টম সয়্যার ছেলেটা সব সময় শুধু সুযোগ খোঁজে কি করে গায়ের লোকদের চমকে দিতে পারবে, আর ওদের মুখে মুখে ওর প্রশংসনীয় নাম শুনতে পাবে। তাই পায়তারা করে বিখ্যাত হওয়ার মতো কিছু করার, আর ওর সাথে সব সময় আঠার মতো তো লেগে আছেই বন্ধু হাকলবেরি ফিন। তো এইবার তাদের আকাঙ্ক্ষিত সুযোগ আবারও এসে গেলো। এক পাগলাটে আর ক্ষেপাটে বিজ্ঞানী বেলুনের সাথে নৌকা লাগিয়ে বানিয়েছে অদ্ভুত এক আকাশযান, এটা চড়ে নাকি সে ইউরোপ পারি দিবে। গায়ের লোকরা তো এটা দেখে হেসেই খুন। কিন্তু টম সেই আকাশযানে উঠে পড়ল তাদের চাকর জিম আর বন্ধু ফিন কে নিয়ে। শুরু হলো এই অদ্ভুত যানে চড়ে আকাশপথে বিশ্বভ্রমণ। বিজ্ঞানী ওদেরকে এই যান চালানোও শিখিয়ে দিল আর বন্দুক নেড়ে ভয় দেখিয়ে বলল যেনো কোনো চালাকি কেউ না করে। আরও এক অদ্ভুত কথা শুনালেন যে, এইটায় চরে পুরো দুনিয়া ঘুরে আসবেন, এরপর এটাকে মানুষের হাতে তুলে না দিয়ে টম সয়্যারদের সহই সমুদ্রে ডুবিয়ে দিবেন!! এটা শুনে তো ওরা আরও ভয় পেয়ে গেল!!
এদিকে ক্ষেপাটে বিজ্ঞানীর আতঙ্কে দিন কাটলেও তারা বেশ উপভোগও করছে নিচের পৃথিবীটাকে এভাবে দেখার সুযোগ পেয়ে। আর এদিকে পাগল বিজ্ঞানী মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ওদেরকে গালিগালাজ করতে করতে দুর্ভাগ্যবশত সমুদ্রে পরে গিয়ে ডুবে মরল!! বেচারার পরিণতিতে ওরা খুব কষ্ট পেল, কিন্তু ওদের তো কিছুই করার ছিল না! এরপর ওরা তিনজন এতে চরেই দেখল সবুজ পৃথিবী, আটলান্টিক মহাসাগর, সাহারা মরুভূমি আর মিশরের পিরামিড। সাহারা মরুভূমিতে থাকা অবস্থায় তারা অনেক নির্মম লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার শিকার হলো। আকাশযান থেকে পানির খোঁজে মরুভূমিতে নেমে দুইবার সিংহের তারা খেল, মরুর এক কাফেলা দেখতে পেল এবং দেখল তাদের উপর ডাকাতের আক্রমণ আর যুদ্ধ, আবার আরেক জায়গায় দেখল অনেক লোকের শুকনো লাশ পরে আছে বালির উপর, মরু ঝড়ের কবলেও পরল এবং দেখল কাফেলার লোকেরা মরুঝড়ের কবলে পরে কিভাবে সাথে সাথে বালি চাপা পরে মৃত্যু বরণ করল!!! তাদের ইচ্ছে ছিল এতে চড়ে দুনিয়া ঘুরে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে, কিন্তু টম তার পলি খালার কথা ভেবেই বাড়ির পথ ধরল। প্ল্যান ছিল চুপি চুপি পলি খালার জন্য একটা চিঠি রেখে আবার ফিরে আসবে বিশ্বভ্রমনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু খালার কাছে ধরা পরে গেলো জিমের একটু অসতর্কতার কারণে, আর ওইদিকে ফিনের ভুলের কারণে তাদের আকাশযানটাই উড়ে চলে গেল ওদের রেখে! তাদের আর বিশ্বভ্রমণ তো হলোই না, আর গায়ের লোকরাও ওদের অভিজ্ঞতাকে গাঁজাখুরি গল্প ভেবে বিশ্বাসও করল না। এই গল্পেও অনেক শিক্ষা রয়েছে টমের কথা, কাজ আর আচরণের মাঝে। টম তার সাহসিকতা আর ইচ্ছাশক্তির জোরেই এমন দারুণ একটা অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পেয়েছে। এই ছেলেটা স্কুল ফাঁকি দিয়ে একাডেমিক পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও ঠিকই তার কৌতুহলের জন্য অনেক জ্ঞানার্জন করেছে। যেমন- টম আরব্য রজনীর নীতিকথা মূলক গল্প তার বন্ধুদের শুনিয়েছে যে, বেশি লোভ করার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে, মানচিত্র সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ছিল ওর, তাই সেই যান কে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পেরেছে, অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশের কারণে কিভাবে সময়ের পার্থক্য হয় তা সে জানত, মরীচিকা কি করে হয় তাও টমের অজানা ছিল না! দুঃসাহসিক কিছু করে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ছিল টমের প্যাশন, আর এই প্যাশন থেকেই ঠিকই সে সবকিছু জেনে নিয়েছে একজন অভিযাত্রীর যা যা জানা থাকা দরকার।
![]()
