ভিক্টর হুগোর “লা মিজার‍্যাবল” – ১

এতে শেখার মতো অনেক কিছু আছে।

গল্পটার শুরু হয়েছে এক গরিব কাঠুরে জাঁ ভ্যালজাঁ কে নিয়ে যে ছিল প্রচন্ড শক্তিশালী আর পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান মানুষ যে কোনো ঝামেলায় মুষড়ে পরে না, কাঠ যত শক্তই হোক জাঁ সেটাকে চিরতে ভয় করেনা, যতক্ষনই কাজ করতে হোক না কেনো কখনোই সে কাজে একবিন্দু ফাঁকি দেয় না। শহরের লোক তাই তাকে খুঁজে বের করে, ওর কাজের কখনো অভাব হয় না। ওর এই গুনগুলো কিন্তু আমাদের অনেক কিছু শেখায়।

জাঁ ছোটবেলায় মা-বাবা কে দেখেনি, বোনের কাছেই বড় হয়েছে। হঠাৎ তার ভগ্নিপতির মৃত্যু তে সংসারের হাল ধরার জন্য, বোনের সাতটা বাচ্চার বরন- পোষনের জন্য তাকে কুঠার কাঁধে নিয়ে বেরুতে হয়। কিন্তু হঠাৎ ই এক শীতকালে তার কাঠ কাটার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবাইকে না খেয়ে দিন যাপন করতে হয়, বোনের বাচ্চাদের ক্ষুধার্ত চিৎকারে দিশা হারিয়েই জাঁ চুরি করে বসে এক রুটির দোকানে আর এই সামান্য রুটি চুরির দায়ে ওকে ১৯ বছর জেল খাটতে হয়। আসলে প্রথমে ওর কারাদন্ড হয়েছিল ৫ বছরের জন্য, কিন্তু সে বার বার পালানোর চেষ্টা করে, আর ধরা পরে, এতে মেয়াদ বাড়তে থাকে। আর এটা তো সাধারণ জেল খাটা নয়, পুরো ১৯ টা বছর জাহাজে ওকে শেকল পরা অবস্থায় দাড় বাইতে হয়েছিল!! অবশেষে ১৯ বছর পর যাও মুক্তি পেলো সে, কিন্তু যেখানেই যাচ্ছিল তাকে কয়েদি বলে সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছিল, তার না ছিল খাবার, না ছিল আশ্র‍য়। অবশেষে সৌভাগ্যক্রমে শহরের দয়ালু বিশপের বাড়িতে ওর রাজভোজ মিলে আর রাত্রি যাপনের জায়গাও হয়, কিন্তু সে তার এই আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে রূপার বাসন কোশন চুরি করে পালিয়ে যায়। আবার ওকে পুলিশ চুরির সন্দেহে বিশপের বাড়ি নিয়ে আসে, আর বিশপ ওকে অবাক করে দিয়ে বলে – উনি এই জিনিসগুলো জাঁ কে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। একথা শুনে পুলিশ ওকে ছেড়ে যায়, আর বিশপ ওর কাঁধে হাত রেখে বলে – আজ থেকে ওর আত্মা শয়তান থেকে ঈশ্বরের আশ্র‍য়ে স্থান পেয়েছে। সামান্য একটা রুটি চুরির অপরাধে একটা মানুষের জীবন থেকে ১৯ টা বছর চলে যাওয়ার মতো শাস্তি আর কি হতে পারে!!! একভাবে ভাবলে মনে হয় যে, হতদরিদ্র একটা মানুষকে এতো বড় শাস্তি দেয়া কোনোভাবেই উচিত হয় নি, আবার মনে হয়- অপরাধ যত ছোটই হোক অপরাধ, ছোট অপরাধ কে সামান্য ভেবে প্রশ্র‍য় দিলে বড় অপরাধ করতে দ্বিধা হবে না এক সময়। তবে জাঁ ভ্যালজাঁর এতো কষ্ট দেখে কোনো ভাবেই ওর এই শাস্তি টা আমি মন থেকে মানতে পারছিলাম না। আর জেল মুক্তির পর মানুষগুলোর এই অমানবিক আচরণগুলো তো আরও অসহ্য লাগছিল। মানুষ সত্যিই সুযোগ পেলে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিষ্ঠুর হতে ছাড়ে না!! আর এই যে জাঁ ওর আশ্রয় দাতার বাড়িতেই চুরি করল!! এটা কেনো করতে গেলো সে!! আসলে ১৯ বছর ওর জীবন থেকে এতো বাজে ভাবে চলে গিয়েছিল যে ওর মনুষ্যত্ব বোধের প্রায় মৃত্যু হয়েছিল, আর মুক্তির পর মানুষের নিষ্ঠুর আচরণ ওকে আরও অনিশ্চয়তার মাঝে ফেলে দিয়েছিল, ও ভালো ভাবে বাঁচতে পারবে তাই যেন ভাবতে পারছিল না৷ কিছুদিন অন্তত জীবন বাঁচিয়ে রাখতেই তাই সে চুরিটা করেছিল। তবে বিশপের এতো মধুর ব্যবহার ওকে সত্যিই স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেদিন, এরপর দেখা যাক জাঁ’র ভাগ্য তাকে কোথায় নিয়ে যায়।

(পরবর্তী অংশে একটা বিজনেস রিলেটেড ঘটনা আছে, আরেক পোস্টে লিখব)

Loading

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *