের স্ত্রী এলিজাবেথের ভূমিকাও নেহাৎ কম নয়। একজন নারী যেভাবে সবাইকে শক্ত বাঁধনে আবদ্ধ রেখে আগলে রাখে এটা কি আর পুরুষদের দ্বারা সম্ভব?! এলিজাবেথকে খুব সাহসী,বুদ্ধিমতী এবং সাংসারিক নারী মনে হয়েছে আমার, একজন নারী ওই অবস্থায় সাপোর্ট দিতে যা যা করতে পারে সবই করেছেন উনি, দারুণ দারুণ কিছু আইডিয়াও দিয়েছেন উনি, যেমন – গাছের উপরে তৈরী সেই “ফেলকন নেস্ট” কিন্তু উনার বুদ্ধিতেই বানানো হয়েছিল, এছাড়াও পরিবারের খাবার, পোশাক পরিচ্ছদের জোগানও এলিজাবেথই দিয়েছেন। বলা বাহুল্য, এই নারীর অস্তিত্ব ছাড়া শুধু ৪টা পরিশ্রমী পুরুষের দ্বারা এই নির্জন দ্বীপে টিকে থাকা আরও অনেক বেশি কঠিন হয়ে যেত বৈ কি!!

এই পরিবারটি সেখানে টিকে থাকতে পেরেছিল কারণ তারা কোনো বিপদ দেখে ভয় পেয়ে পালাতে চায় নি, প্রত্যেকটা বিপদকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করেছে। ওরা কোনো কিছু নিয়েই হতাশ হয় নি, সব কিছু থেকে আনন্দ নেয়ার চেষ্টা করেছে, ভালো দিক টা খুঁজে বের করেছে। তাদের জীবনে সবই ছিল, হাসি, আনন্দ, কাজ, ব্যস্ততা পরিশ্রম, ভালোবাসা, একতরফা কাজ আর ব্যস্ততা নিয়ে পরে না থেকে, গল্পগুজব, হাসি, আনন্দের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে দুশ্চিন্তামুক্ত রেখেছে।

পরিপূর্ণ জীবন যাকে বলে সেটাই তারা যাপন করেছে, তাই ভালো থেকেছে।

এই “সুইস ফ্যামিল রবিনসন” আমাদের জন্য অনুকরণীয় একটা পরিবার বলে আমি মনে করি।

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *