Non-Fiction : The Ant and The Grasshopper 
                 By : William Somerset Maugham

আমি যখন ছোট ছিলাম , আমাকে লা ফোনটেইনের গল্পগুলো করে পড়িয়ে , সারমর্ম ভালো করে বুঝানো হয়েছিলো । সেইগুলোর মধ্যে The Ant and The Grasshopper নামে এক গল্প ছিলো । সেই গল্পের শিক্ষা হলো , এই ত্রুটিপূর্ণ পৃথিবীতে পরিশ্রমকে পুরস্কৃত ,  অলসতাকে  তিরস্কৃত করা হয়। এই গল্পে গ্রীষ্মকালে পিঁপড়ে শীতকালের খাদ্য মজুত রাখার জন্য অনেক পরিশ্রম করে , অন্যদিকে একই সময় ঘাস ফড়িং ঘাসে বসে আনন্দে গান গাইতে থাকে । শীতকাল আসলে পিঁপড়ে আরাম করে দিন কাটিয়ে দেয় , অন্যদিকে ফড়িং অনাহারে থাকে । ফড়িং পিঁপড়ের কাছে যেয়ে খাবারের জন্য ভিক্ষে করে । তখন পিঁপড়ে তাকে চমৎকার উত্তর দেয় ।

“গ্রীষ্মের সময় তুমি কি করছিলে ”

“তোমার সময় , আমি দিন-রাত গান করেছিলাম ”

“গান করছিলে !! তাহলে এখন ড্যান্স করো । ”

আমি এইটাকে খারাপ বলতে চাচ্ছি না । কিন্তু ছেলেবেলার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারনে , কোন রকমভাবে আমি এর সাথে নিজেকে মিলাতে পারি না । এই ঘাস ফড়িঙের জন্য কিছু করুনা ছিলো । পিঁপড়েকে আমি আমার পায়ের নিচে ছাড়া আর কোথাও দেখি নাই । এই সারমর্মে আমি আমার কিছু চিন্তাধারাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।

আমি এই গল্প সম্পর্কে কোন ধরণের চিন্তা করতাম না , যদি না আমি জর্জ রামসেই কে রেস্টুরেন্ট খুলতে দেখতাম । আমি কাউকে এখন পর্যন্ত এতো বিষণ্ণ মুখে কাউকে দেখি নি । সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবী তার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়েছে । খুব কষ্ট লাগলো আমার । সন্দেহ করেছিলাম , তাঁর ভাই তাকে আবার বিপদে ফেলে দিয়েছে । আমি তাঁর কাছে গিয়ে হাত ধরলাম ।

“কেমন আছো ?”
“আমি ফুর্তির মধ্যে নেই ” সে বললো
“টম আবার ?”

সে দীর্ঘশ্বাস ফেললো ।

“হ্যাঁ , আবার , টম । ”

‘ তাকে কেন ছুড়ে ফেলে দিস, না ? তাঁর জন্য তুই তো অনেক কিছু করেছিলি । তোর তো বুঝা উচিত তাঁকে দিয়ে কিছু হবে না । ‘

আমার ধারণা , প্রত্যেক পরিবারে একটা কুলাঙ্গার থাকে । বিশ বছর ধরে টম রামসেই তাঁর জন্য অনেক যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে । ব্যবসা , দুই সন্তানের সংসার নিয়ে তাঁর ভালোই দিন কাটছিলো । সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন মানুষ ছিলেন । ভালো একটা ক্যারিয়ার হবার প্রবল সম্ভাবনা ছিলো । হঠাৎ একদিন কোন কারণ ছাড়াই বলে উঠে, তাঁর এই জগত সংসার ভালো লাগে না , কাজ কর্ম কিছুই ভালো লাগে না । সে তাকে নিয়েই থাকতে চায় , আনন্দ করতে চায় । কোন কিছু শুনতে চাইলো না । বৌ , অফিস ছেড়ে উধাও হয়ে গেলো । তাঁর কাছে কিছু টাকা ছিলো , ভালো মতন দুই বছর কাটিয়ে দিলো । তাঁর এই সব কাণ্ড কারখানা দেখে আত্মীয় স্বজনরা অনেক কষ্ট পেলো । তাঁর অবশ্যই ভালো দিন কাটছিলো । তারা জিজ্ঞেস করলো , এতো টাকা দিয়ে সে করেছে টা কি ?তারা আরও জানতে পারলো , সে নাকি টাকা ধার নিয়েছিলো । টাকা ধারের জন্য কাউকে বাদ রাখে নি । সে মানুষকে পটাতে পারতো , কিন্তু একটু বেপরোয়া টাইপের লোক ছিলো । তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে তাঁর ভালো একটা ইনকাম ছিলো । ক্যামনে ক্যামনে বন্ধু বানিয়ে ফেলতো । কিন্তু সে সব সময় একটা কথা বলতো , যে সব কাছে তোরা খরচ করছিস তা অনেক বোরিং । আরাম আয়েসের জন্য টাকা খরচ করার মজাই আলাদা । এই জন্য সে তাঁর ভাই , জর্জের উপর নির্ভর করতো । সে তাকে তেমন পাত্তা দিতো না । জর্জ অনেক সিরিয়াস লোক , এই ধরণের আনন্দ ফুর্তির ধারের কাছে দিয়ে যেতো না । জর্জ অনেক সম্মানী লোক ছিলেন । একবার দুইবার টমের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলো , আরও কিছু টাকা দিয়েছিলো যাতে সে কিছু শুরু করতে পারে । সেই টাকা দিয়ে , একটা মোটর কার আর কিছু দামী গয়না কিনেছিলো । কিন্তু যখন সে বুঝতে পারলো , তাঁর ভাই কোনদিন ঠিক পথে আসবে না , সে তাঁর দিক থেকে সরে গেলো । টম উল্টো তাঁর ভাইকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে । অনেক সুন্দর করে উকিলের মাধ্যমে তাকে ফাসিয়ে দিলো । কোনদিন বার হাতে কোকটেইল নিয়ে , ক্লাবের সামনে ট্যাক্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেয় । টম বলেছিলো , যদিও জর্জ তাকে দুইশো পাউন্ড দেয় , তাহলে পরিবার চালাতে তাঁর আপত্তি থাকবে না । আর যদি না হয় তাহলে বারে সার্ভ করা , ট্যাক্সি চালানো ভালো সম্মান জনক একটি পেশা । জর্জ টাকা দিলো ।

একদিন টম , কারাগারের কাছাকাছি গেলো । জর্জ অনেক মর্মাহত । তাঁর মান সম্মান নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলো । সত্যি , টম বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলছে । সে উন্মত্ত , স্বার্থপর হয়ে গেছে । সে আগে কখনো খারাপ কাজ করে নি , যাতে , জর্জ বেআইনি ভাবে ফেঁসে যায় । যদি বিচারে কাঠগড়ায় দাড় করানো হয় তাহলে সে আসামী হয়ে যাবে , সেটা নিশ্চিত । কিন্তু আপনি আপনার ভাইকে জেলে যেতে দিতে পারেন না । টম একজনের সাথে প্রতারণা করেছে , নাম তাঁর ক্রনশো , প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলো । সে এই ব্যাপারটা যে করেই হোক , কোর্টে নিবে । সে বলেছে , টম বদমাশ , তাকে শাস্তি দেয়া উচিত । এর কারনে , জর্জ বেকায়দায় পরে গেলো , পাঁচশো পাউন্ড দিয়ে সমস্যাটা মিটমাট করে লেগেছে । আমি এমন লোভী কখনো দেখি নি । সে শুনেছে , তারা দুইজন টম , ক্রনশো দুই জনে মিলে মন্ট কার্লোতে গিয়ে চেক দিয়ে টাকা তুললো । সেখানে আরাম আয়েশ করে দিন কাঁটালো ।

বিশ বছর ধরে , সে এই ধরণের লাফাঙ্গা জীবন যাপন করতো , জুয়া খেলতো , মেয়েদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করতো , দামী দামী রেস্টুরেন্টে যেতো , সুন্দর সুন্দর কাপড় চোপড় পড়তো । তাকে দেখতে একদম ফুল বাবুর মতন লাগতো । যদি তার বয়স ছিয়াল্লিশ বছর , আপনি তাকে পঁয়ত্রিশ বছরের নিচে ফেলতে পারবেন না । তাঁর ধনীলোকদের সাথে চলা ফেরা । আপনি জানেন তাঁর কোন যোগ্যতায় নেই , কিন্তু তাঁর জাঁকজমক জগতটাকে দারুন উপভোগ করতে পারবেন । তাঁর চাল চলন , হাঁটা চলা পুরোটাই গরীবের ঘরে সাদা হাতি পোষার মতন , দেখতেও অনেক সুদর্শন । সে আমার কাছ থেকে টাকা নেয় বলে খারাপ ভাবতাম না । তাঁর কাছে টাকা পাওনা ছিলো বলে আমি তাঁর কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকাও নেই নি । টম রামসেইকে সবাই চিনতো , আর সবাই টম রামসেইকে চিনতো । আপনি তাকে দেখতে পারবেন না কিন্তু আপনি তাকে সাহায্য না করেও থাকতে পারবেন না ।

এই গরীব জর্জ তাঁর বেয়াড়া , আকাঁড়া ভাইয়ের থেকে মাত্র এক বছরের বড় । কিন্তু দেখতে তাঁকে ষাট বছরের মতন লাগে । জীবনে কোনদিন পার্টিতে যাবার জন্য কোন ধরণের ছুটি নেই নি । প্রতিদিন সাড়ে নটায় সে অফিসে যেতো , ছয়টার আগে কোনদিন অফিস থেকে বের হতো না । সে সৎ , পরিশ্রমী । তাঁর ভালো এক স্ত্রী আছে , যার সাথে ভুলেও সে কোনদিন বেইমানী করে নি । চার মেয়ের আছে তাঁর যাদের কাছে সে সেরা একজন পিতা । সে তাঁর আয়ের তিন ভাগ অংশ জমা রেখছিলো , প্ল্যান ছিলো – পঞ্চান্ন বছর বয়সে অবসর নিয়ে গ্রামে যাবে , সেইখানে একটা বাগান করবে , আর গলফ্‌ খেলবে । জীবনে কেউ তাঁকে কোন কিছুর জন্য দোষ দিতে পারে নি । সে খুশি , তাঁর বয়স বাড়ছে , সাথে টমেরও । সে হাত হাতে ঘষে বললো ,

“সব কিছু ভালো ছিলো , যখন টম যুবক ছিলো , দেখতেও সুন্দর ছিলো । কিন্তু সে আমার চেয়ে এক বছর ছোট ছিলো । চার বছর পরে , তাঁর পঞ্চাশ হবে । সে এতো সহজ জীবন খুঁজে পাবে না , আমি তাঁকে ত্রিশ হাজার পাউন্ড দিবো যখন আমার পঞ্চাশ হবে । পঁচিশ বছর ধরে আমি বলছি , সে হয়তো নর্দমায় গিয়ে শেষ হবে । এবং আমরা দেখবো , সে এটি খুব পছন্দ করবে , কিভাবে সে ভালো কোন কাজে লাগায় ।

বেচারা জর্জ । তাঁর জন্য আমার বুক ভরা দয়া হয় । আমি অবাক হয়ে যায় । টম কি ধরণের খারপ কাজ করলো , তারপর কিভাবে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াই । জর্জের স্পষ্টতই মন খারাপ ।

” তুই কি জানিস কি হয়েছে এখন ? ” সে আমাকে বললো ।

আমি খারাপ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলাম । আমি হতবাক হয়ে যাচ্ছিলাম , টম শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে ।

” তুই কোনদিন অস্বীকার করবি না , আমি সারা জীবন ধরে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি , সৎ থাকার চেষ্টা করেছি । সবার ভালো চেয়েছি । সারাজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম , সঞ্চয়ের পর আমি আমার অবসর জীবনটা ভালো চাইতেই পারি । আমি সব সময় ধর্ম পথে থেকে কর্তব্য করার চেষ্টা করেছি । ”

“ঠিক ”

“তুই নিশ্চয় অস্বীকার করবি না , সে অলস , অযোগ্য , দুশ্চরিত্র , খারাপ লোক । যদি কোন ধরনের বিচার হতো , তাহলে সে কাজ কর্মের মধ্যে থাকতো । ”

“ঠিক”

জর্জের মুখ লাল হয়ে উঠলো ।

” কয়েক সপ্তাহ আগে , তাঁর মায়ের চেয়ে বৃদ্ধ বয়স্ক এক মহিলাকে বিয়ে করেছে । এখন সে মারা গিয়েছে , যা কিছু ছিলো তা রেখে গিয়েছে । দেড় লক্ষ পাউন্ড , এক নৌকা , লন্ডনে বাড়ি , তাঁর গ্রামে এক বাড়ি । ”

জর্জ রামসেই এক মুষ্টি ধরে টেবিলে আঘাত করলো ।

“এইটা ঠিক না , আমি তোকে বলছি এটি ঠিক না । একদম ঠিক না ”

আমি কিছুই করতে পারলাম না । জর্জের ক্রোধ দেখে আমি পেট ফেটে শুধু হাসি আসছিল । হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পরে গিয়েছি । পেট ব্যাথা করছে হাসতে হাসতে । জর্জ আমাকে কোনদিন ক্ষমা করে নি । কিন্তু টম মাঝে মাঝে আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিতো , যদিও সেটা সামান্যই , অভ্যাস বলে কথা !! কিন্তু খুব বেশি টাকা আর চাইতো না  ।

 

translated from :  THE ANT AND THE GRASSHOPPER

আরও গল্প পড়তে ক্লিক করুনঃ

প্রথম স্কুলে যাবার দিনঃ ছোট গল্প

I Have A Dream -Martin Luther King 

Tagor-Letter to Lord Chelmsford Rejecting Knighthood 

Abraham Lincoln-Gettysburg Address

Of Studies by Francis Bacon

Shooting an Elephant  

The Most Dangerous Game

A Double-Dyed Deceiver 

HEARTACHE

The Luncheon

The Gift of Magi

A MOTHER IN MANNVILLE

William Somerset Maugham :The Ant and The Grasshopper :Bangla