Fiction : Cat in the Rain
By : Ernest Hemingway
দুইজন অ্যামেরিকান একটি হোটেলে এসে দাঁড়ালো । সিঁড়ি দিয়ে তাদের চলার পথে সব মানুষগুলো অচেনা । তাদের রুম ছিলো দ্বিতীয়তলায় , সমুদ্রের দিকে মুখ করা । পাবলিক গার্ডেন এবং যুদ্ধের ভাস্কর্য দেখা যায় সেই রুম থেকে । পাবলিক গার্ডেনে বড় বড় পাম গাছ , এবং সবুজ রঙের বেঞ্চ রয়েছে ।
ভালো আবহাওয়ার সময় সেখানে চিত্রফলক দিয়ে শিল্পীরা ছবি আগে । পাম গাছ যে রাস্তা ধরে হোটেল এবং সমুদ্রের সাথে মিশে গেছে তা শিল্পীদের কাছে অনেক পছন্দের জায়গা ।
যুদ্ধের ভাস্কর্যগুলো দেখার জন্য ইতালিয়ানরা অনেকদূর থেকে ছুটে আসে । এটি ব্রোঞ্জের তৈরি , বৃষ্টির সময় ঝলমল করে এটি । বৃষ্টি হচ্ছে । পাম গাছ থেকে টুপটুপ করে বৃষ্টি গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে । পানি নড়ি পাথরের রাস্তা দিয়ে বেয়ে পুলে পড়ছে । অন্যদিকে সমুদ্রের ঢেউ তীরে আঁচড়ে পড়ছে । মোটরকারগুলো ভাস্কর্যের চত্ত্বর থেকে সরে গিয়েছিলো । এইখানে একটি ক্যাফে আছে । ক্যাফের ওয়েটার প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে স্কয়ারের দিকে তাকিয়ে আছে ।
অ্যামেরিকান স্ত্রী জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে । বাম দিকের জানালার বাইরের এক টেবিলে বৃষ্টির পানি টপটপ করে পড়ছে । সেই টেবিলের নিচে এক বিড়াল জুবুথুবু করে বসে আছে , যাতে বৃষ্টির ফোঁটা তাঁর গাঁয়ে না লাগে ।
“আমি যাচ্ছি , বিড়ালের ছানাটাকে দেখো ” অ্যামেরিকান স্ত্রী বললো ।
“আমি তা করবো ” তাঁর স্ত্রী বিছানা থেকে বললো ।
“না, আমি তাকে নিবো । বিড়ালের ছানাটাভিজে যাচ্ছে । ”
পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে শুয়ে শুয়ে স্বামী বই পড়ছিলো ।
“ভিজো না ” সে বললো ।
স্ত্রী সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো । যখন অফিস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো , হোটেলের মালিক দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানিয়েছে । তাঁর ডেস্ক অফিসের শেষ মাথায় । মালিক দেখতে লম্বা , বৃদ্ধ ।
” বৃষ্টি হচ্ছে ” স্ত্রী বললো । সে হোটেলমালিককে ভাল লাগে ।
“হ্যাঁ , অনেক খারাপ আবহাওয়া ”
মালিক ডেস্কের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলো , রুমে হাল্কা আলো । স্ত্রী তাকে পছন্দ করে । সে সিরিয়াসভাবে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করে । তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করে । অনেক আন্তরিক কাজের প্রতি । স্ত্রী বৃদ্ধের ভারী মুখ এবং বড় হাত তাঁর পছন্দ ।
তাকে দেখতে দেখতে দরজা খুলে বাইরের দিকে তাকালেন । অনেক জোরে বৃষ্টি হচ্ছে । একজন ক্যাফের রাস্তা পার হচ্ছে । মাথায় তাঁর রাবার ক্যাপ । আসার পথে বিড়ালটি হয়তো তার বাম দিকে পরবে । বোধ হয় , ছাদের নিচ দিয়ে সোজা কোথাও যাবে । দরজা সামনে এসে মহিলাটির পিছনে ছাতা মেলে ধরলো । এই মহিলাটি তাদের রুমের দেখাশুনা করে ।
“তুমি তো ভিজে যাবে । ” মহিলাটি ইটালিয়ান । অবশ্যই হোটেল মালিক তাকে পাঠিয়েছে ।
মহিলাটি তার মাথার উপর ছাতা ধরে , নুড়ি পাথরের রাস্তার উপর দিয়ে চলতে থাকলো । তাদের জানালার সামনে এসে থেমে গেল । টেবিলটি সেখানেই ছিল ।বৃষ্টির পানি পরে , টেবিলটি আরও উজ্জল সাদা হয়ে উঠলো । কিন্তু বিড়ালটা চলে গিয়েছে । হঠাৎ তা দেখে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লো । গৃহকর্মী তাকে দেখলো ।
“আপনি কি কিছু খুঁজছেন , মিসেস ? ”
“সেখানে একটি বিড়াল ছিল ” অ্যামেরিকান মহিলাটি বললো ।
“বিড়াল ?”
“হ্যাঁ , বিড়াল । ”
“বিড়াল ?” গৃহকর্মীটা হেসে দিলো । “এই বৃষ্টিতে বিড়াল ? ”
” হ্যাঁ – ” সে বললো । ” টেবিলের নিচে ছিলো । ” তারপর , আহ , আমার এইটা চাই । আমি বিড়ালের ছানা চাই ।
যখন সে ইংলিশে কথাটুকু বলছিলো , গৃহকর্মীর চেহারাটা কিছুটা শুকিয়ে গেলো ।
“চলে আসুন ” সে বললো । “আমাদের ভিতরে যাওয়া উচিত । আপনি ভিজে যাবেন ”
“আমারও তা মনে হয় । ” অ্যামেরিকান মেয়েটা বললো ।
সেই নুড়ি পাথরের রাস্তা বেয়ে তারা দরজার কাছে আসলো । গৃহকর্মী ছাতা বন্ধ করার জন্য বাইরে দাঁড়ালেন । যখন অ্যামেরিকান মহিলাটি অফিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো , মালিক মাথা নত করলেন । মেয়েটাকে দেখে মনে হলো ছোটখাট কোন কারনে কষ্ট পেয়েছে । তার মুখ গোমড়া মালিকের মনটাও খারাপ হয়ে গেলো । একই সময়ে এটিকে সে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলো । ক্ষণস্থায়ী হলেও মেয়েটির কাছে এটির গুরত্ব অনেক ছিল । সে সিঁড়ি দিয়ে উঠে তার রুমের দরজা খুললো ।
জর্জ বিছানায় বই পড়ছে ।
“তুমি কি বিড়ালটাকে দেখেছো ? ” বই নামিয়ে সে জিজ্ঞেস করলো
“চলে গেছে ”
“আশ্চর্য , কোথায় গেলো ?” বই পড়তে পড়তে সে জিজ্ঞেস করলো ।
মেয়েটি বিছানায় বসে পড়লো ।
“আমার এটি চাই ” সে বললো । “জানি না আমি কেন চাই । তাকে দেখে কষ্ট লাগছিলো । বৃষ্টির মধ্যে একটি বিড়াল ভিজেছে , এটি নিশ্চয় মজার কোন কথা নয় । ”
জর্জ আবার পড়া শুরু করলো ।
মেয়েটি ড্রেসিং টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডগ্লাসের আয়না দিয়ে তাকে দেখছে । মুখের এক পাশ , আরেক পাশ করে ভালোভাবে তার চেহেরা দেখছে । তারপর কপাল ,ঘাড় দেখছে ,
“তোমার কি মনে হয় , যদি আমি আমার চুল বাড়াতে দেই ?”
জর্জের খুব একটা মন নেই সেই কথায় । তারপরও মনে রাখতে তার পিছনে ঘাড়ের দিকে তাকালো ।
“যেমনে আছে তেমনে ভাল লাগছে । ”
“আমার ভাল লাগছে না ” মেয়েটি বললো । “কেমন জানি ছেলে ছেলে লাগে । ”
জর্জ তার জায়গায় একটু নড়েচড়ে বসলো । কথা শুরু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত সে তার দিকে তাকায় নি ।
“তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে ” সে বললো ।
মেয়েটি আয়না রেখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো । আস্তে আস্তে অন্ধকার হচ্ছে ।
” চিন্তা করছি , আমি সোজা লম্বা চুল করবো , তারপর একটা খোপা করবো । ” সে বললো । “আমি একটা বিড়াল ছানা চাই সে আমার কোলে থাকবে। আর যখন গুতাবো , তখন গড়গড় আওয়াজ করবে । ”
“তাই ?? ” জর্জ বিছানা থেকে বললো ।
“আর আমি টেবিলে রুপোর থালায় খেতে চাই , একটা মোমবাতি দরকার । আমি এইগুলো এই বসন্তে চাই । আমি আয়নার সামনে সারিয়ে চুল আঁচড়াতে চাই । আমি একটা বিড়াল ছানা আর কিছু নতুন কাপড় চাই । ”
“আহ , চুপ থাকো । আমি কিছু পড়ছি । ” জর্জ তা বলে , আবার পড়া শুরু করলো ।
তার স্ত্রী জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে । এখনো অন্ধকার , পাম গাছে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে ।
“যে ভাবেই হোক , আমার একটা বিড়াল চাই । ” সে বললো । “আমি বিড়াল চাই । আমার বিড়াল এখনই দরকার । আমার যদি বড় চুল না করতে পারি বা কোন মজা না হয় , তাহলে আমি বিড়াল তো রাখতেই পারি ”
জর্জ সেদিকে কোন খেয়াল নেই। সে বই পড়ছে । তার স্ত্রী বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল , ঠিক সেই সময় স্কয়ারে একটা লাইটের আলো দেখা গেলো ।
কেউ একজন দরজা নক করছে ।
“আসছি ” জর্জ বই থেকে চোখ তুলে বললো ।
দরজার সামনে গৃহকর্মী দাঁড়িয়ে আছে । তার হাতে এক খাঁচা ।সেই খাঁচার মধ্যে এক বিড়াল /
“এক্সকিউজ মি । ” সে বললো । “মালিক মিসেসকে এটি দিতে বলেছে । ”
source link : Cat in the Rain
আরও গল্প পড়তে ক্লিক করুনঃ
Games at Twilight by Anita Desai
প্রথম স্কুলে যাবার দিনঃ ছোট গল্প
The Garden Party by KATHERINE MANSFIELD
I Have A Dream -Martin Luther King
Tagor-Letter to Lord Chelmsford Rejecting Knighthood
Abraham Lincoln-Gettysburg Address
The Most Dangerous Game
![]()
